এ যেন মড়ার উপরে খাঁড়ার ঘা! মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশী পণ্যে ৩৫ শতাংশ অতিরিক্ত ট্যারিফ চাপানোর পর এমনিতেই সংকটে পড়েছিল বাংলাদেশ। এবার বাংলাদেশে অর্ডার করা বেশ কিছু কনসাইনমেন্ট স্থগিত করে দিল বিখ্যাত মার্কিন বিপননকারী সংস্থা ওয়ালমার্ট। এ ব্যাপারে শুধু সিঁদুরে মেঘই দেখছেন না বাংলাদেশের বস্ত্র ব্যবসায়ীরা, বরং তাঁরা দিনেদুপুরে চাঁদ-তারা দেখছেন এখন।
ঘটনা হল, বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ডঃ খলিলুর রহমান দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন মুলকে অবস্থান করছেন। মজার বিষয় তিনি সরকারি কাজে “ছুটি” নিয়ে আমেরিকায় গিয়েছিলেন। জানা যায় তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। কিন্তু তার দৌত যে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে সেটার প্রমাণ হল ডোনাল্ড ট্রাম্পের চিঠি। ওই চিঠিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করে দিয়েছেন অতিরিক্ত ৩৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে বাংলাদেশকে। অর্থাৎ সবমিলিয়ে ৫১ শতাংশ।
যদিও বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে এ সপ্তাহেও মার্কিন শুল্ক কমানোর লক্ষ্যে নতুন করে আলোচনায় বসছে বাংলাদেশ। এজন্য সরকারের বাণিজ্য উপদেষ্টা ও বণিজ্য সচিব ইতোমধ্যে ওয়াশিংন পৌঁছেছেন। প্রশ্ন উঠছে এখানেরই, কেন এতদিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ডঃ খলিলুর রহমানের ওপর ভরসা করতে হল বাংলাদেশকে? তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় কি সাফল্য পেলেন? কেনই বা বাংলাদেশের উপরে অতিরিক্ত ৩৫ শতাংশ শুল্ক চাপানো হল? শুল্ক নিয়ে আলোচনার জন্য বাণিজ্য উপদেষ্টা ও বাণিজ্য সচিবই যথেষ্ঠ। সেখানে নিরাপত্তা উপদেষ্টার কাজ কী? তাহলে কি অন্য কোনও বিষয়ে আলোচনার জন্য এতদিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন খলিলুর রহমান? ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় বইছে। কেউ কেউ বলেছেন, মার্কিন সরকারের সাথে নিরাপত্তা বিষয়ে কোনও গোপন চুক্তির পাঁয়তারা করছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। হতে পারে সেটা রাখাইনে কথিত ‘মানবিক করিডোর’ কিংবা চট্টগ্রাম বন্দর হস্তান্তর ইস্যু। আর এই দুটি চুক্তির কারণে চিনের সঙ্গে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের অবনতি হওয়ার আশঙ্কা করছিলেন অনেকে। এবার সেই আশঙ্কাই সত্যি হতে চলেছে।
উল্লেখ্য, ২৭, ২৮ ও ২৯ জুন খলিলুর রহমানের চিনে যাওয়ার কথা ছিল এসসিও বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য। কিন্তু তিনি যাননি, বা তাঁর সফর বাতিল হয়েছে। জানা যাচ্ছে, চিন ডঃ খলিলুর রহমানের ভিসা বাতিল করেছে। এই কারণেই তাঁর চিন সফর বাতিল করতে হয়েছে। তাঁর সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সচিবেরও বেজিং যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পুরো সফর বাতিল হয়েছে বলেই খবর। ফলে স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, কেন চিন খলিলুর রহমানকে ভিসা দিল না? তাহলে কি সত্যিই ওই মার্কিন নাগরিক আমেরিকার স্বার্থ দেখছেন, যা চিনের পছন্দ হচ্ছে না? ওয়াকিবহাল মহল অন্তত তাই মনে করছে। আর এটা যদি সত্যি হয়, তাহলে মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে ভয়ানক একটি দিন আসতে চলেছে।












Discussion about this post