বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার চালানো হচ্ছে। যেসমস্ত ঘটনা সামনে আসছে তাতে শিউরে উঠার মত। তবে কি তালিবানি শাসনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ? হিন্দু মন্দির ভাংচুর থেকে শুরু করে তাদের উপর লাগাতার অত্যাচারের ঘটনা সামনে এসেছে। এবার সামনে এল সময় বেঁধে দিয়ে হিন্দু পরিবারকে বাড়ি ছাড়া করার ঘটনা। ইতিমধ্যেই সেই ছবি উঠে এসেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এক্ষেত্রে অভিযোগ বিএনপির বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার বলাইশিমুল ইউনিয়নে। তা কেবল একটি সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর হামলা নয় এটা বাংলাদেশের সংবিধান, সভ্যতা, মানবতাবোধের উপর সরাসরি আঘাত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। জানা গিয়েছে,
জুনের মাঝামাঝি সময়ে কুমুরুড়া গ্রামের এক হিন্দু পরিবারের কাছে ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে বিএনপি নেতা মল্লিকের নির্দেশে নাঈম, রাব্বি ও তাদের দলবল। চাঁদা না পেয়ে ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে। আর সেই ছবি ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়াতে।
অসহায় হয়ে পরিবারটি নিজেদের দুর্দশার কথা বলছেন। এই ছবি প্রমাণ করে দিল, বাংলাদেশে কিভাবে সংখ্যালঘু হিন্দুরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। শুধু তাই নয়, তারা রীতিমতো ঘরছাড়া হচ্ছেন। সেটা বাধ্য করাচ্ছে সেখানকার বিভিন্ন নেতারা।
শুধু এই ঘটনা নয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এক হিন্দু শিক্ষকের উপর আক্রমণের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের অফিসে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কুশল বরণ চক্রবর্তীকে ঘিরে হট্টগোল করছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী। ওই দিন তার পদোন্নতির সাক্ষাৎকারের জন্য সময় নির্ধারিত ছিল। কিন্তু শিক্ষকের অভিযোগ, মিথ্যা মামলার জন্য নাকি উদ্দেশ্যমূলকভাবে মব তৈরি করে তাকে পদোন্নতিতে বঞ্চিত করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, তিনি নাকি হিন্দুদের অধিকার রক্ষায় সোচ্চার হয়েছেন। আর সেই কারণেই তাকে প্রাণে শেষ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
গোটা দেশটার কি পরিস্থিতি সেটা অন্য দেশের মানুষ সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে চাক্ষুষ করতে পারলেও সেখানকার সরকার কি করতে পারছেন না? এখানেই থেমে নেই। আমের নাম পরিবর্তন নিয়েও প্রতিবাদ করছেন সেখানকার কট্টরপন্থীরা। একটি ভিডিওতে এক মৌলবি সামনে বসে থাকা মানুষদের উদ্দেশ্যে বলছেন, বাংলাদেশের যত ধরনের আম রয়েছে, সেগুলির নাম হিন্দুদের নামে। যেমন গোবিন্দভোগ, লক্ষণভোগ, কালিভোগ, গোপাল ভোগ। যেগুলি বেশিরভাগই হিন্দুদের দেবতাদের নাম। সেগুলির নাম পরিবর্তন করে সম্রাট আম, সুলতানি আম বলে প্রস্তাব দেন ওই মৌলবি।
এই টুকরো টুকরো ছবিগুলোই বলে দেয় বাংলাদেশের আসল চেহারাটা। যেভাবে কট্টরপন্থী মনোভাব মানুষের মধ্যে রোপন করা হচ্ছে, তাতে গোটা বাংলাদেশ আরও পিছিয়ে পড়ছে তার বিকার অপেক্ষা রাখে না। সংখ্যালঘুদের উপর এই দমন-পীড়নের শেষ কোথায়? সরকার কি শুধুই নীরব দর্শক হয়ে থাকবে? রাষ্ট্র কোথায়? ন্যায়বিচার কোথায়? উঠছে প্রশ্ন।












Discussion about this post