সম্প্রতি বিলেত সফর করে এলেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। সেখানে সরকারিভাবে কোনও কাজের সঙ্গে যুক্ত হতে না পারলেও বেসরকারিভাবে কয়েকটি অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন তিনি। যেমন গত ১১ জুন লন্ডনের বিখ্যাত থিঙ্কট্যাঙ্ক সংস্থা চ্যাথাম হাউসে সাক্ষাৎতারের মুখোমুখি হয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। সেখানে তাঁকে নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর তিনি সাবলীলভাবে দিলেও, কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে তাঁকে যথেষ্টই বেগ পেতে হয়েছিল। এরমধ্যে অন্যতম হল ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাসভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার বিষয়টি। লন্ডনে কর্মরত এক বাংলাদেশের এক সাংবাদিক সামিয়া আক্তার তার কাছে প্রশ্ন রাখেন, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাসভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার সময় অন্তর্বর্তী সরকার নীরব ছিল কেন? ওই মহিলা সাংবাদিক এও জানান, সরকারি বুলডোজার দিয়েই ভাঙা হয়েছে শেখ মুজিবরের স্মৃতি বিজরিত বাড়িটি। তবুও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কোনও ব্যবস্থা নেয়নি।
এই প্রশ্ন যে তাঁকে লন্ডনে বসে শুনতে হবে, এটা হয়তো আন্দাজ করতে পারেননি প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। তাই প্রথমে তিনি অপ্রস্তুত হয়ে যান। তারপর স্বভাবসুলভ ভঙ্গিমায় হাসির সঙ্গেই বলতে থাকেন, যে সে সময় আমরা জানতাম না, এই পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেব! তাঁর যুক্তি ছিল, আমরা সবে ক্ষমতায় বসেছিলাম, তাই এই পরিস্থিতি কিভাবে সামাল দেব বুঝতে পারিনি।
ওই সাংবাদিকের প্রশ্ন ছিল—যখন সিটি করপোরেশনের বুলডোজার দিয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ি ভেঙে ফেলা হচ্ছিল, তখন প্রশাসন কেন চুপ ছিল? এই প্রশ্নের জবাবে মুহাম্মদ ইউনূস বেশ অপ্রতিভ হলেও তিনি পরিস্থিতি সামলে নেন। তিনি সরকারি বুলডোজার প্রসঙ্গ এড়িয়ে গিয়ে সম্পূর্ণ অবান্তর কথা বলতে শুরু করেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, ‘একসঙ্গে অনেকগুলো প্রশ্ন আর সমস্যা চলে এসেছিল। সবকিছু একসঙ্গে ঠিকভাবে সামাল দেওয়া সম্ভব হয়নি। এটা এমন একটা সময় ছিল, যার মধ্য দিয়ে আমরা গেছি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। দেশে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাটাই তখন আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় কাজ ছিল। পাশাপাশি পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি জুলাই সনদের প্রসঙ্গও তুলে আনেন।
এবার লন্ডন সফরে গিয়ে প্রথম দিন থেকেই মুহাম্মদ ইউনূস বেকায়দায় পড়েছিলেন। হোটেলে প্রবেশের মুখেই নজিরবিহীন বিক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। এরপর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার তাঁকে সময় দিতে রাজি হননি। ফলে তিনি লন্ডনে গিয়ে ব্রিটেনের কোনও মন্ত্রীর সঙ্গেই দেখা করতে পারেননি। আবার লন্ডনে পৌঁছনোর আগেই ব্রিটেনের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা শাসকদলের সাংসদ এবং শেখ হাসিনার বোনঝি টিউলিপ সিদ্দিক মুহাম্মদ ইউনূসকে খোলা চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলেন দুর্নীতি প্রমান করার। কিন্তু ইউনূস সেই প্রসঙ্গে নিরব থাকেন। যা কিয়ের স্টারমারের জন্য অস্বস্তিজনক ছিল বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ। অন্যদিকে চ্যাথাম হাউসের সাক্ষাৎকারেও মুহাম্মদ ইউনূসকে একের পর এক অস্বস্তিকর প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছতে চলা ইউনূসকে বিলেতের মাটিতেই সেই প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। কিন্তু তিনি সোজাযুজি কোনও উত্তর দিতে না পেরে প্রসঙ্গ ঘুরিয়ে পালিয়ে এলেন।












Discussion about this post