গত বছর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতা বিরোধী অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের হয়েছে। তার বিচার প্রক্রিয়াও চলছে। এমনকি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তারই আমলের এক পুলিশ কর্তাকে জোগাড় করে রাজসাক্ষী করা হচ্ছে। এদিকে বিবিসি গণমাধ্যম একটি অডিও ক্লিপ প্রকাশ্যে এনেছে। ওই ১৮ সেকেন্ডের অডিওতে শোনা যাচ্ছে, ২০২৪ সালে গণ অভ্যুত্থানের সময় শেখ হাসিনা পুলিসকে ছাত্রদের উপর গুলি চালানোর নির্দেশ দিচ্ছেন। অর্থাৎ এই মুহূর্তে গোটা পরিস্থিতি হাসিনার বিপরীতমুখী। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে ভারতের কি অবস্থান? এমন প্রাসঙ্গিক প্রশ্নই উঠতে শুরু করেছে। ভারত এই মুহূর্তে কতটা মৌলিক পরিবর্তন ঘটাতে চাইছে?
জানা যাচ্ছে, ভারত এই মুহূর্তে কোনও অবস্থান পরিবর্তন ঘটায়নি। এমনকি এরপর আওয়ামীলীগের বিভিন্ন লাইভ অনুষ্ঠানে এসেও কোনরকম এই নিয়ে মন্তব্য করেননি শেখ হাসিনা। ফলে এই অডিও ক্লিপ সামনে আসতেই অনেক বলছেন, শেখ হাসিনাই হলেই এই সমস্ত হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতা। সেই পরিস্থিতিতে ভারত হাসিনাকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দিক। এমন মন্তব্য করা হচ্ছিল, কিন্তু এর কোনও বাস্তবতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। ভারত এই বিষয়ে কোনও মন্তব্যই করেনি। বিবিসি বলছে, এই নিয়ে ভারতের বিভিন্ন নীতি আয়োগের কর্মকর্তারা বলছেন, এগুলি মেনে নেওয়ার কোনও প্রশ্নই ওঠে না।
এমনকি আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি কোনও রাষ্ট্রপ্রধান অন্য একটি দেশে আশ্রয় নেন, এবং সেই রাষ্ট্র যদি আদালতের মাধ্যমে ওই রাষ্ট্রপ্রধানকে দোষী সাব্যস্ত করে, তবে আশ্রয় দেওয়া রাষ্ট্র যদি মনে করে, রাজনৈতিক প্রহিংসার জন্য এটা করা হয়েছে, তবে তারা চাইলে নাও ফেরত দিতে পারেন। হাসিনা হলেন, ভারতের জন্য আস্থাভাজন রাজনীতিবিদ। ফলে সেই বিশ্বাস যোগ্যতা অটুট রাখবে ভারত। এমনকি যখন চ্যাথাম হাউসে মহম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বৈঠক হল, তখন ইউনূস হাসিনার বক্তব্যের বিরোধিতা করে বলেছিলেন, সেগুলি যেন বন্ধ করা হয়। তখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী জবাবে বলেছিলেন, সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে লাগাম টানা যায় না কাওকে। অর্থাৎ বোঝা যায়, ভারত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কোনও নতুন সিদ্ধান্ত নেয়নি।












Discussion about this post