লন্ডনে বসবাসরত বাংলাদেশের প্রবাসী নাগরিক এবং লন্ডনের যে সকল নাগরিক আওয়ামী লীগ জামাত বা বিএনপি করেন তারা মোহাম্মদ ইউনূসের এই লন্ডন সফরের ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া কে কেন্দ্র করে কতটা ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করবে বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য তা ইতিমধ্যে স্পষ্ট হয়েছে। মোহাম্মদ ইউনুসের শাসনকাল থেকে লন্ডন সফর সর্বত্রই যেন বিতর্ক!
চারদিনের সরকারি সফরে লন্ডন পাড়ি দিয়েছেন মোহাম্মদ ইউনুস । সেখানে গিয়েও একের পর এক কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছে কেন্দ্র করে। কখনো বিক্ষোভের মুখে পড়ছেন মোহাম্মদ ইউনুস কখনো বা তার সচিবকেও নিশানা করে বিক্ষোভ গড়ে উঠছে। আবার সম্প্রতির লন্ডনের মাটিতে দাঁড়িয়ে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মন্তব্য করতে গিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করেন ইউনুস। যেগুলি আবারও নানা রকম বিতর্কে জন্ম দিয়েছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের ঈদের আবহে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়েছিলেন প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মাদ ইউনুস,। কিন্তু তার দেওয়া ভাষণের দৃষ্টিভঙ্গি শব্দ চয়ন সবকিছুই দেশের অন্তরে বিতর্কের ঝড় তুলেছিল।
এবারে তার সফরকে ঘিরে চারিদিকে যে নানা রকম খবর প্রকাশ্যে আসছে, সেই খবরের তালিকায় নেতিবাচক খবরের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। এই বিদেশ সফরে যেমন মোহাম্মদ ইউসকে বিক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে তেমনই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন আবার টিউলিপ সিদ্দিকের চিঠি পাওয়ার পর তার সঙ্গে বৈঠক না করলেও অল পার্টির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করতে দেখা গেল মোহাম্মদ ইউনুসকে। অর্থাৎ টিউলিপ সিদ্দিকের চিঠির বিষয়টিকে একেবারেই উড়িয়ে দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। তবে এই সমস্ত ঘটনার মাঝে আরো দুটি ঘটনা যা এই বিদেশ সফরকে আরো সমালোচিত করেছে আন্তর্জাতিক স্তরে। ফলে দেশের নাগরিকের উদ্বেগ উতকণ্ঠা বৃদ্ধি পেয়েছে। আবার লন্ডনে একটি সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে যে বক্তব্য উঠে এসেছে তাতে এটুকু স্পষ্ট যে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের সঙ্গেও বৈঠক হয়নি প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুসের। আরেকবার প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে এটি কি আদৌ রাষ্ট্রীয় সফর নাকি প্রধান উপদেষ্টার ব্যক্তিগত সফর? যে সেখানে পৌঁছে ঠিক করা হচ্ছে তার সঙ্গে বৈঠক হবে আর কার সঙ্গে হবে না। অর্থাৎ যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের উদ্দেশ্যেই এই বিদেশ সফর প্রধান উপদেষ্টার এমনটাই বার্তা দেওয়া হয়েছিল দেশের সাধারণ জনগণের উদ্দেশ্যে। কিন্তু যখন এই বৈঠকের সম্ভাবনা এখনো পর্যন্ত সামনে আসলো না, তখন স্বাভাবিকভাবেই বোঝা যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকারের তরফ থেকে কিছু হয়তো গোপন করা হচ্ছে। আর এবার দেখা গেল এই বৈঠক প্রসঙ্গেই প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম তিনি জানালেন, মোঃ ইউনুসের সঙ্গে বৈঠকের কোন তালিকা এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেনি। এছাড়াও যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী এই মুহূর্তে দেশে উপস্থিত নেই তিনি কানাডায় গিয়েছেন। এমনকি শফিকুল আলমের দাবি স্টারমর দেশে ফিরে আসলে সময় সিডিউল মিলিয়ে বৈঠক হতে পারে এই দুই সরকার প্রধানের। কিন্তু একাধিক সংবাদ মাধ্যম দাবি করছে, প্রধানমন্ত্রী স্টারমার নিজের দেশেই আছেন। তিনি কানাডা সফরে যাননি। ফলে এখন প্রশ্ন উঠছে শাফিকুল আলম কেন এই ধরণের একটি ধারণা দিলেন। আসলে সত্যি কোনটা? সংবাদ মাধ্যমের দাবি নাকি প্রেস সচিব শফিকুল আলমের বক্তব্য। অর্থাৎ সাধারণত কোনও রাষ্ট্রীয় সফর হলে সেই সফরের সূচি অনেক আগেই চূড়ান্ত হয়ে যায়, তবে মহম্মদ ইউনুসের এই সফরের ক্ষেত্রে অন্যথা কেন? তাহলে মহম্মদ ইউনুস রাষ্ট্রীয় সফরে লন্ডন যাননি সেটাই সত্যি বলে মনে করছেন অনেকেই। এখন প্রশ্ন তাহলে হচ্ছেটা কি এই ঘটনাগুলির মাধ্যমে কি বাংলাদেশের মানুষকে অন্ধকারে রাখা হচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তরফে? নাকি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর তরফে এই বৈঠক প্রত্যাখ্যান করে একটি অসহযোগিতার বার্তা দেওয়া হল মোহাম্মাদ ইউনুসকে, এখন সেটাই দেখার।












Discussion about this post