ভারতের নামে দোষ চাপিয়ে নিজের দেশই বিক্রির পরিকল্পনা করেছিলেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। কিন্তু তা ধরে ফেলেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। প্রতি পদে ভারতের সঙ্গে পায়ে পা লাগিয়ে ঝামেলা পাকানোর যে চেষ্টা করেছিলেন মুহাম্মদ ইউনূস, তাতে ছিল এক গভীর চক্রান্ত। কি সেই চক্রান্ত, কিভাবেই তা ধরে ফেললেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান?
বাংলাদেশের দক্ষিণপ্রান্তে এক অতি মনোরম পর্যটন কেন্দ্র সেন্ট মার্টিন দ্বীপ। বঙ্গোপসাগরের বূকে মাত্র ৮ বর্গ কিলোমিটার এই প্রবাল দ্বীপ, যা কক্সবাজার থেকে ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। জনসংখ্যা প্রায় ৮ হাজার। এই দ্বীপের বাসিন্দাদের মূল জীবীকা মাছ ধরা, কিন্তু আয়ের একটা বড় অংশ আসত পর্যটন থেকে। তবে বিগত কয়েক মাসে নানা আছিলায় সেই দ্বীপ থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিয়ে আসছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। প্রশাসনের পরিকল্পনা জনমানবশূন্য করা সেন্ট মার্টিন দ্বীপকে। একদিকে নাফ নদীর মোহনা, অন্যদিকে মিয়ানমার সীমান্তে আরাকান আর্মির দখল। আবার কক্সবাজারে পা রেখেছিল মার্কিন সেনাবাহিনীর বিশেষ দল। যা নিয়ে কম হইচই হয়নি বাংলাদেশের অভ্যন্তরেই। এমনকি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তরফেও বলা হয়েছিল, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে তাঁরা শেষ বিন্দু পর্যন্ত লড়াই চালাবে। কিন্তু সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার প্রশ্ন আসছে কেন?
কারণটা মুহাম্মদ ইউনূস নিজে এবং তাঁর অন্যতম সহযোগী ডঃ খলিলুর রহমান। এতদিনে পরিস্কার, নোবেলজয়ী এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূস মার্কিন ডিপ স্টেটের এক গভীর ষড়ষন্ত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশের ক্ষমতায় এসে বসেছিলেন। তাঁকে ওই প্রধান উপদেষ্টা পদে বসানোর পিছনে ছিল এই সেন্ট মার্টিন দ্বীপের দখল। যা বিগত কয়েক দশক ধরে চেষ্টা করে যাচ্ছিল মার্কিন প্রশাসন। কিন্তু শেখ হাসিনা তা দিতে অস্বীকার করেছিলেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বহু দশকের প্রচেষ্টা বাংলাদেশের দক্ষিণপ্রান্তে সেন্ট মার্টিন দ্বীপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মান করার। যাতে বঙ্গোপসগর এবং ভারত মহাসাগরীয় এলাকায় চিনের ওপর নজরদারী চালানো যায়। পাশাপাশি মিয়ানমার, বাংলাদেশ ও ভারতের কিছু অংশ নিয়ে একটি খ্রিষ্টান রাষ্ট্র তৈরির প্রচেষ্টাও করে আসছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ফলে মার্কিন ডিপ স্টেটের পরিকল্পনায় এবং চক্রান্তে বাংলাদেশে শুরু হয় হাসিনা বিরোধী আন্দোলন। যা সুপরিকল্পিতভাবে গণঅভ্যুত্থানের রূপ দেওয়া হয়। ক্ষমতায় আসেন মুহাম্মদ ইউনূস। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদে জো বাইডেনের হার এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয় কিছুটা সময় ধাক্কা খায় এই প্রচেষ্টা। কিন্তু ডিপ স্টেট আশা ছাড়েনি এবং কক্সবাজারে মিয়ানমারের রাখাইন করিডোরের আছিলায় ফের মার্কিন ঘাঁটি নির্মানের পরিকল্পনা করে ট্রাম্প প্রশাসন। এতে মুহাম্মদ ইউনূসকে সাহায্য করেন খলিলুর রহমান, যাকে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বানানো হয়েছে।
