নির্বাচনকে সামনে রেখে মানুষকে ধোঁকা দিতে চাইছে ইউনুস! সম্প্রতি আগামী বছর ২০২৬ এর এপ্রিলের প্রথমার্ধে বাংলাদেশের নির্বাচন ঘোষণা করেছেন প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস। কিন্তু এই ঘোষণার আগে থেকেই বিএনপির অবস্থান স্পষ্ট চলতি বছর ডিসেম্বরে নির্বাচনের দাবি দলটির। আবার সেদেশের সেনার তরফেও স্পষ্ট দাবি ডিসেম্বরে নির্বাচন এবং জানুয়ারির শুরুতেই নতুন সরকার স্থাপন। পাশাপাশি বাংলাদেশে সদ্য নির্বাসিত আওয়ামীলীগের কার্যকলাপ বন্ধ থাকলেও এবার ইউনুসের এই ঘোষণায় দলটির দাবি, নিজের ক্ষমতা ধরে রাখতে নির্বাচণে বিলম্ব করছে প্রধান উপদেষ্টা, নির্বাচনকে সামনে রেখে মানুষকে ধোঁকা দিতে চাইছে ইউনুস।
প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণা অনুযায়ী এপ্রিল মাসে নির্বাচন করা অসম্ভব যেমন তাকাবি করেছিল বিএনপি এবার একই কথা শোনা গেল আওয়ামী লীগের শীর্ষ এক নেতৃত্বের মুখেও। বিএনপির শুরু থেকে জানিয়ে এসেছে এপ্রিলে কালবৈশাখীর কারণে বাংলাদেশ জুড়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং তার ফলে চারিদিকে বিধ্বস্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় আর সেই সময় ওই পরিবেশ পরিস্থিতিতে দেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন করা কোনভাবেই সম্ভব হবে না। আর এই একই দাবি কলকাতায় অবস্থানরত আওয়ামী লীগের এক প্রাক্তন মন্ত্রীর। অর্থাৎ আওয়ামী লীগের তরফে স্পষ্ট ভাবে জানানো হচ্ছে, নির্বাচন করাতে হবে ডিসেম্বরের মধ্যেই অর্থাৎ শীতকাল থাকাকালীনই দেশে তো নির্বাচনটি সম্পন্ন করতে হবে। এবং পূর্ববর্তী সময়েও এই নিয়মতান্ত্রিক উপায়েই বাংলাদেশে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে ২০২৪ এর নির্বাচন ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এ সমস্ত দাবী সামনে আসতেই বোঝা যাচ্ছে বিএনপি সহ আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশের সিংহভাগ রাজনৈতিক দেশে দ্রুত অর্থাৎ ডিসেম্বরে নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছে। সেখানে প্রধান ও প্রতিষ্ঠা বাংলাদেশের সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে শুধুমাত্র জামাতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি অর্থাৎ ছাত্রদের রাজনীতি দলের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমেই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন। কারণ একমাত্র জামাত ই ইসলামি ও জাতীয় নাগরিক পার্টি এই দুটি দলই দেশে নির্বাচন চায়না। অর্থাৎ এখন নির্বাচন নিয়ে দেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক দলগুলির কি মতামত কি দাবি সবটাই প্রকাশ্য এসেছে।
কিন্তু এবার বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে ভারত তার মতামত স্পষ্ট করেছেন, বাংলাদেশের নির্বাচন সংক্রান্ত রিপোর্ট দাবি করা হচ্ছে, এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র প্রধান উপদেষ্টা ক্ষমতায় থাকার জন্য সময় দীর্ঘ করার একটি কৌশল। অর্থাৎ নির্বাচন বিলম্বিত করে এপ্রিলে নির্বাচনের ঘোষণা করে প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুস বাংলাদেশের তার ক্ষমতা বা অবস্থানটিকে পাকাপাকি করার চেষ্টা চালাচ্ছে। পাশাপাশি কোন প্রস্তাবই যে সংস্কার মেনে করবে না অন্তর্বর্তী সরকার। এবং ইউনুসের ঘনিষ্ঠ মহল দাবি করছে, পরবর্তীতে বাংলাদেশে যেই সরকারি আসুক, তারা মোহাম্মদ ইউসকেই রাষ্ট্রপতির পদে আসীন করবে, এই তথ্য সামনে আনে ভারত।
