‘তারেক রহমান একজন ক্রিমিনাল!’ ৩১ মে বাংলাদেশের নির্বাচন ইস্যুতে তারেক রহমানের সঙ্গে ফোনালাপ শেষে এমনই মন্তব্য করেছিলেন প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুস। আর এই ঘটনা ঠিক এক সপ্তাহের মধ্যেই শোনা গিয়েছিল প্রধান উপদেষ্টা লন্ডন সফরে যাচ্ছেন। আর সেই সফরে তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি। হঠাৎ কি এমন ঘটল যে এই স্বল্প সময়ের মধ্যে এই ক্রিমিনাল তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের জন্য তাকে লন্ডন পাড়ি দিতে হলো? মোহাম্মদ ইউনূসের এই লন্ডন সফরকে কেন্দ্র করে বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না।
১০ মাসের শাসনকালে ১১তম বিদেশ সফর করলেন বাংলাদেশ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুস। বর্তমানে লন্ডনেই রয়েছেন ইউনুস। কিন্তু এই সফরের কারণ হিসেবে মোহাম্মদ ইউনুস যে কারণগুলি সামনে এনেছিলেন সেগুলির বেশির ভাগটাই অনিশ্চয়তায় রয়েছে। আর এই মুহূর্তে এই সফরে একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে ইউনূসের বৈঠক। আবার এই সফরকালেই লন্ডনের চ্যাথাম হাউসে প্রশ্নোত্তর পর্বে বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের বিরুদ্ধে বেশ কিছু আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা। বাংলাদেশের জনগণের একটি অংশ দুর্নীতিবাজ। কিন্তু যে সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন প্রায়শই বিদেশ সফর করেন অর্থাৎ দেশের মানুষের জন্য কোন অবদান রাখেন না মানুষের সুখে দুখে পাশে থাকে না সেই সরকারের মুখে এমন মন্তব্য সত্যিই আপত্তিকর। দেশের মানুষকে দুর্নীতিগ্রস্থ প্রমাণ করতে মরিয়া মোহাম্মদ ইউনুস। কিন্তু তিনি নিজেই রাষ্ট্রীয় সফরের নামে বিপুল পরিমাণে সরকারি অর্থ খরচ করে লন্ডনে পাড়ি দিয়েছেন শুধুমাত্র তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করতে। আর এই বৈঠকে ঘিরে বিভিন্ন মহলের শুরু হয়েছে আলোচনা।
উল্লেখ্য আজ শুক্রবার দুই নেতা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুস ও বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বৈঠক শুরু হয়। আরে বৈঠক শুরু হতেই জল্পনা আরো কিছুটা উস্কে গিয়েছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক নির্বাচন-সংস্কারসহ চলমান রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ জনগণ সকলেই। নানা ইস্যুতে বিএনপি ও অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যকার উত্তেজনা যখন চরমে। এই আবহে প্রধান উপদেষ্টা ও বিএনপির শীর্ষ নেতার এমন একটি বৈঠক আশাবাদী করে তুলছে রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে বাংলাদেশের নাগরিকদের। ইতিমধ্যেই এই বৈঠকে কোন কোন বিষয়ে প্রাধান্য পেতে পারে সেই বিষয়ে বিএনপি স্থায়ী কমিটির তরফ থেকে একটি প্রাথমিক ধারণা দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম নির্বাচন সময়কাল ইস্যু। প্রধান উপদেষ্টা ঈদুল আজহার আগের দিন জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে আগামী বছরের এপ্রিলের প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচনের যে ঘোষণা দিয়েছেন, লন্ডন বৈঠকে বিএনপির পক্ষ থেকে সে সময়সীমা পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ জানানো হবে। এক্ষেত্রে বিএনপি ডিসেম্বরের আগে নির্বাচনের দাবি থেকে কিছুটা সরে আসবে, যাতে সরকার আরেকটু এগিয়ে আসে। বিএনপি মনে করে, এপ্রিল মাস ভোটের জন্য উপযোগী সময় নয়। কারণ, এই সময়ে প্রচণ্ড গরম আবহাওয়া থাকে, ঝড়বৃষ্টির আশঙ্কা থাকে। তার আগে রোজা ও ঈদুল ফিতর। এমন সময়ে ভোট করতে গেলে রমজান মাসেও নির্বাচনি প্রচারণা চালাতে হবে। তাই বিএনপি আশা করে, সরকার ভোটের সময় এগিয়ে আনার বিষয়টি বিবেচনায় নেবে। তবে সরকার এপ্রিলে অনড় থাকলে বিএনপির পক্ষে মানা কঠিন হবে। এখন দেখার এই বৈঠক থেকে কোন কোন বিষয়গুলি প্রাধান্য পায়।












Discussion about this post