চলতি মাসে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার জামানের চিন সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে। সে দেশের পিপলস লিবারেশন আর্মির আমন্ত্রণে তার এই চিন সফর। তবে সেনাপ্রধানের চিন সফরের আগে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের চিন সফরটি তিনি নিশ্চিত করতে চান। প্রশ্ন উঠছে, কেন সেনাপ্রধানের চিন সফরের আগে বেজিং সফর করতে চান খলিলুর রহমান? এর পিছনে একাধিক কারণ খুঁজেছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা। এমনকি তিনি চিন সফর নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশে নিযুক্ত চিনের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এবং সাম্প্রতিক সময়ে প্রধান উপদেষ্টা যে লন্ডন সফর করেছিলেন, তাতে সফরসঙ্গী ছিলেন খলিলুর রহমান। সেই সফরের আগেও তিনি বাংলাদেশে নিযুক্ত চিনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। তবে সেনাপ্রধানের আগে তিনি কেন চীন সফরে যান তার দুটি ধারনা পাওয়া গিয়েছে। মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের জন্য মানবিক করিডোর দিতে বাংলাদেশ যে উদ্যোগী হয়েছিল, তাতে চিনের মনোভাব কি, সেটা বোঝার জন্য। কারণ রাখাইন প্রদেশে চীনের বড় বিনিয়োগ রয়েছে। অবশ্য সেখানে রাশিয়ার রয়েছে, ভারতের রয়েছে। এবং সেখানে মানবিক অডিজোড় হলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ পূরণ হবে। আর সেটা নিশ্চিতভাবে নেবে না চিন। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে, চিনের ঠিক কি মনোভাব, সেটা বুঝতেই তার চীন সফর। এমনকি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনীরের সঙ্গে যাতে দেখা হয়, তারই ব্যবস্থা করছেন খলিলুর রহমান। কিন্তু হঠাৎ কেন পাকিস্তান সেনাপ্রধানের সঙ্গে বৈঠকের গুঞ্জন কেন?
অন্যদিকে সম্প্রতি জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে মহম্মদ ইউনূস মানবিক করিডোর নিয়ে বলেছিলেন, এই নিয়ে কারও সঙ্গে কোনও আলোচনা হয়নি। এমনকি তিনি বিষয়টি গুজব বলে উড়িয়ে দিলেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, যেভাবে সরকারের অন্দর থেকে একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্য এসেছে সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে প্রধান উপদেষ্টার ওপর কেউ ভরসাই করতে পারছে না। অনেকেই গুজবে কান দিলেও সেনাবাহিনি বা সেনাপ্রধান তো গুজবে কান দেওয়ার কথা নয়।। কেন সেনা প্রধানকে বলতে হল, নো ব্লাডি করিডোর! এখান থেকেই বোঝা যায়, নিশ্চয়ই কিছু এমন ঘটেছে, সেই কারণেই সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার এই মন্তব্য করেছিলেন।
শুধু তাই নয়, বিএনপি চরম বিরোধিতা করেছিল, করিডোর দেওয়ার বিষয়ে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ একটি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ গঠিত হয়েছে এবং সাংবিধানিক বৈধতা রয়েছে। আর্টিকেল ১০৬ অনুসারে সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভাইজারি নিয়ম অনুযায়ী এই সরকার গঠিত হয়েছে। উপদেষ্টা মণ্ডলের মর্যাদাপূর্ণ পদ এবং মন্ত্রিত্ব পেতে গেলে যে সমস্ত যোগ্যতা প্রয়োজন হয়, সেটা উপদেষ্টা মন্ডলীকে মাথায় রাখতে বলবো। সেখানে কিন্তু বিদেশী নাগরিকত্বের বিষয়টি অনুমোদন করেনি। এখানেই প্রশ্ন উঠছে, খলিলুর রহমানকে নিয়ে তো নানা রকম বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। তার পাসপোর্টে নাকি নাম রয়েছে রোজার রহমান। তাকে নিয়ে এত বিতর্ক থাকার পরও, তারপর থেকে তাকে সরানো হয়নি। গরম তিনি করিডোর ইস্যুতে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। পাশাপাশি সেই সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে তিনি চীন সফরে যেতে চাইছেন সেনাপ্রধানের আগে। বলছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।












Discussion about this post