বাংলাদেশের যা বর্তমান পরিস্থিতি তাতে যে কোনও দিন দেশে ফিরবেন শেখ হাসিনা। আর মহম্মদ ইউনূসের পতন শুধু সময়ের অপেক্ষা। বলছে বিশেষজ্ঞ মহল। ১১ মাস আগে ক্ষমতা হাতে নেওয়ার সময় যে স্বপ্ন দেখিয়েছিল গোটা দেশের মানুষকে, তা বাস্তবায়ন তো দূর, বরং পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে। এমনকি ছাত্রদের সামনে এনে দেওয়া হয়েছিল, একাধিক প্রতিশ্রুতি। কিন্তু পূরণ হয়নি। বোঝানো হয়েছিল, শেখ হাসিনার আমলে ভারত বাংলাদেশে আধিপত্য তৈরি করেছে। আর সেটা করতে দিয়েছিলেন হাসিনা। কিন্তু এখন বাংলাদেশ স্বাধীন। ভারতকে কোনওভাবে নাক গলাতে দেওয়া হবে না। এমনকি আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছিলেন, ২৬ লক্ষ ভারতীয় বাংলাদেশে কাজ করছে। তাদের তাড়িয়ে সম পরিমাণ বাংলাদেশিকে কাজে ঢোকাবো। কিন্তু উল্টে দেখা গেল দেশ বিপথে চালিত হচ্ছে। খুন, ধর্ষণ, রাহাজানি রেকর্ড হারে বাড়তে থাকে শেষ ১১ মাসে। বেড়েছে অর্থাভাব, শিল্প কারখানা বন্ধ, ছিনতাই। যেটা শেখ হাসিনার আমলে অনেকটাই কম ছিল। পরিস্থিতি দেখে ছাত্রদের মহ ভঙ্গ হচ্ছে। যে ছাত্ররা ইউনূসের কথার সঙ্গে তাল দিত, এখন তারাই তার বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগঠিত করছে। তারাই এখন বলছে, আমরাই শেখ হাসিনাকে দেশ থেকে তারিয়েছি। এবার আমরাই তাকে ফিরিয়ে আনবো।
এমনকি ইউনূসের সরকারের বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়াতে সমালোচনা করলেই, তার বাড়িতে ইউনূসের বাহিনী পৌঁছে যাচ্ছে। প্রকৃত সাংবাদিকদের মুখ বন্ধের চেষ্টা চালাচ্ছেন। গোপালগঞ্জে গোটা বিশ্ব দেখেছে, কিভাবে ইউনূসের ক্যাডার বাহিনী বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তার উপর বিমান দুর্ঘটনা ও পরীক্ষা স্থগিত না করাকে কেন্দ্র করে সচিবালয়ের ভিতর আন্দোলনরত পড়ুয়াদের উপর লাঠিচার্জ ঘিরে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে ছাত্ররা। এখন তারা তাদের বিক্ষোভের ঝাঁঝ আরও জোরালো করেছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই শুরু। এই আন্দোলনের পথ ধরেই শেখ হাসিনা ফিরে আসবেন। ছাত্ররাই তাকে ফিরিয়ে আনবে।
যে ছাত্রনেতারা অর্থাৎ এনসিপি নেতারা আন্দোলন করে একটি সরকারকে হয়েছিল, এখন তারা সেনাবাহিনী ও পুলিসকে নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। অনেকে বলছেন, মেটিকুলাস ডিজাইন করে আন্দোলন করা ছাত্রদের এই হাল হবে, সেটা আগেই আন্দাজ করা গিয়েছিল। এবার বাংলাদেশে শুরু হয়েছে, আসল ছাত্রদের আন্দোলন। এমনকি দেশের সেনাপ্রধান, তার উপর ভরসা ছিল বহু মানুষের, তার মুখোশও খুলে গিয়েছে। তাই তার বাহিনী নিরহ মানুষের উপর গুলি চালাতে দুবার ভাবেনি। যখন এই ছাত্ররা ঘিরে ধরবে, তখন তারা যাবে কোথায়?
মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সেইদিনই চারটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধান উপদেষ্টা। সেখানে উপস্থিত ছিল বিএনপি,জামাত, এনসিপি এবং ইসলামী আন্দোলন নামে একটি রাজনৈতিক দল। এটা ঘিরেও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। প্রথমত জামাত এবং বিএনপি বড় রাজনৈতিক দল হলেও এনসিপি এবং ইসলামী আন্দোলন কিসের ভিত্তিতে বড় দল বলে মনে করছেন মহম্মদ ইউনূস? এছাড়াও বৈঠকের পরে যে ছবি সামনে এসেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে প্রধান উপদেষ্টা প্রাণখুলে হাসছেন। এদিকে বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রীয় শোক পালন হচ্ছে দেশজুড়ে। এমনকি বৈঠকের পর প্রেস ব্রিফিং এ বিমান দুর্ঘটনা প্রসঙ্গ ছেড়ে আওয়ামী লীগকে কিভাবে প্রতিরোধ করা যায় তা নিয়ে জানানো হয়েছে। এমনকি এই বিক্ষোভ আন্দোলন নাকি ছাত্রলীগের বলে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। শুধু তাই নয়, ১২০০ ছাত্রের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। সবমিলিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে ছাত্ররা। অনেকে বলছেন, আর বেশিদিন ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না মহম্মদ ইউনূস। খুব তাড়াতাড়ি হাসিনা ফিরবেন বাংলাদেশে।












Discussion about this post