বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল ভাঙারি পণ্যের ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে। এই হত্যাকান্ডের পিছনে নাকি বিএনপি সমর্থকদের হাত আছে বলে দাবি। সূত্রের খবর, এই হত্যার আগে ডেকে নিয়ে তাঁকে পিটিয়ে এবং ইট-পাথরের টুকরা দিয়ে আঘাত করে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশ থেঁতলে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তাঁকে বিবস্ত্র করা হয়। এরপর তাঁর শরীরের ওপর উঠে লাফায় কেউ কেউ। এই নৃশংস হত্যার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। অর্থাৎ কে বা কারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তা ভিডিওয় দেখা গিয়েছে। এমনকি ওই ঘটনার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ, মামলার এজাহার, নিহত লাল চাঁদের স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা এবং তদন্ত–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বর্ণনায় হত্যাকাণ্ডের এমন বিবরণ উঠে এসেছে।
এখানেই প্রশ্ন উঠছে, কেন এই ধরণের হত্যা ঠেকানো যাচ্ছে না? সবচেয়ে বড় বিষয়, এ ঘটনায় যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা-কর্মীদের যুক্ত থাকার কথা জানা গিয়েছে। স্থানীয় সংবাদপত্র সূত্রে জানা যাচ্ছে, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে মূল কারণ চাঁদাবাজি। অর্থাৎ, চাঁদা চেয়ে না পায়েই এত আক্রোশ। এখন প্রশ্ন, এই চাঁদা কে বা কারা চেয়েছিল?
বাংলাদেশ সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, লাল চাঁদ হত্যার ঘটনায় রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় বৃহস্পতিবার একটি মামলা হয়েছে। নিহতের বোন মঞ্জুয়ারা বেগম এই মামলাটি দায়ের করেন। এতে ১৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে আরও ১৫-২০ জনকে। কিন্তু এখনও অধরা মূল অভিযুক্তরা। উল্টোদিকে ভাঙারি পণ্যের ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগ হত্যার ঘটনা রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অর্থাৎ বিএনপি সরাসরি এই হত্যাকান্ড থেকে নিজেদের দায় এড়িয়েছে। যদিও এর আগে এই ঘটনায় যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা-কর্মীদের সম্পৃক্ততার কথা জানা গেছে। পাঁচ নেতা-কর্মীকে বহিষ্কারের কথাও জানিয়েছিল বিএনপি। ফলে বাংলাদেশে এই ধরণের হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেই চলেছে। যার দায় এড়াতে পারবে না মুহাম্মদ ইউনূস সরকার। সে বিএনপি বা এনসিপি বা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন যেই দায়ী হোক না কেন।
বাংলাদেশে যে এখনো অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা চলছে তা এই ঘটনা থেকে পরিষ্কার। প্রকাশ্য দিবালোকে এক ব্যক্তিকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা এবং তারপর পাথর দিয়ে থেতলে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিন্ত করা নৃশংস বললেও কম বলা হয়। মুহাম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ভারত এই ধরনের মদ জাস্টিস ও সংখ্যালঘুদের হত্যা নিয়ে বারবার সতর্কতা অবলম্বন করতে পরামর্শ দিচ্ছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ওয়াকিবহাল মহলের মতে এই ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ড কেন ঘটছে সেটা মোটামুটি নিশ্চিত। চাঁদাবাজি বা তোলাবাজির মতো অভিযোগ এখনও বাংলাদেশে মেটেনি। না সেনাবাহিনী না পুলিশ না অন্তর্বর্তীকারিন সরকারের প্রশাসন কেউই এই ব্যাপারে উদ্যোগী হয়নি। সেই কারণেই লাল চাঁদের মত ছোট ব্যবসায়ীদের প্রকাশ্য রাস্তায় মরতে হচ্ছে। যার দায় নিতে হবে মুহাম্মদ ইউনুসকে।
সূত্রের খবর দিন কয়েক আগেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ফোন করেছিলেন মুহাম্মদ ইউনুসকে। এরপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চার্জ দ্যা অ্যাফেয়ার্স দেখা করেছিলেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সঙ্গে। প্রত্যেকেই বাংলাদেশের বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ধমক দিয়েছিলেন বলেই খবর। কিন্তু তারপরেও প্রকাশ্য দিবালোকে এই ধরনের হত্যাকাণ্ড অনেক প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন চূড়ান্ত ব্যর্থ মুহাম্মদ ইউনূস ও তাঁর প্রশাসন।












Discussion about this post