যে সিদ্ধান্ত দেশের মাটিতেই নেওয়া সম্ভব ছিল, সেই সিদ্ধান্ত বিদেশে গিয়ে নিতে হল কেন? আর সেই সিদ্ধান্ত আদেও কার্যকর হবে কিনা, সেটা নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন রয়েছে। আমরা কথা বলছি,
লন্ডনের মাটিতে প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনূস এবং বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বৈঠক নিয়ে। যে বৈঠকের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল নির্বাচন ইস্যু। তবে বৈঠকে সু কৌশলে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনেও বিরোধিতা করা হয়েছে। কীভাবে? চলুন আলোচনা করা যাক।
শুক্রবার হয়ে গেল সেই বহু প্রতীক্ষিত বৈঠক। বাংলাদেশের অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনূস এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মধ্যে বৈঠক। বৈঠক শেষে এক যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন করা হয়। তাতে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, তারেক রহমান প্রধান উপদেষ্টার কাছে আগামী বছরের রমজানের আগে নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রস্তাব করেন। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও মনে করেন, ওই সময় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে ভালো হয়। প্রধান উপদেষ্টা বলে যে তিনি আগামী বছরের এপ্রিলে প্রথমার্ধের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়েছেন। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা গেলে ২০২৬ সালের রমজান শুরু হওয়ার আগের সপ্তাহে নির্বাচন আয়োজন করা যেতে পারে। বোঝাই গেল, দুই পক্ষই একটা সমঝোতা এসেছে নির্বাচনী ইস্যুকে কেন্দ্র করে। পাশাপাশি এও বলা হয়েছে, সেই সময় সংস্কার এবং বিচারের বিষয়ে পর্যাপ্ত অগ্রগতি অর্জন করা প্রয়োজন। অর্থাৎ একটা শর্ত দেওয়া হয়েছে। আর সেই শর্তের পরে বিএনপি সেটাকে সাধুবাদ জানিয়েছে, এমনটাই মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তাহলে সেই সময়ের মধ্যে যদি সংস্কার বা বিচার সম্পন্ন না হয়, তাহলে নির্বাচন ঘোষণার আরও একটি দীর্ঘমেয়াদি করার সম্ভাবনা থাকল সরকারের হাতে। এখন বড় প্রশ্ন, সরকার কি এই শর্তের বেড়াজালের সুযোগ নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি করবেন? নাকি বৈঠকে ঠিক হওয়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নির্বাচন ঘোষণা দেবে?
ইতিমধ্যেই এনসিপি বা জাতীয় নাগরিক পার্টির নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী বলেছেন, সরকার বিএনপির হয়ে কাজ করছে। এছাড়াও তিনি বলেছেন, বিএনপি এবং সরকার মানুষকে পাশ কাটিয়ে একটা নতুন পরিকল্পনা করছে। এছাড়াও যে প্রেক্ষাপটটা এখন লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তাতে বোঝা যাচ্ছে এমসিপি ধীরে ধীরে একা হয়ে যাচ্ছে। তার কারণ, জুলাই গণ অভ্যুত্থানে সবথেকে বড় ভূমিকা পালন করেছিল জামাত, বিএনপি সহ ছাত্র নেতারা। কিন্তু বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, বিএনপি পুরোপুরি ছাত্র নেতাদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। জামাতও একই পথে হাঁটছে। এই পরিস্থিতিতে যদি তারা বলে জুলাই গণ শক্তির বিরুদ্ধে বড় সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, তাহলে বিএনপিকেও জুলাই অভ্যুত্থানের বিপক্ষ শক্তি বলতে হবে। জামাতকেও বলতে হবে।
নির্বাচনে যে রফা হলো এই বৈঠক থেকে বলে মনে করা হচ্ছে, নির্বাচন কি আদৌ হবে? প্রথমত যখন এপ্রিলে নির্বাচন হওয়ার কথা উঠেছিল তখন অনেকে বলেছিলেন, ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় বাংলাদেশের বারটি সংসদীয় নির্বাচনের কোনটি এপ্রিলে হয়নি। আমার ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন বিএনপি বেশি করে চায়। কারণ বিগত নির্বাচন খতিয়ে দেখলে দেখা যাবে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হলে, বিএনপির সফলতা বেশি। সেই কারণেই তারা ডিসেম্বরে নির্বাচনের জন্য চাপ দিচ্ছিল। যাতে তার একদম মাসের মধ্যে নির্বাচন করা যায়। তবে মনে করা হচ্ছে বিএনপি’র সফলতা এল। কিন্তু খতিয়ে দেখলে, আদেও কি বিএনপি’র সফলতা এল? নাকি এই সফলতা ম্লান হয়ে যেতে বেশি সময় লাগবে না? কারণ মাহমুদ ইউনূস নির্বাচন নিয়ে একাধিকবার নানা রকম কথা বলেছেন। তবে বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসের হাসিমুখ লক্ষ্য করা গিয়েছিল। এখানে আরও একটি তত্ত্ব খাড়া করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তবে কি বৈঠকে আরো অনেক কিছু সিদ্ধান্ত হয়েছে? যেগুলো জনগণকে আড়াল করে করা হয়েছে? তবে কি সেই সম্ভাবনাই সত্যি হল? যেখানে বলা হয়েছিল, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে মহম্মদ ইউনূসের রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনা। এছাড়াও তারেক রহমানের সঙ্গে জাতীয় সরকার ইস্যুতে আলোচনা হতে পারে। তবে জাতীয় সরকার ইস্যুতে যে আলোচনা হয়নি সেটা দৃশ্যমান। তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, লন্ডনে গিয়ে এই সিদ্ধান্ত কেন? তবে কি এটা প্রমাণ করার জন্য, তারেক রহমান ছাড়া এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব ছিল না সরকারের? নাকি অন্য কোনও সমঝোতা করতেই মুহাম্মদ ইউনূসের লন্ডন পারি? তবে সময় যত গড়াবে, আরো বেশি করেই প্রেক্ষাপট পরিষ্কার হবে বলেই মত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।












Discussion about this post