যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে দিয়ে কি কি এজেন্ডা বাস্তবায়িত করতে চায়, সেগুলি নিয়ে বিস্তর আলোচনা চলছে। এবং তারই ধারাবাহিকতায় ওয়াশিংটন ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান উইলসন সেন্টারের দক্ষিণ এশিয়ার বিষয়ক পরিচালক মাইকেল কুগেলম্যান উড্রো বেশ কিছু কথা বলেছেন। যেগুলিতে খানিকটা চাপে পড়েছে ইউনুস তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে কি আমেরিকার ভয়ংকর খেলায় মেতেছে বাংলাদেশ?
কুগেল ম্যান বলছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এই মুহূর্তে বাংলদেশের গণতন্ত্র নিয়ে তেমন কোনও আগ্রহ দেখাচ্ছে না। এবং ওয়াশিংটনের কাছে এখন ঢাকার সঙ্গে সম্পর্কের গুরুত্ব বাণিজ্য ও আঞ্চলিক বৃহৎ শক্তিগুলোর সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার ক্ষেত্রে। সম্প্রতি ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সাম্প্রতিক ফোনালাপে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপত্তা অংশীদারিত্বের বিষয় উঠে আসে বলে খবর। কুগেলম্যানের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইন্দো-প্যাসিফিক নিরাপত্তার অর্থ হল চীনের প্রভাব মোকাবিলা।
এছাড়াও কুগেলম্যান বলেন, বাংলাদেশ এ যাবৎ জোট নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতিতে জোর দিয়ে আসছিল, সেটাতে তারা অটল ছিল। কিন্তু তারা সেটা পারবে কিনা, এই সম্পর্কে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। কারণ এখন পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে কিছু কিছু ক্ষেত্রে কাজ করছেন মহম্মদ ইউনূস। বন্দর, করিডোর ইস্যু নিয়ে। যেটা জানে সকলে। কুগেল ম্যান বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশ নীতিতে উল্লেখযোগ্য কিছু পরিবর্তন নিয়ে এসেছেন। আর্থিক সহায়তা তলানিতে এসে ঠেকেছে। এদিকে বাইডেন প্রশাসনের শেষ দিকে শেখ হাসিনার দেশ থেকে পলায়নের পর গণতন্ত্র পুনর্গঠনের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে উন্নয়ন সহায়তা ও কারিগরি সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষিত শুল্ক নীতিমালার আওতায় আমেরিকা বাংলাদেশের পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। এই সংকট মোকাবিলায় গত এপ্রিলে জরুরি বৈঠক করে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
এরই অংশ হিসেবে নতুন শুল্ক কাঠামো ঘোষণা করেছেন অর্থ উপদেষ্টা, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাঙ্ক্ষিত বাণিজ্য চুক্তি সহজ করার চেষ্টা চলছে। ফলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র যেটা চায় সেটাই বাস্তবায়ন করবে। এবং বাংলাদেশ সরকার সেই পথেই হাঁটবে বলে মনে করা হচ্ছে।












Discussion about this post