গোপন প্রস্তুতি শুরু বাংলাদেশে নির্বাসিত আওয়ামী লীগের! কোনভাবেই হয়তো আর আটকে রাখা যাবে না দলটিকে। খুব শীঘ্রই বাংলাদেশ ফিরে ফের রাজনীতিতে সক্রিয় হতে চলেছে শেখ হাসিনার দল। নানা রকম কর্মসূচি নিয়ে এবার মাঠে নামতে চলেছে আওয়ামী লীগ। নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও এক মাসের কর্মসূচির পরিকল্পনা নিয়েছে দলটি, এছাড়াও প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে অশান্তির পাঁয়তারা, নগরীর বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল কর্মসূচি ইত্যাদি।
বর্তমানে বাংলাদেশের নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। মূলত গত বছর জুলাই আন্দোলন আর সেই আন্দোলনে রীতিমতো হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে আওয়ামী লীগ এমন অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার প্রক্রিয়া চলছে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের অন্যান্য শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে। অর্থাৎ যতক্ষণ না এই বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার ঘোষণা করেছে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। মূলত এই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জন্ম হয়েছিল হাজার ১৯৭১ সালে। মানবতা বিরোধী অপরাধের শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য। বিগত শেখ হাসিনা সরকারের আমলেও এই ট্রাইব্যুনালেই মানবতা বিরোধী অপরাধের শাস্তি নিশ্চিত করা হয়েছে। ৭১ র শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী দের ফাঁসিতে ঝুলিয়েও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখন প্রতিহিংসা থেকেই সুযোগ পেয়ে, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের নেতৃত্বদের মানবতা বিরোধী অপরাধের দায়ে এই ট্রাইবুনালে দাঁড় করিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
উল্লেখ্য গত বছর হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের মাথায় মোহাম্মদ ইউনুস কে বসানো হলে দেশের সাধারণ জনগণ ভেবেছিল এই সরকারের হাত ধরেই দেশে দ্রুত নির্বাচনের পাশাপাশি শান্তি স্থিতিশীলতা ফিরবে। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে দেখা গেল অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা য় আসার আগে যে প্রতিশ্রুতি গুলি দিয়েছিল দেশবাসীকে অপূর্ণই থেকে গেল। দীর্ঘ ষোল বছরের হাসিনা সরকারের শাসনে অনেকের দাবি ছিল এই সরকার সংস্কার করতে ব্যর্থ। কিন্তু সে দীর্ঘ 16 বছরই দেখা গিয়েছে হাসিনা সরকারের পতনের ঠিক কিছুদিন আগেই বাংলাদেশের কট্টরপন্থী জামাতে ইসলামিকে নিষিদ্ধ করেছিল আওয়ামী লীগ সরকার। কারণ জামাত বাংলাদেশের সংবিধান কে মানে না মুক্তিযুদ্ধকে মানেনা, দলটি সম্পূর্ণভাবেই পাকিস্তানপন্থী। কারণ সম্প্রতি ভারত পাকিস্তান সংঘাতের পরিস্থিতিতে যখন ভারত প্রত্যাগাত শুরু করেছিল পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তখন জামাতের আমির শফিকুর রহমান বিভিন্ন ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদের মদদ দিয়েছে।
কিন্তু যদিও বাংলাদেশ কি পাকিস্তান কোন জায়গাতেই জামাতকে খুব বেশি গুরুত্ব দেয় না পাকিস্তান। আর সেই জামাতে ইসলামি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টিকে প্রচ্ছন্ন মদত দিয়ে চলেছে বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্ভুক্তিকারীন সরকার। ফলে ধীরে ধীরে বাংলাদেশের প্রকট হয়েছে দুর্নীতি। এমনকি বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার দাবিতে একেবারে সামনের সারিতে দেখা গিয়েছে জামাতে ইসলামীকে। কিন্তু দেশের এই অস্থির পরিস্থিতি থেকে দেশকে মুক্তি দিতেই এবার আসরে নামতে চলেছে আওয়ামী লীগ। মনে করা হচ্ছে বিশ্ব সমগ্র পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে আওয়ামী লীগ , আগামী ২৩ শে জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। এরপরই হয়তো বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে দেখা যাবে শেখ হাসিনার দলকে। আর আওয়ামী লীগ তার কর্মসূচি শুরু করলে এই পরিস্থিতিতে এসে প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুছের পাশাপাশি জামাত ও এনসিপির নেতৃত্বরা যে বেজায় চাপে পড়বে তার বলার অপেক্ষা রাখে না।












Discussion about this post