উল্লেখ্য,বিএনপির দাবি মেনে অন্তর্ভুক্তিকলীন সরকারের তরফে প্রধান উপদেষ্টা ডিসেম্বরে নির্বাচনের সুপারিশ দেননি এর ফলে বিএনপি পালটা কি পদক্ষেপ নেয় সেই বিষয়ে মুখ খুলতে নারাজ বিএনপি’র শীর্ষ নেতারা। সূত্রের খবর বিএনপির তরফে প্রধান উপদেষ্টার এপ্রিলে নির্বাচনের সুপারিশের বিরোধিতা করা হলেও অন্যান্য রাজনৈতিক দল যেমন জামাত ও এন সি পি প্রধান উপদেষ্টার নির্বাচনের এই সিদ্ধান্তকে সাদরে আমন্ত্রণ জানিয়েছে তারা। আবার কিছু রাজনৈতিক দলের কাছে এটি স্বস্তির বিষয় যে দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচন এর সময়সীমার একটি আভাস দিলেন।
উল্লেখ্য বাংলাদেশের বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন দাবি করলেও জামায়াত ও এনসিপির অবস্থান বরাবরই ছিল ভিন্ন।
জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এপ্রিলে নির্বাচন হতে পারে এমন মত দেওয়া হয়েছিলো। আবার এনসিপি নির্বাচনের আগে সংস্কার ও বিচারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা জানিয়েছিল।
অর্থাৎ সেনাপ্রধানের পরামর্শ কিংবা বিএনপিসহ অধিকাংশ দলগুলোর দাবিকে উপেক্ষা করে সরকার জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির পরামর্শকেই নির্বাচনের জন্য গ্রহণ করেছে বলেই অনেকে মনে করছেন। পাশাপাশি কেউ মনে করা হচ্ছে নির্বাচন ডিসেম্বরের মধ্যে সম্ভব না হওয়ার পিছনে সুনির্দিষ্ট কোন কারণ দর্শাতে ব্যর্থ হয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। অর্থাৎ এখন বিশেষ কোনো দলের দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুস দাবি বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সেনা তারা হয়তো হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকবে না তাদের দাবি অনুযায়ী ডিসেম্বরে নির্বাচন করাতে এবার সেনা খুব শীঘ্রই হয়তো মোহাম্মদ ইউনুছকে সরিয়ে নতুন অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করে এই সরকারের দ্বারা আগামী তিন মাসের মধ্যে অর্থাৎ নভেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশে নির্বাচন করে স্থায়ী সরকার স্থাপন করবে বাংলাদেশ সেনা এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে এই সম্ভাবনাটা আরও কিছুটা জোড়ালো হয়েছে কারণ সম্প্রতি একটি অসমর্থিত সূত্রে খবর, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উচ্চ জামানের সঙ্গে কথা হয়েছে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। এবং শেখ হাসিনা তিনি সেনাপ্রধানকে সরাসরি জানিয়েছেন বাংলাদেশ সেনার ওপর ভরসা রয়েছে তার। হাসিনা আশাবাদী দেশকে শান্তি ও স্থিতিশীলতায় এগিয়ে নিয়ে যাবে সেনাপ্রধান ওয়াকার। এমনকি ভারতের সমর্থন রয়েছে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর উপর। ভারতের তরফে জানানো হয়েছে বাংলাদেশের সুষ্ঠু নির্বাচনে সেনা নিজের অ্যাকশন শুরু করলে ভারত সর্বদা পাশে থাকবে সে দেশের সেনার। অর্থাৎ অন্তবর্তী সরকারের এই নির্বাচনের কৌশলকে প্রতিহত করতে আসলে নেমেছে ভারতের সমর্থনে বাংলাদেশ সেনা।












Discussion about this post