ফের ২০০৭ সালের মতো হতাশ নোবেল জয়ী মোহাম্মদ ইউনূস। রাজনীতি থেকে আরো একবার রণেভঙ্গ দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানের জন্য। আন্তর্জাতিক চাপ আর মিত্ররা মুখ ফিরিয়ে নেওয়ায় ইমেজ সংকটে পড়ছেন ইউনূস। এদিকে মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে কমপক্ষে দুটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা আইসিসিতে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে পিটিশন দায়ের করতে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিকভাবে একাধিক আইনি জটিলতায় পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আবার সেইফ এক্সিটের জন্য লন্ডন বৈঠকে যে পথ বের করা হলো তাতে রাজি নয় দেশীয় মিত্ররা। সব মিলিয়ে নিজের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ইনিংস গুটিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থাটা জটিল হয়ে পড়ছে ক্ষমতালোভী ইউনূসের জন্য।
গত বছর হাসিনা সরকারের পতনের পর মানবতা বিরোধী অপরাধের দায়ে গত নভেম্বর মাসে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শুরু হয় শেখ হাসিনা সহ আওয়ামী লীগের বেশ কিছু নেতার বিচার প্রক্রিয়া। অন্যদিকে মানবতা বিরোধী অপরাধের জন্য মহম্মদ ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে অভিযোগ দায়েরের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে আন্তর্জাতিক আইন সংস্থা। ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ। যে মোহাম্মদ ইউনুস ক্ষমতায় আসার পর থেকে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতা বিরোধী অপরাধের প্রসঙ্গ তদের সুর ছড়িয়েছেন গণহত্যার দায়ের মামলা দায়ের করার পরিস্থিতি তৈরি করেছেন এখন সেই প্রধান উপদেষ্টার বিরক্তি মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগ। জানিয়ে আন্তর্জাতিক স্তর থেকে শুরু করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সাধারণ মানুষের সকলের মধ্যে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, ব্রিটেন ভিত্তিক আন্তর্জাতিক আইনি সংস্থা ডাউটি স্ট্রিট চেম্বার মূলত মূলত নাগরিক স্বাধীনতা, অভিবাসন নীতি, আন্তর্জাতিক অপরাধ বিষয়ক বিভিন্ন বিষয়ে কার্যক্রম চালায় এই সংস্থা। ব্রিটেনের আইনি সংস্থার ১৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশে দুর্নীতি ও নৃশংস ঘটনার শিকার এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের দ্বারা সংগৃহীত প্রমাণের উপর ভিত্তি করে এই মামলা দায়ের করা হতে পারে ।
মহম্মদ ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগের জন্য যে কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে, তার বিরুদ্ধে এই সংস্থার হাতে যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে বলে খবর। এমনকি তারা বিষয়টি ওয়েবসাইটে তুলে ধরেছে। তার মধ্যে সু নির্দিষ্ট কিছু অভিযোগ তার বিরুদ্ধে করা হয়েছে। ব্রিটেনের আইনি সংস্থা সূত্রে খবর ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট মহম্মদ ইউনূস বাংলাদেশে ক্ষমতা গ্রহণের পর একাধিক সাংবাদিক, পুলিশ কর্মকর্তা, সংখ্যালঘু মানুষ এবং শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অসংখ্য বিনা উস্কানিতে এবং সহিংস আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে। মব কালচার চলেছে। এই অভিযোগগুলোর জন্য অভিযুক্তদের বিচারের আওতায় আনার জন্য বাংলাদেশে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এমনটাই উল্লেখ করা হয়েছে। এই হামলার প্রকৃত ইঙ্গিত দেয় যে, এগুলো প্রশাসনিক সর্বোচ্চ স্তরে পরিকল্পিত ছিল। এবং ইন্টারন্যাশনাল প্রিমিয়ার কোর্টে সংবিধি একটি বিশেষ অনুচ্ছেদের অধীনে হত্যা, নিপীড়ন, বাক স্বাধীনতা এগুলি গুরুতর মানবতা বিরোধী অপরাধের সমতুল্য। উল্লেখযোগ্য বিষয় ২০২৪ সালে নভেম্বরে ইন্টারন্যাশনাল প্রিমিয়ার কোর্টে ইউনূসের বিরুদ্ধে মানবতার বিরোধী অপরাধের দায়ে আরও একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছিল।
জানা গিয়েছে, এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিশিষ্ট সদস্যরা ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা আইসিসি, জাতিসংঘ ও ইন্টারপোলে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছেন। এসব অভিযোগে ইউনূস ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও সহিংসতায় আঁতাত এবং সাংবিধানিক অন্তর্ঘাতের অভিযোগও আনা হয়েছে।
অর্থাৎ শেখ হাসিনাকে রাজনীতি থেকে সরাতে মোহাম্মদ ইউনুসের যে ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা, সেই একই ফাঁদে করতে হলে মোহাম্মদ ইউনুসকে, তবে কি রাজনৈতিক জীবনের শেষে এসে দাঁড়ালেন মোহাম্মদ ইউনুস!











Discussion about this post