বিভিন্ন সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস গিয়েছিলেন ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে। গোপালগঞ্জে নিরস্ত্র আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ওপর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গুলি চালানোর ঘটনায় যখন গোটা বিশ্বেই চর্চা চলছে তখন প্রধান উপদেষ্টার সেনাভবনে যাওয়া খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। তবে তাঁর ক্যান্টনমেন্টে যাওয়ার উদ্দেশ্য ছিল ভিন্ন। জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উচ্চতর কর্মকর্তাদের জন্য প্রমোশন বোর্ডের সভায় গিয়েছিলেন। জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশ সেনার প্রমোশন বোর্ডে উপস্থিত ছিলেন প্রায় ৩২ জন মেজর জেনারেল, ল্যাফটান্যান্ট জেনারেল সহ উচ্চ কর্মকর্তারা। সেখানে মুহাম্মদ ইউনূস প্রায় ১৭-১৮ মিনিট বক্তৃতা করেন। বিভিন্ন সূত্র দাবি করছে, ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে প্রধান উপদেষ্টা একদিকে যেমন গোপালগঞ্জের পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য সেনাবাহিনীর ভুয়সী প্রশংসা করেন। অন্যদিকে গত বছর ৫ আগস্ট গণ অভ্যেউত্থানে বা তথাকথিত বিপ্লবের সময় সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশংসায় ভরিয়ে দেন। অর্থাৎ, সেনাবাহিনীর প্রতি তিনি ভরসা রাখছেন সেই বার্তাই দিতে চেয়েছেন। রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এটা মুহাম্মদ ইউনূসের মস্ত চাল, বা মাস্টারস্ট্রোক হতে পারে।
জানা যাচ্ছে, এদিন ক্যান্টনমেন্টে মুহাম্মদ ইউনূস যে ১৭-১৮ মিনিট ভাষণ দিয়েছেন তাতে বেশিরভাগটাই ছিল গণ অভ্যেউত্থানের সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নীরব ভূমিকা সম্পর্কে। সেই সঙ্গে তিনি ক্যান্টনমেন্টে দাঁড়িয়ে এও দাবি করেছেন, “আমি বলবো, শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনকালে নাকি বাংলাদেশ সেনার পেশাদাড়িত্ব ধ্বংস করে দিয়েছেন”। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, প্রধান উপদেষ্টা আসলে সেনাবাহিনীর যে অংশ হাসিনা বিরোধী বা ওয়াকার বিরোধী তাঁদেরই বিশেষ বার্তা দিয়ে এলেন। কারণ, এদিনের ভাষণে মুহাম্মদ ইউনূস ভারতের নাম না নিয়ে কৌশলে ভারতকে নিয়ে সতর্ক করেছেন সেনাকর্তাদের। তাঁর ভাষণের একটি অংশে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের একটি প্রতিবেশী দেশ, নিজেদের তাঁরা অনেক বড় মনে করে। তাঁরা আমাদের নানা ভাবে সমস্যার মধ্যে ফেলছে, আমাদের হেয় করছে। সেই প্রতিবেশী দেশ সম্পর্কে মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে সতর্ক থাকতে পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, “বাংলাদেশের সামনে এক ভয়ঙ্কর দিন আসতেছে”। অর্থাৎ মুহাম্মদ ইউনূস একটি সম্ভাব্য ঝুঁকির কথা বলেছেন। আর কারও বুঝতে অসুবিধা নেই, যে এই প্রতিবেশী দেশটি হল ভারত। ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে মুহাম্মদ ইউনূস গিয়ে দাবি করে আসেন, যে তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে দেশে-বিদেশে ভয়ানক তথ্য সন্ত্রাস ছড়ানো হচ্ছে। এতে বাংলাদেশেরই বদনাম হচ্ছে। এখানেও তাঁর অভিযোগের তির ভারতের দিকে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের ক্যান্টনমেন্টে যাওয়া এবং সেখানে তাঁর তাৎপর্যপূর্ণ ভাষণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, গোপালগঞ্জে আওয়ামী সমর্থকদের ওপর গুলি চালিয়ে এমনিতেই প্রবল সমালোচিত হচ্ছে সেনাবাহিনী। অন্যদিকে, জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের সঙ্গে মুহাম্মদ ইউনূসের যে নরম-গরম সম্পর্ক নিয়ে চর্চা চলছিল, সেটাও এই মুহূর্তে কি অবস্থায় আছে সেটা বোঝার বিষয় ছিল। যা বোঝা যাচ্ছে, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান গোপালগঞ্জ নিয়ে চুপ থাকায় মনে হচ্ছে তিনিও ইউনূসকে নিরবে সমর্থন করছেন। অপরদিকে, ক্যান্টনমেন্টে গিয়ে সেনাবাহিনীর উচ্চতর কর্মকর্তাদের সামনেই বাংলাদেশে যুদ্ধের পরিস্থিতি এবং ভারতকে নিয়ে প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়ে বুঝিয়ে দিলেন, সেনাপ্রধানকেও তাঁর কথায় চলতে হবে। কিন্তু যে প্রশ্নটা এখন উঠছে, বাংলাদেশের সামনে কীভাবে ভয়ঙ্কর দিন আসতেছে? তাহলে ভারত বড় কিছু পরিকল্পনা করছে, তার আভাস পেয়েছেন কি মুহাম্মদ ইউনূস!












Discussion about this post