বাংলাদেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন হওয়ার পর থেকে মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে ভারত বিরোধিতা বেড়েছে। উল্টে সম্পর্ক গড়ে তুলেছে পাকিস্তানের সঙ্গে। তবে পাকিস্তানের পরিস্থিতি কোন জায়গায় দাঁড়িয়েছে, সেটা কি জানে বাংলাদেশ। আফগানিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক ক্রমশ অবনতি হচ্ছে পাকিস্তানের। উল্টে তালিবান সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় হচ্ছে ভারতের। ভারতের বিদেশ সচিব তালিবান সরকারের বিদেশ মন্ত্রী সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এমনকি ভারত আশ্বস্ত করেছে তাদের সাহায্য করার। শুধু তাই নয়, ভারতের তরফে ব্ল্যাংক চেক দিয়ে দেওয়া হয়েছে তালিবান সরকারকে। এবার পাকিস্তানকে শেষ করতে বাংলাদেশকে টার্গেট করছে ভারত।
ইংরেজদের বিরুদ্ধে যারা লড়াই করেছিলেন, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম সীমান্ত গান্ধী নামে পরিচিত খান আব্দুল গফফর খান। তিনি একজন ধর্মপ্রাণ মুসলমান ছিলেন এবং উপমহাদেশে হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের পক্ষে ছিলেন। তিনি বহু বালুচ যোদ্ধার কথা জানতেন। তারা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে ভারতের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছিল। খান আব্দুল গফফর খানের বহু সহযোগ লড়াই করেছিলেন। তিনি এখন ভারত তথা এই উপমহাদেশে একজন লড়াকু ও যোদ্ধা। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এখন যেটা ইসলামাবাদ, বা লাহোর, বা করাচি, সেখানকার কোনও যোদ্ধার কথা কি আদেও স্মরণে আছে? কিন্তু খান আব্দুল গফফর খানকে প্রত্যেকে মনে রেখেছেন, তার উল্লেখযোগ্য ভূমিকার জন্য। শুধু তাই নয়, তিনি আসলেই একজন প্রকৃত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং স্বাধীনতা সংগ্রামী। পাশতুন, আফগানরা বিদ্রোহী। এক সময় আফগানিস্তানকে সামনে রেখে বড় খেলা চলেছিল। কিন্তু বিদ্রোহী আফগানরা তার বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। তারা দাসত্ব স্বীকার করেনি। ২০২১ সালে যখন তালিবানরা আফগানিস্তান দখল করল, তখন পাকিস্তান ভেবেছিল তালিবান তাদের পক্ষে যাবে। কিন্তু আদতে দেখা গেল তা উল্টো। এখন আফগানিস্তান পাকিস্তানের সম্পর্ক আদায় কাঁচকলায়। সেই পরিস্থিতিতে ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রী, দুবাইয়ে তালিবান সরকারের বিদেশে মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎকার করে বৈঠক করলেন। ভারত আশ্বস্ত করেছে, ভারত তাদের পরিকাঠামোর দিক থেকে সাহায্য করবে। এমনকি একরকম ব্ল্যাক ব্লাঙ্ক চেক দিয়েছে আফগানিস্তানকে। আসলে ভারতের সঙ্গে আফগানিস্তানের সীমান্ত রয়েছে। এমনকি ২০১৯ সালে সিএএ নিয়ে বলতে গিয়ে সংসদে দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছিলেন, যদি আফগানিস্তানে সংখ্যালঘুরা নিপীড়িত হন, তবে তারা ভারতের আশ্রয় নিতে পারেন। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি কাবুল ভারতের কথা শোনে, তবে পাকিস্তানের কপালে দুঃখ ছাড়া আর কিছু নেই। যখন আফগানিস্তানের পালাবদল ঘটল, তখন যে পাকিস্তান তালিবানদের নিতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছিল, এখন তাদের সঙ্গেই লড়াই করতে হচ্ছে ইসলামাবাদকে। কূটনৈতিক স্তরে তেমন সম্পর্ক তালিবানের সঙ্গে ভারতের না হলেও, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হল। সেটা বলাই যায়। তবে ভারত স্পষ্ট দাবি করেছে, আফগানিস্তানের মাটি থেকে যেন কোনরকম ভারত বিরোধী কার্যকলাপ না হয়। সেটা নিশ্চিত করতে হবে তালিবানদের। তার পরিবর্তে ভারত সব রকম সাহায্য করবে তালিবান প্রশাসনকে। অন্যদিকে তালিবান প্রশাসন বুঝেছে, ভারতকে এড়িয়ে কোনও কাজ করতে পারবে না। অন্তত বিশ্ব দরবারে তাদের ফুটিয়ে তোলার জন্য ভারতের সাহায্য প্রয়োজন। অন্যদিকে এটাও তারা বুঝেছে, এক্ষেত্রে পাকিস্তান তাদের সাহায্য করতে পারবে না। উল্টে বিপদে পড়বে তালিবান সরকার। ইতিমধ্যেই আফগানিস্তানে ভারতের বিনিয়োগ রয়েছে। কাবুলে টেকনিক্যাল টিম রয়েছে। তেহেরক ই তালিবান পাকিস্তান উপর হামলা। আফগানিস্তানের নিরীহ মানুষের উপর বোমা ফেলে হত্যা। আফগানিস্তানের মাটিতে পাকিস্তানের বিমান হানা নিয়ে নিন্দা করেছিলেন রণধীর জয়সওয়াল। তারপরে বিক্রম মিস্ত্রির সঙ্গে তালিবানীর বিদেশ মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক। এইবার বাংলাদেশও বুঝবে, পাকিস্তান তাদের কোনও সাহায্যই করতে পারবে না। ভারতকে এড়ানো সম্ভব নয় বাংলাদেশের। এমনিতেই ভারত ভিসা নিয়ে করাকরি করতেই, ভারতীয় দূতাবাসের সামনে তাদের বিক্ষোভ। আসলে বাংলাদেশের বর্তমান সরকার ভুল রাজনীতি ক্ষেত্রে ব্যস্তবতা বোঝে না। উল্টে কট্টরপন্থী মনোভাব নিয়ে দেশকে পিছিয়ে দিচ্ছে। সেটা ধীরে ধীরে প্রমাণিত হচ্ছে।












Discussion about this post