শান্তির জন্য নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূসকেই কেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা পদে বেছে নেওয়া হয়েছিল। তা কি কেবল ছাত্রনেতাদের আবদারেই হয়েছিল, নাকি এর পিছনে অন্য কারও হাত ছিল, এই প্রশ্নগুলির উত্তর বিগত ১০-১১ মাসে অনেক কাঁটাছেঁড়া হয়েছে। রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মোটামুটি নিশ্চিত, যে মুহাম্মদ ইউনূস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিগত জো বাইডেন প্রশাসনের খুব ঘনিষ্ট ছিলেন এবং আছেন। তিনি বারাক ওবামা থেকে বিল ক্লিন্টনের মতো ডেমোক্রাট প্রেসিডেন্টদেরও অত্যন্ত ঘনিষ্ট। অর্থাৎ মার্কিন ডিপ স্টেটের সম্পদ মুহাম্মদ ইউনূস। তাঁর নোবেল জয় নিয়েও অনেক প্রশ্ন আছে, যে নোবেল পুরস্কার তাঁকে পাইয়ে দেওয়া হয়েছে, তিনি নাকি অর্জন করেননি। যাই হোক, আজ তিনি বাংলাদেশের প্রথম নোবেলজয়ী অধ্যাপক, এ কথা অস্বীকার করা যাবে না। বিশ্বজোড়া তাঁর খ্যাতি। কিন্তু তিনি যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাতের পুতুল এবং কয়েকটি উদ্দেশ্য নিয়েই তাঁকে বাংলাদেশের প্রধান হিসেবে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে, এটা দিনে দিনে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বছরের মার্চ মাসেই প্রকাশ্যে দাবি করেছিলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক চক্রান্ত চলছে। তিনি এও দাবি করেছিলেন, বাংলাদেশে ভূখণ্ড সেন্ট মার্টিন দ্বীপে একটি সামরিক ঘাঁটি তৈরি করতে চায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, তিনি তা হতে দেবেন না। আবার তিনি এও দাবি করেছিলেন, মিয়ানমার-বাংলাদেশ ও ভারতের কিছু অংশ নিয়ে একটি আলাদা খ্রিস্টান রাষ্ট্র গঠনের চক্রান্ত চলছে। কয়েকজন সাদা চামড়ার মানুষ তাঁকে এই প্রস্তাবও দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি রাজি হননি বলেই দাবি করেছিলেন বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেথ হাসিনা। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, হাসিনা এই দাবি করার তিন মাসের মাথায় বাংলাদেশে বড় ধরণের বিদ্রোহ হল, তীব্র হাসিনা বিরোধী আন্দোলন হল, শেষে গণঅভ্যুত্থানে তাঁর ও তাঁর সরকারের পতন হল। আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, হাসিনার পতনের মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সুদূর ফ্লান্স থেকে উড়ে এলেন মুহাম্মদ ইউনূস, প্রধান উপদেষ্টার পদে আসীন হলেন। আবার কেউ কেউ অস্ট্রেলিয়া বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসে অন্যান্য উপদেষ্টা বা সরকারি কোনও কমিশেনের শীর্ষ পদ অলংকৃত করলেন। দাবি, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং বিভিন্ন কমিশন বা সরকারি কমিটির চেয়ারম্যানদের অধিকাংশই বিদেশী বা দ্বৈত নাগরিক। বাংলাদেশের সঙ্গে তাঁদের বহু বছর কোনও যোগাযোগ ছিল না। অথচ তাঁরাই এখন দেশ পরিচালনা করছেন।
ক্ষমতা হারানোর পর শেখ হাসিনা যেমন ভারতে পালিয়ে আসেন, তেমনই দীর্ঘসময় লোকচক্ষুর আডা়লে ছিলেন। এরপর ধীরে ধীরে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় আত্মপ্রকাশ করতে শুরু করেন। তবে তিনি আজ পর্যন্ত অডিও বার্তা দিয়ে চলেছেন, সরাসরি ভিডিওর মাধ্যমে সামনে আসেননি। কিন্তু অডিও বার্তার মাধ্যমেই তিনি মুহাম্মদ ইউনূসকে আক্রমণ করে চলেছেন এবং মুহাম্মদ ইউনূসের মুখোশ খুলে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এক অডিও বার্তায় তাঁর এমনই এক দাবি ছিল, “ইউনুস বাংলাদেশকে আমেরিকার কাছে বিক্রি করে দিচ্ছে”। বাংলাদেশের রাজনীতিতে পোড় খাওয়া শেখ হাসিনা কিন্তু বিগত ১৫ বছর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীও ছিলেন। ফলে প্রশাসন ও পুলিশের মধ্যে তাঁর বিশ্বস্ত লোকজনের অভাব নেই। যার কারণে তিনি ভারতে বসেও বহাল তবিয়তে বাংলাদেশের অন্তবর্তীকালীন প্রতিটি পদক্ষেপের খবরাখবর পেয়ে যান। ফলে তাঁর দাবির যে কিছু সারবত্তা আছে, এটা বলাই বাহুল্য।
এখন প্রশ্ন হল, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কেন ফোন করেছিলেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে? কেউ কেউ বলছেন, আসলে মুহাম্মদ ইউনূসকে যে যে দায়িত্ব দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র তা পুরোটা মেটাতে পারেননি প্রধান উপদেষ্টা। সেই কারণেই ক্ষুব্ধ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফোন করে নাকি ধমকও দিয়েছেন ইউনূসকে। আবার কেউ কেউ দাবি করছেন, ইউনূস যেভাবে বাংলাদেশে অরাজকতা সৃষ্টি করছেন, জঙ্গি-জিহাদিদের জেল থেকে ছেড়ে দিয়েছেন, সেটা নিয়েই ইউনূসকে ধমক দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে ইউনূস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে রাখাইন করিডোর, সেন্ট মার্টিন দ্বীপ বা চট্টগ্রাম বন্দর দিতে পারুক বা না পারুক, তিনি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছতে অনেকটাই সফল হয়েছেন বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। কেউ আবার বলছেন, রাখাইন করিডোর ও সেন্ট মার্টিন দ্বীপে মার্কিন ঘাঁটির কাজ অনেকটাই সেরে ফেলেছেন ইউনূস। তাই তাঁর কাজ ফুরিয়েছে, এবার সেফ এগজিটের বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কাজ করছে।












Discussion about this post