ঘরে বাইরে প্রবল চাপে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস। কিন্তু তারপরও ভারত বিরোধিতা কমছে না। হাসিনার বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নামে সমালোচনা শোনা গেল ইউনূসের গলায়। শেখ হাসিনা যেন অনলাইনে বক্তব্য না রাখেন। লন্ডন থেকে এমন মন্তব্যই শোনা গেল। কারণ তিনি জানান, শেখ হাসিনার বক্তব্যের জন্য বাংলাদেশে ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু নরেন্দ্র মোদী নাকি সেটা কর্ণপাত করছেন না। ইউনূস আরও বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দেখা হওয়া মাত্রই জানিয়েছিলাম, ভারত শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়েছে বা তাকে আথিয়তা করতে চান, সেটা নিয়ে বলার কিছু নেই। কিন্তু যাতে কোনওরকমভাবে বক্তব্য না রাখেন বাংলাদশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে। দয়া করে সাহায্য করুন। বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে যেভাবে কথা বলছেন, সেইভাবে যেন কথা না বলেন হাসিনা। আর এর পরিপ্রেক্ষিতে নরেন্দ্র মোদীর জবাবের কথাও তুলে ধরেন মহম্মদ ইউনূস। মোদী নাকি বলেছিলেন্জ এটা সোশ্যাল মিডিয়া। এটাকে আমরা কন্ট্রোল করতে পারি না। ভারত থেকে বাংলাদেশে যা আশা করেছিল, সেটা করতে পারছে কিনা জানতে চাইলে ইউনূস জানান, তিনি হাসিনার প্রত্যপনের জন্য ভারতকে চিঠি দেন। আইনি প্রক্রিয়া চলছে। ইতিমধ্যে ট্রাইব্যুনালে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এমনকি তারা শেখ হাসিনাকে চিঠিও পাঠিয়েছে। আমরা চাই আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমস্ত কিছু হোক। চ্যাথাম হাউসে কি বলেছেন মহম্মদ ইউনূস, শুনুন
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে কি কথা হয়েছে, অবলীলায় একটি ইন্টারন্যাশনাল প্লাটফর্মে বসে বলে গেলেন। পাশাপাশি সমালোচনা করতেও ছাড়লেন না তিনি। এদিকে লন্ডন সফরে যাওয়ার পর থেকেই কখনও তিনি বিক্ষোভের মুখে পড়ছেন আবার কখনও তার প্রেস সচিব শফিকুল আলমও মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়ছেন। হোটেল থেকে তিনি নাকি বের হতে পারছেন না বলে খবর। অন্তত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ছবি থেকে সেটা স্পষ্ট নজরে আসছে। একদিকে ইউনূসের বিরুদ্ধে পোস্টার লক্ষ্য করা যাচ্ছে, অন্যদিকে হাসিনার পক্ষে পোস্টার নজরে আসছে। পাশাপাশি হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ প্রভুর মুক্তির দাবিতে ফেস্টুন দেখা যাচ্ছে। খবর পাওয়া যাচ্ছে, প্রধান উপদেষ্টা যে হোটেলে রয়েছেন, সেখানে শত শত মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গিয়েছে। শুধু তাই নয়, বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে তারা। এছাড়াও লন্ডনের বিভিন্ন জায়গাতে প্রতিবাদ বিক্ষিপ্তকারে লক্ষ্য করা গিয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার লন্ডন সফরের আগেই মনে করা হচ্ছিল, তিনি বিক্ষোভের মুখে পড়তে পারেন। তার কারণ বাংলাদেশের বাইরে আওয়ামী লীগের শক্তিশালী সমর্থক ও নেতা রয়েছেন লন্ডনে। আর সেখানেই আওয়ামী লীগের প্রতিরোধের মুখেই পড়লেন তিনি। তারা এককাট্টা হয়ে এই প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে বলে খবর। এটি একটি দৃষ্টান্ত বাংলাদেশের ইতিহাসে। কারণ বিদেশের মাটিতে কোনও রাষ্ট্রপ্রধানকে এভাবে কোনও বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়নি সম্ভবত। বলছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।এমনিতেই বাংলাদেশের অন্দরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরোধী শক্তিগুলি মাথাচারা দিয়েছে। বিক্ষোভ, আন্দোলনে মুখরিত দেশের রাজপথ। এবার দেশ ছাড়িয়ে বিদেশের মাটিতেও বিক্ষোভের মুখে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস। এমনিতেই বাংলাদেশের অন্দরে নির্বাচন নিয়ে টানাপোড়েন চলছে সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে। বিএনপি চাইছে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন হোক। এদিকে সরকার বলছে সংস্কার করে পরের বছর জুনের মধ্যে নির্বাচন হবে। তবে লন্ডনে বসে প্রধান উপদেষ্টার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে সমালোচনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার ভারত থেকে কী প্রতিক্রিয়া আসে!












Discussion about this post