গতবছর ৫ ই আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটেছে। কোটা বিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটানো হয়েছে। সেই আন্দোলনের এক বছর পার হয়ে গেল। এই জুলাই আন্দোলনের বর্ষপূর্তি উদযাপন করতে ৩৬ দিনে কর্মসূচি নিয়েছে মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। শুরু হয়ে গিয়েছে পয়লা জুলাই থেকে। নামও দেওয়া হয়েছে। জুলাই স্মৃতি উদযাপন অনুষ্ঠানমালা। এদিকে জুলাই আন্দোলনের বর্ষপূর্তি উদযাপন চলাকালীনই দেশের অন্দরে ঘটে গিয়েছে বড়সড়ো বিমান দুর্ঘটনা। সোমবার বায়ুসেনার F7 বিমান ভেঙে পড়ে মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজ এর ওপর। নিহত হয়েছেন ৩০ জনের উপর। আহতদের সংখ্যা আরো বেশি। এই ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে বাংলাদেশের মানুষ। এদিকে দুর্ঘটনার বড় বন্ধ করা হয়নি এইচএসসি পরীক্ষা। এতে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন পড়ুয়ারা। শিক্ষা উপদেষ্টা এবং শিক্ষা সচিবের পদত্যাগের দাবিতে সচিবালয়ের বাইরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন তারা। এই পরিস্থিতিতে অনেকে বলছেন, যেভাবে রাজপথে ছাত্র ডাক দিচ্ছে, তাতে এই অগাস্ট মাসেই কি ইউনূসের ক্ষমতাচ্যুত হতে চলেছে? শুধু তাই নয়, একটা সময় বিক্ষোভ চরম আকার ধারণ করলে গেট ভেঙে ঢুকে পড়ে সচিবালার ভিতরে। যা নিয়ন্ত্রণ করতে হিমশিম খায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। উত্তাল হয়ে ওঠে রাজধানী ঢাকা। মোতায়ন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। দেখুন সেই বিক্ষোভ
বিক্ষোভ ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী পড়ুয়াদের ওপর লাঠিচার্জ করে। আরও তীব্র আকার ধারণ করে আন্দোলন। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন বহু ছাত্র। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশে ধস্তাধস্তি লক্ষ্য করা যায়। এমনকি বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাদানে গ্যাসের সেল ফাটানো হয়। ছোরা হয় টিয়ার গ্যাস। আহত হন ৭৫ জন শিক্ষার্থী। তাদের অবস্থা গুরুতর করে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। কি অভিযোগ করছেন বিক্ষোভকারীরা শুনুন
এর কয়েকদিন আগেই চট্টগ্রাম কক্সবাজারে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা কর্মীরা রাস্তায় নামে। এমনকি পুলিশের সঙ্গে মেতাকর্মীদের সংঘর্ষ তৈরি হয়। এটি দুপক্ষের ১৯ জন আহত হয়েছেন বলে খবর। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা অভিযোগ করেন,তাদের উপর পুলিশ হামলা চালিয়েছে। এদিকে পুলিশ বলে তারা মব সৃষ্টি করেছিল। এরপর পটিয়া থানা ঘেরাও করে ছাত্ররা। পরিস্থিতি আর উত্তপ্ত হয়ে ওঠ। খন্ড খন্ড বিক্ষোভ শুরু হয়। অবরুদ্ধ হয়ে পরে কক্সবাজার মহাসড়ক। সেখানে স্লোগান দিয়ে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু জাহেদ মহম্মদ নাসমুলের অপসারণ দাবি করে তারা। তার জানি বিক্ষোভ শুরু করে বিক্ষুব্ধরা। অর্থাৎ দফায় দফায় আন্দোলন শুরু হয়েছে বাংলাদেশ জুড়ে। আর সর্বক্ষেত্রেই পুলিশ কাটগড়ায়। এমনকি মহম্মদ ইউনূসের স্নেহধন্য ছাত্ররাও অভিযোগ করেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। এখন বাংলাদেশের সাধারণ ছাত্ররাও পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছে। যদিও কেউ কেউ বলছেন, পুলিশ যা করছে ইউনূসের অঙ্গলি হেলনে করছে। ঢাকার পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, আরো একটি বড় আন্দোলনের পথে কি এগোচ্ছে বাংলাদেশ? উঠে আসছে এমন প্রশ্ন।












Discussion about this post