এই মুহূর্তে বিএনপি, জাতীয় পার্টি-সহ একাধিক রাজনৈতিক দলের একটাই দাবি, দ্রুত নির্বাচন। অন্যদিকে জামাত, এনসিপি ও অন্যান্য মুসলিম কট্টরপন্থী সংগঠনগুলির দাবি, আগে সংস্কার ও বিচার শেষ করতে হবে, তারপর নির্বাচন। ঠিক এই অবহে বাংলাদেশের অন্তরবর্তীকালীন সরকার নির্বাচন নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি করে চলেছেন অনবরত। রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এটা একটা সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ট কয়েকজন উপদেষ্টার। নির্বাচন নিয়ে যত ধোঁয়াশা তৈরি করা যাবে, ওই বিএনপির মধ্যে অস্থিরতা তৈরি হবে। যা ক্রমশ গৃহযুদ্ধের দিকে নিয়ে যাবে বাংলাদেশকে। একটু লক্ষ্য করলেই বোঝা যাবে, ইউনূস সরকার কিছুটা হলেও ভারতের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছে। এর নির্দিষ্ট কারণও আছে। কারণটা হল, গৃহযুদ্ধ বা সেই ধরণের কোনও পরিস্থিতি তৈরি হলেই বাংলাদেশের রাজনীতিতে তৃতীয় কোনও পক্ষের প্রবেশ ঘটবে। আবার আওয়ামী লীগের নেতাদেরও বাংলাদেশে ঢুকে পড়া অস্বাভাবিক নয় তখন। এটাই একমাত্র রাস্তা, যেখানে সাপও মরবে, লাঠিও ভাঙবে না।
বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের দোসর ছাত্র নেতারা বা তাঁর প্রেস সচিব শফিকুল আলম বিগত কয়েকদিন এমন কিছু মন্তব্য করেছেন, যা শুনে মনে হচ্ছে একটা বড় ধরণের গোলমাল বাঁধা শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা। তাঁদের প্রত্যেকের টার্গেট ভারত। অর্থাৎ ভারতকে ক্রমাগত উস্কানি দেওয়া, যাতে ভারত আরও বড় কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করে। ওয়াকিবহাল মহল বলছে, জাতীয় নাগরিক পার্টি এখনও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার মতো জায়গায় পৌঁছতে পারেনি। আগামী ফেব্রুয়ারী বা এপ্রিল, যখনই ভোট হোক, এনসিপি ভোটে লড়লে বেশি আসন পাবে না। কারণ তাঁদের জনভিত্তি তৈরিই হয়নি। জামাতের অবস্থাও অথৈবচ, তাঁরাও ভোটে লড়ে খুব একটা সুবিধা করতে পারবে না। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ফায়দা তুলবে বিএনপি। কারণ তাঁদের জনভিত্তি আছে, সভ্য সমর্থকও আছে। আর এই মুহূর্তে আওয়ামী লীগের অস্তিত্ব নেই বাংলাদেশে। ফলে বিএনপি নির্বাচনে তাড়া দেবে এটাই স্বাভাবিক। আর এখানেই সব পক্ষকে ল্যাজে খেলাচ্ছেন মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি স্পষ্ট করে জানাচ্ছেন না কবে তাঁর সরকারের মেয়াদ শেষ হবে। কবে সঠিক নির্বাচন হবে অথবা কবে জুলাই সনদ ঘোষণা হবে। তাঁর সব বক্তব্যেই যদি-কিন্তু যোগ থাকছে।
ওয়াকিবহাল মহলের বক্তব্য, মুহাম্মদ ইউনূস সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মদতে বাংলাদেশের ক্ষমতায় এসেছেন। কিন্তু সেটা ছিল জো বাইডেনের প্রশাসন। এখন মার্কিন মসনদে ডোনাল্ড ট্রাম্প, যিনি ক্ষমতায় এসেই জানিয়ে দিয়েছিলেন ইউএস এআইড-এর অর্থে ও মদতে বাংলাদেশে পালাবদল হয়েছিল। মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সম্পর্ক আদায় কাঁচকলায়। ফলে যে উদ্দেশ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইউনূসকে বাংলাদেশের মসনদে বসিয়েছিল সেটা পূরণ হল কিনা সেটা দেখা হল কয়েকমাস। কিন্তু ইউনূস ব্যর্থ। সেন্ট মার্টিন হোক বা রাখাইন করিডোর, যুক্তরাষ্ট্রকে কোনোটাই দিতে পারেননি ইউনূস। ফলে এবার তাঁকে শাস্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। বাংলাদেশের উপর অতিরিক্ত ৩৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়ে দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন, এমনকি এই নিয়ে কোনও আলোচনায় যেতেও রাজি নন তাঁরা। আবার বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ নিয়েও ধমক দিচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ফলে ইউনূস বুঝে গিয়েছেন, তাঁর ওই রাস্তা বন্ধ। অন্যদিকে চিন ইউনূসকে আর বিস্বাস করতে নারাজ। তাঁরা বিএনপি এবং জামাত নেতাদের বেজিং ডেকে সরু লাইন করতে ব্যাস্ত। চিনও এখন বিএনপির সুরে দ্রুত নির্বাচনের চাপ দিচ্ছে। ফলে ইউনুসের সামনে চিনের রাস্তাও বন্ধ। এই পরিস্থিতিতে একমাত্র তাঁর আশা ও ভরসা ভারত। কিন্তু ক্রমাগত ভারত বিরোধিতা করে তিনি এখন নয়া দিল্লির বিরাগভাজন হয়েছেন। তাহলে উপায়?
একমাত্র উপায় বাংলাদেশে একটা গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করা। আর সেটা হলেই তৃতীয় কোনও পক্ষ, যেমন ভারত ঢুকে পড়বে পরিস্থিতি মোকাবিলায়। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, বাংলাদেশে বিশৃঙ্খল ও অরাজক পরিস্থিতি তৈরি হলে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন সহজ হবে। আওয়ামী লীগের সাথে নেত্রী শেখ হাসিনাও সহজে বাংলাদেশে ঢুকে পড়তে পারবেন। ভারতও এমন একটা সুযোগ খুঁজছে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের মসনদে বসানোর। আবার ইউনূসকে একমাত্র “সেফ এগজিট” দিতে পারে ভারতই। সবমিলিয়ে ইউনূসের এখন শেষ ভরসা ভারত, তাই হয়তো হাঁড়িভাঙা আম দিয়ে শুরু, তৈল মর্দন পালা।












Discussion about this post