দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের রথযাত্রা সম্পন্ন হলো মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে। দিঘার এই মন্দির নির্মাণের পর থেকেই জল্পনা ছড়িয়ে ছিল যে এই মন্দিরকে হাতিয়ার করেই ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন উতরাতে চাইছে তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু রথযাত্রার দিন দীঘার যে ছবি সামনে এসেছে কোথাও যেন মুখ্যমন্ত্রী জন্য আশঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেরণায় গড়ে ওঠা জগন্নাথ মন্দিরের রথযাত্রায় যে পরিমাণ জনসমাগম আশা করা হয়েছিল সেই পরিমাণ জনসমাগম বা মানুষের ঢল চোখে পড়ল না এদিন। তবে কি রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ভবিষ্যৎবাণী সত্যি হলো? দীঘা থেকে খালি হাতেই ফিরতে হচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে! পাশাপাশি এদিনের ঘটনা যেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের করা একই ভুলের উদাহরণ হিসেবে উঠে আসছে। অযোধ্যার রাম মন্দির আর দীঘার জগন্নাথ মন্দির দুটিই কি তবে সমান্তরাল!
মনে করা হচ্ছে বাংলার হিন্দু ভাবাবেগকে কাজে লাগিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জগন্নাথ মন্দির স্থাপন করলেন। এবং সেখানে সাড়ম্বরে রথযাত্রা পালনের প্রস্তুতিও নিলেন। ঠিক যেমন অযোধ্যায় রাম মন্দির গড়ে তুলে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ভেবেছিল ২০১৯ এর লোকসভা ভোটে বিজেপি এবং এনডিএ জোট যে পরিমাণ আসন পেয়েছিল তার থেকে অনেক বেশি আসন পাবে ২০২৪ এর লোকসভা নির্বাচনে এই রাম মন্দির কে কেন্দ্র করেই। রাম মন্দির গঠন করা হলে হিন্দু সম্প্রদায়ের তরফে জয় শ্রীরাম স্লোগান শোনা গেলেও নির্বাচনের ফলাফলে দেখা গেল একেবারেই বিপরীত চিত্র। ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল একেবারেই আশানুরূপ হয়নি নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহদের। ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনেও কি ওই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে চলেছে? যদিও রাজ্যে ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনে এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে কিনা তার সময়ই বলবে। কিন্তু এদিনে দীঘা রথযাত্রায় ভক্ত সমাগমের যে দৃশ্য তা যেন কোথাও তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য আশঙ্কার কারণ। এই জগন্নাথ মন্দির কি সত্যিই আসন্ন নির্বাচনে তৃণমূলের আসন সংখ্যা বাড়াতে পারবে নাকি বিজেপির মতোই আসন সংখ্যা হ্রাস পেতে পারে তৃনমূল কংগ্রেসেরও। ইতিমধ্যে দেখা গিয়েছে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তিনি দাবি করেছেন অনেক বেশি আসনে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হবে তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু দিঘার রথযাত্রার বিভিন্ন দৃশ্য যেন কিছুতেই স্বস্তি দিচ্ছে না শাসক শিবির কে। অনেকেই বলছেন দীঘার রথযাত্রায় ঘটে যাওয়া বেশ কিছু ঘটনা অশনি সংকেতও বটে।
উল্লেখ্য, রথযাত্রার দিন নির্ধারিত সময় দিঘার রথের রশিতে টান পড়ে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে। রথের সঙ্গে হাঁটেন মুখ্যমন্ত্রী। রীতি অনুযায়ী সোনার ঝাড়ু দিয়ে ঝাঁট দেওয়া ও নারকেল ফাটিয়ে রণযাত্রার সূচনা করা হয়৷ সেই একই রকমের দীঘার রথযাত্রার সূচনার প্রস্তুতি নেওয়া হলে পরপর দুটি নারকেল ডান হাত দিয়ে রাস্তায় সজোরে আছাড় দিয়েও ফাটাতে পারেননি মমতা বন্দোপাধ্যায়। দেখা যায় পরে ইসকনের এক সদস্য সেগুলি ফাটান । মুখ্যমন্ত্রীর নারকেল ফাটানোর সেই মুহুর্তের ভিডিওতে প্রকাশ্যেও এসেছে বিভিন্ন মাধ্যমে, এ প্রসঙ্গে বিরোধী দলনেতা সমাজ মাধ্যমে লিখেছেন,’হিন্দু ধর্মীয় পূজা অনুষ্ঠানে নারকেল ফাটানোর মাহাত্ম্য ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে গভীর তাৎপর্য বহন করে। নারকেল ঈশ্বরের কাছে একটি পবিত্র নৈবেদ্য হিসেবে বিবেচিত হয়। এটি ভাঙার মাধ্যমে ভক্ত তার সম্পূর্ণ সমর্পণ ও ভক্তি প্রকাশ করে। এটি ঈশ্বরের প্রতি নিষ্ঠা ও শ্রদ্ধার প্রতীক। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর নারকেল ফাটানোর পদ্ধতি দেখে মনে হচ্ছে উনি নারকেল ফাটাতে অভ্যস্ত নন, বল ছুড়তে অভ্যস্ত, তাই সেই রকম প্রচেষ্টা করলেন !’ দাবি শুভেন্দু অধিকারীর।
পাশাপাশি দিঘার রথের চাকা আটকে গেছে বলেও দাবি করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এবং সেই ভিডিও ইতিমধ্যে প্রকাশ্যে আসতেও দেখা গেছে। রথের চাকা আটকে যাওয়ার দাবি করে শুভেন্দু অধিকারী লিখেছেন,’ভগবান সর্ব শক্তিমান । মহাকুম্ভ কে “মৃত্যু কুম্ভ”, সনাতন ধর্ম কে ‘গন্দা’ ধর্ম বলা, ‘জয় শ্রী রাম’ কে ‘গালাগাল’ বলে উল্লেখ করা, সর্বশেষে তীর্থ ক্ষেত্রের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গিয়ে ধর্ম বিরুদ্ধ আচরণ করা, যেমন মিষ্টি কে প্রসাদ বলে চালানো, এবং তা ধর্মীয় বিধি না মেনে তৈরি করানো ইত্যাদি করলে ভগবানের রোষ হওয়াটাই স্বাভাবিক। তাই রথের চাকা আটকে গেলো, লক্ষণ একেবারেই ভালো নয় ।’
উল্লেখ্য এখন শুধু বিরতি শিবির এই নয় রাজ্যে জুড়ে তৃণমূল বিরোধী হাওয়া বইছে বলে মনে করা হচ্ছে। কিন্তু এই বিরোধিতার প্রভাব কতটা ভোট বাক্সে গিয়ে পড়বে সেটা এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে বলা সম্ভব নয়। কারণ রাজ্য সরকারের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার বেশ কিছু প্রকল্প যার মধ্যে অন্যতম লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প সেটিকে সামনে রেখেই শাসক দল নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে শামিল হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও হবে। তাই দিঘার জগন্নাথ মন্দির আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ভোট বাক্স ভরাতে তৃণমূল কংগ্রেসকে কতটা সাহায্য করে এখন সেটাই দেখার।












Discussion about this post