মধ্য প্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা। ইরান ইসরাইলের যুদ্ধে এখন প্রবল আলোড়ন বিশ্ব জুড়ে। এই পরিস্থিতিতে ইরানের দুই মিত্র চিন এবং রাশিয়া কি বলছে? জাতিসংঘে যেমন নিন্দা চলছে, তেমনই গণমাধ্যমে নীরবতা চলছে। আবার সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে উত্তাল পরিস্থিতি। সব মিলিয়ে চিন ও রাশিয়ার প্রতিক্রিয়া নিয়ে বিস্তর আলোচনা চলছে।
জানা যাচ্ছে, চিন বলেছে ইরানের উপর হামলার ঘটনার বিরুদ্ধে তারা। ১৩ই জুন চিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখতে, এবং দেশকে স্থিতিশীল রাখতে সমস্ত পক্ষকেই দায়িত্ব নিতে হবে। তারা ইরানের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও ভূখণ্ডের অখণ্ডতা লঙ্ঘনের বিরোধিতা করে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে। সেই সম্মেলনে জানানো হয়েছে, যারা সংঘাত সৃষ্টি করছে, তাদের চীন সমর্থন করে না। তারা চায়, দুই পক্ষ যেন শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখে। উত্তেজনা তৈরি হলে, গোটা বিশ্ব জুড়ে উত্তেজনা তৈরি হবে। অন্যদিকে চীনের এক মুখপাত্রকে ওই সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করা হয়। তবে হরমুজ প্রণালী বন্ধের ইরানের হুমকিকে কি চিন সমর্থন করবে? তখন উত্তরে তিনি বলেন, এটি অনুমান ভিত্তিক প্রশ্ন।
তথ্য বলছে, ২০২৪ সালেও চিন একই অবস্থান নিয়েছিল। সেই সময়কার চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ইসরাযয়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেছিলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং বিশৃঙ্খলা কোনও পক্ষের জন্যই ভালো নয়। তিনি বলেন, আশা করা যায় দুই পক্ষই খুব বুঝে কাজ করবে। এমনকি চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, চীন শান্তির পক্ষে থেকে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবে। এছাড়াও জানা যায়, এছাড়াও, ২০২৪ সালের অক্টোবরেই জাতিসংঘে চীনের প্রতিনিধি ফু কং ইসরায়েলের ভূমিকা ও কার্যকলাপ নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন।
জানা গিয়েছে, চলতি বছরে
১২ জুন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা এর বোর্ড অব গভর্নরস-এর এক ভোটাভুটিতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এর আনা একটি প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেয় চীন ও রাশিয়া। চিন যুক্তরাষ্ট্রের পুরোনো চুক্তি থেকে সরে যাওয়াকেই সমস্যার মূল হিসেবে দেখছে।
অন্যদিকে সোশ্যাল মিডিয়াতে দুই দেশের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে সিনা ওয়েইবোতে ব্যাপকভাবে আলোচনা শুরু হয়েছে। দুই দেশের সংঘর্ষ ঘিরে বহু হ্যাশট্যাগ ট্রেন্ড করেছে। এর মধ্যে একটি সকাল ট্রেন্ডিং সার্চ তালিকার শীর্ষে উঠে আসে। যেটা নাকি ১৬ কোটি বার দেখা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। এতে নাকি ৭৬ হাজারটি মন্তব্য করা হয়। ওয়েইবোতে একজন বিখ্যাত ভাষ্যকার হু শিজিন লিখেছেন, ইরান এখন ঝাঁঝার মতো ছিদ্রযুক্ত হয়ে গিয়েছে। কারণ মোসাদ বিপ্লবী গার্ডসের কমান্ডার-ইন-চিফ মেজর জেনারেল হোসেইন সালামি এবং অন্তত দু জন পারমাণবিক বিজ্ঞানীর সঠিক অবস্থান নির্ভুলভাবে শনাক্ত করে এবং ইসরায়েলি বাহিনী তাদের হত্যা করে। তিনি এই কর্মকাণ্ডকে সন্ত্রাসী হামলা বলেন।
ইসরায়েল ইরান হামলা নিয়ে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনগুলি খুব বেশি প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। রাশিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য বলেন, রাশিয়া সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে একটি বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তিতে সই করেছে ঠিকই। তবে তিনি মনে করেন না যে রাশিয়া এই সংঘাতে জড়াবে। রাশিয়া পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে এবং ভবিষ্যতে মধ্যস্থতায় ভূমিকায় রাখতে পারে।












Discussion about this post