মুহাম্মদ ইউনূস লন্ডন সফর করছেন সরকারি টাকায়, কিন্তু তাঁর এটা ব্যক্তিগত সফর বললেই ভালো হয়। বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা পদে বসার পর তিনি বিগত দশ মাসে তিনি এগারোটা বিদেশ সফর করেছেন। যার মধ্যে একটি-দুটি নিশ্চিত ভাবে সরকারি সফর ছিল। যা তিনি করেছিলেন গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে নিউইয়র্কে জাতি সংঘের সাধারণ সভায় উপস্থিত থেকে। আর একটি সফর ছিল চলতি বছরের মার্চ মাসে চিনে, যা বেজিং থেকেই আমন্ত্রিত হয়েই গিয়েছিলেন। এই দুটি সফর তিনি বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে গিয়েছিলেন। বাকি সবগুলো তাঁর ব্যক্তিগত সফর। তবে এগারোটা বিদেশ সফরই তিনি করেছেন সরকারি টাকায়। কাড়ি কাড়ি অর্থ সরকারি কোষাগার থেকে খরচ করে একটা বড় প্রতিনিধি দল নিয়ে তিনি বিদেশ সফর করেন। এবারও যেমন করলেন।
এই মুহূর্তে লন্ডনে রয়েছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি ব্রিটেনের রাজার থেকে ‘কিংস তৃতীয় চার্লস হারমনি অ্যাওয়ার্ড’ গ্রহণ করলেন, অথচ তাঁর নাম পুরস্কার প্রাপ্যকদের তালিকায় ছিলই না। সম্মান তিনি পেলেন বটে, তবে অনেকগুলি প্রশ্নচিন্হ রেখে। যেমন রাজা তৃতীয় চার্লস তাঁকে নিজ হাতে কোনও পুরস্কার দেননি, বরং সংস্থার তরফে এক প্রতিনিধি এটি প্রদান করেন। এত বড় মাপের ব্যক্তিকে এমনতর অপমান? তবে এর থেকেও বড় অপমান তাঁকে করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের ষ্টারমার। তিনি যেন পাত্তাই দিলেন না মুহাম্মদ ইউনূসকে, লন্ডনে থেকেও সময় দিলেন না বাংলাদেশের অন্তরবর্তীকালীন সরকারের প্রধানকে। অথচ ফলাও করে প্রচার হয়েছিল ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী, বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধান উপদেষ্টা। রাজা তৃতীয় চার্লসের হাত থেকে বিশেষ সম্মান গ্রহণ করবেন। কিন্তু কার্যত দেখা গেল কোনওটাই হল না। এমনকি ব্রিটেন সরকারের কোনও প্রতিনিধি তাঁকে বিমানবন্দরে স্বাগত পর্যন্ত জানাতে উপস্থিত ছিলেন না। এখন দাবি উঠছে, এই অপমান নাকি বাংলাদেশের অপমান!
তাহলে ব্রিটেন থেকে কি নিয়ে আসছেন মুহাম্মদ ইউনূস? তিনি কেন সরকারি খরচে গেলেন লন্ডনে? আসলে তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করা। কারণ এটা তাঁর রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্খার অন্যতম মোড় হতে পারে। তিনি বিগত দশ মাসে অনেক কিছুই করেছেন। বাংলাদেশের জন্য যত না, তাঁর নিজের জন্য তো বটেই। ফলে নির্বাচনের পড়ে যদি সেই নির্বাচিত সরকার তাঁর বিরুদ্ধেই তদন্ত করে? তাহলে তো সব ফাঁস হয়ে যাবে। তাই আগাম ছোটাছুটি।
তিনি ক্ষমতায় এসেই নিজের বিরুদ্ধে থাকা সমস্ত ফৌজদারি মামলা খারিজ করেছেন নিজেরই জারি করা নির্বাহী আদেশে। আবার গ্রামীণ ব্যাংকে সরকারের মালিকানা কমিয়ে ২৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। ফলে এবার লাভের অঙ্ক বেশিরভাগটাই তাঁর পকেটে যাবে। আবার গ্রামীণ ফোনের সঙ্গে ইলন মাস্কের ষ্টারলিংক সংস্থার গাঁটছড়া বেঁধেছেন বিশেষ ক্ষমতাবলে। এছাড়া গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয় নামে নতুন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার তারই জারি করা নির্বাহী আদেশে। এসবের পাশাপাশি ডঃ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হওয়ার পর ২০২৯ সাল পর্যন্ত গ্রামীণ ব্যাংককে কর অব্যাহতিও দেওয়া হয়েছে৷ আদালতের সুয়োমোটো সিদ্ধান্তে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের শেখ হাসিনা সরকারের সময়ের রায় প্রত্যাহার করেছে৷ যা তিনি নিজের ক্ষমতা প্রয়োগ করেই করেছেন। গ্রামীণ ফোনের করও মুকুব করিয়েছেন। এখন তাঁর লক্ষ্য চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশী সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া। আর রাখাইন মানবিক করিডোরের মাধ্যমে কক্সবাজারে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি করতে দেওয়া। এর জন্য প্রয়োজন সময়ের। পাশাপাশি বিএনপি ও সেনাবাহিনী এই দুটি বিষয়ে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোনভাবে যদি বিএনপিকে ম্যানেজ করা যায় তাহলে রাজনৈতিকভাবে অনেক সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। বিএনপিকে সাথে নিয়ে নির্বাচনের মাধ্যমে একটি মিলিঝুলি সরকার গঠন করাতে পারলেই কেল্লাফতে। বাকি কাজগুলি রাষ্ট্রপতি হয়ে অনায়াসে করতে পারবেন মুহাম্মদ ইউনূস। তাই তড়িঘড়ি তার লন্ডন যাত্রা, আসল উদ্দেশ্য তারেক রহমানের সঙ্গেই বৈঠক। তাতে যদি একটু-আধটু অপমান সইতে হয় তাও সই।












Discussion about this post