বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস লন্ডন সফরে যেতেই শুধু বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে। কখনও তিনি বিক্ষোভের মুখে পড়ছেন, কখনও আবার দেখা যাচ্ছে তার প্রেস সচিব বিক্ষোভের মুখে পড়ছেন। আবার লন্ডনের চ্যথাম হাউসে শেখ হাসিনার বিরোধিতা করতে গিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সমালোচনা করেন। অর্থাৎ গত নয় মাসে বিভিন্ন সময় নানা সাক্ষাৎকারে যে যে মন্তব্যগুলি তিনি করেছেন, সেগুলি ফের বললেন। তেমন কোনও নতুন কথা শোনা গেল না ইউনূসের গলায়। তবে একটি ইন্টারন্যাশনাল প্লাটফর্মে বসে যেভাবে ভারত এবং নরেন্দ্র মোদীকে নিয়ে কথা বললেন, তাতে সমালোচনার ঝড় উঠেছে রাজনৈতিক মহলে। বোঝাই গেল, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করেন তিনি। এছাড়াও শেখ হাসিনা আতঙ্ক যে ইউনূসকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে, সেটাও স্পষ্ট হল।
জানা যাচ্ছে, যুক্তরাজ্যের নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউসের রয়েল ইনস্টিটিউট অফ ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স আয়োজিত সংলাপে অংশ নেন মহম্মদ ইউনূস। সেখানে তিনি মূলত পাঁচটি বিষয়ের উপর কথা বলেছেন। বাকি কথাগুলি সবই তার পুরনো বক্তব্য। তিনি বলেছেন, সংস্কার হবে, নির্বাচন হবে, সংবিধান পরিবর্তন হবে, আইনশৃঙ্খলার বদল আসবে এবং সর্বশেষ নির্বাচনের কথা বলে তিনি। পাশাপাশি বিচারের কথাও শোনা যায় তার গলায়। মহম্মদ ইউস কে প্রশ্ন করা হয়েছিল, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক কিভাবে ভালো করা যায়? অর্থাৎ ভারতকে ঘিরেই প্রশ্ন ছিল, সেরা স্পষ্ট। সেখানে তিনি বলেন, ভারতের সংবাদ মাধ্যমের জন্য ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারেননি। কিন্তু আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মহম্মদ ইউনূস মসনদে বসার প্রথম থেকেই যে সমস্ত বক্তব্যগুলি রেখেছেন, সেগুলি উস্কানিমূলক। এমনকি ভারতের সেভেন সিস্টার্স নিয়ে একাধিক মন্তব্য করেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, তার উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্যরাও একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্য করলেও, সেটা থামান নিয়ে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা। এমনকি প্রথম উপদেষ্টা চীনে গিয়ে ল্যান্ড লক বলে ভারতের সেভেন সিস্টার্স প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখেন। আর তারই পরিপ্রেক্ষিতে ভারত বিভিন্ন সময় সাংবাদিক সম্মেলন করে পুরো বিষয়টি বিবরণ দিয়ে তার যথাযথ উত্তর দিয়েছে মাত্র। অর্থাৎ লন্ডনে গিয়ে নানা বিতর্ককে ধামাচাপা দিতে ভারতের বিরুদ্ধে মন্তব্য করে খবরের শিরোনাম হতে চাইছেন ইউনূস। বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এছাড়াও তাৎপর্যপূর্ণভাবে শেখ হাসিনা যাতে বাংলাদেশের কোনও বিষয়ে বক্তব্য না রাখে, সেটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে আবেদন করেন। সেই কথা তুলে ধরেন মহম্মদ ইউনূস। এমনকি এর পরিপ্রেক্ষিতে নরেন্দ্র মোদী কি জবাব দিয়েছিলেন, সেটার বক্তব্য তুলে ধরেন তিনি। মোদী জানিয়েছিলেন, এটি সোশ্যাল মিডিয়া। এটাকে আমরা কন্ট্রোল করতে পারি না। এক্ষেত্রে বহু ভারতীয় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শেখ হাসিনা হলেও ভারতের অতিথি। তাকে তো জেলে বন্দি করে রাখা হয়নি। তাহলে তার বক্তব্যকে কেন আটকে রাখা হবে? ভারত যেটা করেছে বা করছে, সেটা আথিতীয়তা। এমনকি ইউনূস দাবি করেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী সহযোগিতা করেননি। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, কেন সহযোগিতা করবে ভারত? ভারতের বিরুদ্ধে এত বিদ্বেষ, এতো বিরোধিতা, ভারত বিরোধী স্লোগান এমনকি একটা অংশকে ভারত থেকে ছেঁটে দেওয়ার পরিকল্পনা…. তারপরও ভারত সংযমের পরিচয় দিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ তার মর্যাদা দেয়নি। এমনকি বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডির বাড়ি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে ইউনুস জানান, সেই সময় পুলিশ নিজেদের বৈধতা হারিয়েছিল। এমনকি পুলিশকে বিশ্বাস করছিল না জনগণ। সেই কারণেই পুলিশ নাকি বাধা দেয়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মহাম্মদ ইউনুস কতটা ব্যর্থ প্রশাসক হলে এই কথাটা বলতে পারেন! দেশকে রক্ষা করা এবং দেশের স্মৃতিসৌধকে রক্ষা করা সে দেশের বর্তমান প্রশাসকেরই দায়িত্ব। কিন্তু সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে কত রকম অজুহাত দিতে পারেন, সেটা এদিক লন্ডনের চ্যাথাম হাউসে ইউনূসের সাক্ষাৎকার দেখে বোঝা গেল।












Discussion about this post