কিন্তু সমস্যা হয় সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান বেঁকে বসায়। তিনি ইউনূস ও খলিলুরের পরিকল্পনা ধরে ফেলেন এবং করিডোরের প্রস্তাব নাকচ করে দেন। ফলে নানামুখী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়ে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস মে মাসের গোড়ার দিকে তাঁর সমস্ত ঘরোয়া সমস্যা থেকে মনোযোগ সরাতে এক ভয়াবহ ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা করেন। গোয়েন্দা সূত্রের রিপোর্ট, তাঁর পরিকল্পনা ছিল, ভারতের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ বাঁধিয়ে বাংলাদেশের জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেবেন। তিনি জানতেন সেই সংঘর্ষ ক্ষণস্থায়ী হবে, তবুও এর প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হতো। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং সরকারের শীর্ষ সূত্রের মতে, মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং নবগঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টির কয়েকজন নেতার সাথে পরামর্শ করে এই পরিকল্পনাটি তৈরি করেছিলেন। ভারত যখন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন সিন্দুর’ শুরু করেছিল, তখন ইউনূস বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান এবং সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার-মাস্টার জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ ফয়জুর রহমানের সাথে ঘনিষ্ঠ পরামর্শে এই পরিকল্পনা রচনা করেন। লেফটেন্যান্ট জেনারেল রহমান, যিনি পাকিস্তানের আইএসআই-এর ঘনিষ্ঠ হিসেবেও পরিচিত এবং জেনারেল ওয়াকারের সঙ্গে তাঁর আদায় কাঁচকলায় সম্পর্ক।
মুহাম্মদ ইউনূসদের পরিকল্পনা ছিল, যেহেতু ভারতের মনোযোগ পাকিস্তানের দিকে কেন্দ্রীভূত তাই পূর্ব প্রান্তের বাংলাদেশ সীমান্তে উস্কানির দিকে খুব বেশি মনোযোগ দিতে পারবে না ভারতীয় সেনা। পরিকল্পনা অনুযায়ী বর্ডার গার্ডস বাংলাদেশ বা বিজিবি-কে প্রকাশ্য আক্রমণাত্মক অবস্থান গ্রহণ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া নিয়ে বিজিবি ক্রমাগত বাঁধা সৃষ্টি করে গিয়েছে আপনাদের নিশ্চই মনে আছে। অনেকটা পায়ে পা বাড়িয়ে ঝামেলা পাকানোর মতো। অনেক জায়গায় বিএসএফ সীমান্ত বেড়া দেওয়ার কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছিল। সূত্রের খবর, এই খবর পেয়েই বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান বিজিপি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীকে সীমান্ত বাহিনীর যুদ্ধাভিযানমূলক অবস্থান ত্যাগ করতে নির্দেশ দেন এবং তাঁর কাছে জবাবদিহি চান। বিজিবি প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানকে বলেছিলেন যে তিনি প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’ থেকে মৌখিক নির্দেশনা পেয়েছেন তিনি। যা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সহ-দফতর হিসেবে কাজ করে। পরিস্থিতির গুরুত্ব এবং চক্রান্তের গন্ধ পেয়েই জেনারেল ওয়াকার বিজিবি প্রধানকে নরম অবস্থানে যাওয়ার নির্দেশ দেন এবং ফ্ল্যাগ মিটিংয়ের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের পরামর্শ দেন। ফলে ইউনূসের পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়। কিন্তু এখন ভারত যা করছে, তাতে মুহাম্মদ ইউনূসের হাতের বাইরে চলে গিয়েছে পরিস্থিতি। কারণ, না বলে ক্রমাগত পুশ ব্যাক শুরু করেছে ভারত। যা এখন মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারের অন্যতম মাথাব্যাথার কারণ।












Discussion about this post