ঈদ উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশের সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বক্তব্য রেখেছিলেন। কিন্তু তার সেই বক্তব্য বেশ কিছু বিষয়তে আরো যেন উসকে দিয়েছে। তার বক্তব্য যেমন উঠে এসেছে নির্বাচনের সময়সীমার প্রসঙ্গ তেমনই চট্টগ্রাম বন্দর ও রাখাইনে মানবিক করিডোর প্রদানের প্রসঙ্গও। আর সেই সময় চট্টগ্রামবন্দর পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার ইঙ্গিত দেন তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা তার বক্তব্যের মাধ্যমে জানান, আমরা চাই, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক। এ কারণে বিনিয়োগ পরিষেবার উন্নয়নের পাশাপাশি বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে উদ্যোগ নিয়েছি। অর্থাৎ মনে করা হচ্ছেবিদেশি কোম্পানির হাতে বন্দরের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হলে দেশে আর্থিক সংকট কাটবে এমনটাই বোঝানোর চেষ্টা করছেন প্রধান উপদেষ্টা।
অন্তর্বর্তী সরকারের তরফে দাবি করা হয় চট্টগ্রাম বন্দর হলো বাংলাদেশের অর্থনীতির হৃৎপিণ্ড। বর্তমানে যেটি অত্যন্ত দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। এখন দেশের অর্থনীতির এই হৃৎপিণ্ডকে মজবুত করতে হবে। এটা কি শক্তিশালী করতেও বহু উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। অভিজ্ঞদের সাহায্য লাগবে। অন্তর্বর্তী সরকার যাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে তারা বন্দর ব্যবস্থাপনায় বিশ্বের সেরা, সবচেয়ে অভিজ্ঞ বলেই মনে করা হচ্ছে । তারা ইউরোপ, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, পাকিস্তান, তুরস্ক, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকাসহ বিশ্বজুড়ে বন্দর পরিচালনা করে বলে জানিয়েছিলেন প্রধান উপদেষ্টা।
উল্লেখ্য, প্রধান উপদেষ্টার একাধিক বক্তব্য সামনে আসতেই বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে চলা সাধারণ নাগরিক ও বিভিন্ন স্তরের মানুষের বিক্ষোভ আরো বৃহত্তর হওয়ার আভাস দেওয়া হচ্ছে। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে সম্প্রতি অন্তর্ভুক্তির সরকার যে নির্দেশ দিয়েছে সরকারি কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে। সেটি সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অনির্বাচিত সরকারের এক প্রকার বিদ্রোহ ঘোষণা। স্বাভাবিকভাবে অনির্বাচিত সরকারের নির্দেশ মানতে নারাজ সরকারি কর্মচারীরা , যার জেরে তারা রাস্তায় নেমেছিলেন। এছাড়াও বাংলাদেশের নানা ক্ষেত্র যেমন বিনিয়োগ কর্মসংস্থান এর ব্যাপারেও ইতিমধ্যেই বহুবার আলোচনা সমালোচনা প্রকাশ্যে এসেছে। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে ঐক্য, আওয়ামী লীগকে বাদ দিলেও যে সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলি রয়েছে তাদের মধ্যে অনস্থা অনৈক্য সবটাই বিদ্যমান। মোহাম্মদ ইউনুস তিনি নিজের স্বার্থসিদ্ধি করতে আওয়ামীলীগকে নিষিদ্ধ করেছে বাংলাদেশে সে কথা একেবারেই স্পষ্ট। আর ঠিক যতটা আশা নিয়ে সাধারণ মানুষ মুহাম্মদ ইউনুসকে সরকারের মাথায় বসে ছিলেন ততটাই আশাহত হতে হয়েছে সেই মানুষগুলিকে। কারণ অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনকালের এই দশ মাসে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২১ লক্ষ মানুষ আরো দরিদ্রতার দিকে এগিয়ে গিয়েছে। যার মধ্যে ১৮ লক্ষ ই রয়েছেন মহিলা। অর্থাৎ ১০ মাস পেরিয়ে ১১ মাসের দিকে এগিয়ে চলায় সরকার এখনো পর্যন্ত একটিও সংস্কারের মুখ দেখাতে পারেনি বাংলাদেশের সাধারণ জনগণকে। সংস্কারের লোভ দেখিয়ে নির্বাচনকে ধোঁয়াশায় ঠেলে দিচ্ছে এই সরকার। কিন্তু একদিকে সংস্কার চললেও অন্যদিকে নির্বাচনের প্রস্তুতি চলতেই পারে সেটা হয়তো আর কারোরই অজানা নয়। ওটা তো এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের দায়িত্ব হাতে তুলে নিয়েছিল শুধুমাত্র দেশের সংস্কার বিচার এবং নির্বাচনের মাধ্যমে স্থায়ী সরকার প্রতিষ্ঠা করতে। কিন্তু এগুলির সব কটি আজও অধরা। উপরন্ত বাংলাদেশের মানুষকে অশান্তির আগুনে জ্বালিয়ে ধ্বংস করে দিচ্ছে।
বাংলাদেশেরই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে বিদেশীদের হাত ধরেই ক্ষমতায় এসেছে সেটা এখন দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। কারণ বিদেশীদের ঘাঁটি দেওয়া থেকে শুরু করে মানবিক করিডোর সমস্ত নির্দেশেই মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছে বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।












Discussion about this post