আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনা সহ আওয়ামী লীগ বিভিন্ন নেতৃত্বের বিচার শুরু হয়েছে। এমনকি বিভিন্ন প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে। তদন্ত চলছে। এমনকি বলা হয়েছে, ৭ দিনের মধ্যে যদি শেখ হাসিনা হাজির না হন, তবে তার অনুপস্থিতির বিচার কার্যক্রম শুরু হয়ে যাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, শেখ হাসিনার উপস্থিত হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। অর্থাৎ তার অনুপস্থিতিতেই বিচার কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে। খানিকটা শুরু হয়েছে। কারণ কিছুদিন আগেই টেলিভিশনের সম্প্রচার দেখা গিয়েছিল বিচার কার্যক্রমের। তবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত না হলে কিভাবে এই কার্যক্রম এগোবে বা আদালত কি বলছে বা আইনজীবীরাই বা কি বলছেন? পাশাপাশি শেখ হাসিনা কি গ্রেফতার হতে পারেন? সেক্ষেত্রে ভারতের কি করনীয়? ভারত কি আদেও বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের হাতে শেখ হাসিনাকে তুলে দেবে? সেটাই এখন সব থেকে বড় প্রশ্ন।
জানা যাচ্ছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহ সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল খানকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে উপস্থিত হতে হবে। তারা উপস্থিত না হলে তাদের অনুপস্থিতিতেই বিচার কার্যক্রম শুরু পাবে বলে জানানো হয়েছে। বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শুনানি ছিল। এই শুনানির জন্য ট্রাইব্যুনালে পুলিশের দেওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা এবং আসাদুজ্জামান কামাল খানকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তারা পালিয়ে গিয়ে ভারতে অবস্থান করছেন। কিন্তু বিষয়টি হল, এটা প্রত্যেকেই জানে, শেখ হাসিনা কোনদিনই হাজির হবেন না। অর্থাৎ তার অনুপস্থিতির বিচার কার্যক্রম হবে সেটা এক প্রকার নিশ্চিত। অন্যদিকে শেখ হাসিনা ফিরতে পারেন বাংলাদেশের এরকম নানা গুঞ্জন তৈরি হয়েছে বিভিন্ন সময়। এমনকি আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতৃত্ব এরকম গুঞ্জন তৈরি করছেন। এদিকে আগামী ২৩ শে জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। তার আগে এবং পরে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়ার চেষ্টা করছেন শেখ হাসিনার দলের বিভিন্ন নেতৃত্ব। এছাড়াও ঢাকার ১৩ আসন, যেটি আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকের এলাকা, সেই ঢাকা ১৩ আসনের একটি ঝটিকা মিছিল দেখা গিয়েছে। সেখানে সরকার বিরোধী স্লোগান দেওয়া হয়েছে। এমনকি আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে দেখা যাবে। তবে উল্টোদিকেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার বিচার কার্যক্রম এগিয়ে যাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারত বর্তমান বাংলাদেশের সরকারের হাতে শেখ হাসিনাকে তুলে দেবে না, সেটা ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না করলেও, তাদের বিভিন্ন কার্যকলাপ দেখে স্পষ্ট।
সবমিলিয়ে পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে বা কি হবে, সেটাই সবথেকে বড় প্রশ্ন। এখন দেখার, শেষমেষ কি পরিস্থিতি তৈরি হয়।












Discussion about this post