বাংলাদেশে কি মুহাম্মদ ইউনূসের দিন ঘনিয়ে আসছে? বিগত এক বছর ধরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক কানাগলিতে একটা কথা খুব শোনা যায়। সেটা হল, হাসনাত, সারজিস বা আসিফদের বিরাগভাজন হওয়া মানে তাঁর চাকরি গেল। অর্থাৎ, প্রথমে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দলোনের নেতা, পরবর্তী সময় নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা, এই ছাত্ররাই এখন বাংলাদেশের সবচেয়ে ক্ষমতাবান। এ কথা অস্বীকার করতে পারে না কেউই। বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হাসনাত আবদুল্লাহ এই মুহূর্তে সবচেয়ে ক্ষমতাশালী ছাত্র নেতা। বলা ভালো এককভাবেই তিনি ব্যপক ক্ষমতাশালী হয়ে উঠেছেন। এই হাসনাত যদি কারও সম্পর্কে খারাপ কিছু বলে থাকেন, তাহলেই তাঁর জন্য একটা আতঙ্কের কারণ হয়ে ওঠে। আবার হাসনাত যদি কারও সুনাম করেন, তখন বুঝে নিতে হবে, তাঁর পদন্নোতি বা ভালো পদ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আপনাদের নিশ্চই মনে আছে, গত বছর হাসনাত আবদুল্লাহ বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের সম্পর্কে একটি অভিযোগ তুলেছিলেন। যা নিয়ে কম বিতর্ক হয়নি বাংলাদেশে। সেনাপ্রধানের চাকরি হয়তো যায়নি, তবে সেই ঘটনার পর থেকেই সেনাপ্রধানের ভবিষ্যত টলমল হয়ে রয়েছে। এরকম বহু উদাহরণ রয়েছে। বিশেষ করে সরকারি আমলা, পুলিশ আধিকারিকদের অথবা কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ বা অধ্যাপকদের বিরুদ্ধে হাসনাত একবার উষ্মা প্রকাশ করেছেন, কি তাঁর চাকরি নিয়ে টানাটানি হয়েছে। তাঁকে হেনস্থা হতে হয়েছে। কিন্তু এই এক বছরে হাসনাতকে একবারও বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সমালোচনা করতে শোনা যায়নি। যা শোনা গেল বুধবার চাঁদপুরে। এখানে জুলাই পদযাত্রার এক কর্মসূচিতে ভাষণ দিচ্ছিলেন এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ। সেখানেই তিনি ইউনূস সরকারের চরম সমালোচনা করেন।
এই প্রথম সরাসরি ডঃ মুহাম্মদ ইউনূসের সমালোচনা করলেন হাসনাত আবদুল্লাহ। যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে এক আশ্চর্যজনক ঘটনা। কারণ, হাসনাত যখন ইউনূসের সমালোচনা করছেন, তখন ধরে নিতে হবে, তাঁর দিন ঘনিয়ে আসছে। ওই ভাষণে তিনি সরকারেরও সমালোচনা করেছেন। তাঁর কথায়, এই সরকার মানুষের জীবন রক্ষার কাজ সঠিকভাবে করছে না।
চাঁদপুরের সভা থেকেও হাসনাত আওয়ামী লীগকে চরম আক্রমণ করেন। কিন্তু এদিনের ভাষণে তাঁর সুর বাঁধা ছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধেই। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা এখন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমকে নিয়ে মুহাম্মদ ইউনূসের সমালোচনা। গ্রামীণ ব্যাঙ্কের আধিকারিক এবং ইউনূস সাহেবের কাছের মানুষ বলেই তিনি উপদেষ্টা মণ্ডলীতে স্থান পেয়েছেন বলে অভিযোগ হাসনাতের। কিন্তু প্রশ্ন, এই বিষয়টি তিনি এতদিন কেন উত্থাপন করেননি। তাহলে কি ইউনূসের বিরুদ্ধেই এবার সুর চরাতে শুরু করেছে এনসিপি? বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক আহ্বায়ক হাসনাতের কথায়, এই স্বাস্থ্য উপদেষ্টা লইয়া আমরা কী করিব? এবং দুঃখজনক বিষয়, উনি নিজে চিকিৎসা করাইতে সিঙ্গাপুর যায়। আমরা বললে বিড়াল বেজার হয়। উনাকে নিয়ে একবার কথা বলছিলাম, এরপর উনার আমাদের সাথে যোগাযোগ করে না। জনগণ উনাকে যে বেতন দিছে, সেগুলো রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিয়ে এই স্বাস্থ্য উপদেষ্টার অনতিবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত। কোনও কোনও অতি উৎসাহী সমালোচক প্রশ্ন তুলছেন, হাসনাতের কথায় বেড়ালটা কে, মুহাম্মদ ইউনূস নয় তো?











Discussion about this post