একদিকে রাজ্যের তৃণমূল সরকারের দাবি অনুপ্রবেশের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার দায়ি, সীমান্তরক্ষী বাহিনী দায়ি। অন্যদিকে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের দাবি, রাজ্যের অসহযোগিতার জন্য সীমান্তে কাঁটাতাঁর দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কেন্দ্রের দাবি, পশ্চমবঙ্গেই সবচেয়ে বেশি কাঁটাতাঁর বিহীন সীমান্ত রয়েছে। অন্যদিকে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী গ্রাম গুলিতে নারী ও শিশু পাচার আরও সক্রিয় হয়ে উঠছে! আর জন্য বর্তমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতাকেই দায়ি করা হচ্ছে।
বাংলাদেশি মডেল-অভিনেত্রী শান্তা পালের থেকে উদ্ধার ভারতীয় আধার কার্ড! তাঁর কলকাতার বিক্রমগড়ের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একাধিক আধার, ভারতীয় ভোটার এপিক কার্ড, রেশন কার্ড পেয়েছে পুলিশ। প্রশ্ন উঠছে, কোথা থেকে ওই ভুয়ো ভারতীয় পরিচয়পত্র করিয়েছিলেন শান্তা? এমনকি পুলিশ বাংলাদেশি অভিনেত্রীর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু বিজ্ঞাপন পেয়েছে, যেখানে ভোটার, আধার কার্ড করানোর কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া কিছু ফোন নম্বর, ঠিকানাও পেয়েছে পুলিশ। যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতি উত্তাল। যদিও এটা প্রথম কোনও ঘটনা নয়। এর আগেও পশ্চিমবঙ্গের বেশ কয়েকজনকে পাওয়া গিয়েছিল বা পাওয়া যাচ্ছে। যাদের শিকড় বাংলাদেশে আর বাসস্থান এই বঙ্গে। অবৈধ উপায়ে তাঁরা ভারতে এসে সব ধরণের পরিচয়পত্র জোগাড় করে ফেলেছেন। এই নিয়ে বর্তমান শাসকদল সিপিএমকে দোষ দেয়, আবার সিপিএম নেতারা দোষ দিচ্ছেন বর্তমান শসাকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে।
কিন্তু আমাদের এই প্রতিবেদন প্রভাবশালী বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে নয়। বরং এক অন্ধকার সীমান্ত নারী ও শিশুপাচার চক্র নিয়ে। এত কড়াকড়ির মধ্যেও যা বন্ধ হয়নি বলেই বিশেষ অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী গ্রাম গুলিতে নারী ও শিশু পাচার আরও সক্রিয় হয়ে উঠছে! প্রশাসনের হুঁশ নেই। অপরদিকে বিএসএফের দাবি, রাজ্য সরকারের অসহযোগিতায় কাঁটাতাঁরের বেড়াও দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বহু জায়গায়। যেমন বসিরহাটের বিস্তীর্ণ এলাকা, একদিকে সীমান্ত অন্যদিকে রয়েছে সুন্দরবনের জঙ্গল। আর এই জল, জঙ্গল এবং কাঁটাতারহীন এলাকাই বেছে নিচ্ছে নারী ও শিশু পাচারকারীরা! আজ আমরা শোনাবো, তেমনই এক বিক্রি হয়ে যাওয়া অসহায় নারীর জীবনের শিউরে ওঠার গল্প। ১৭ বছর বয়সে পা পড়ার পরই তাঁর দিকে নজর পড়ে পাচারকারীদের। তাঁরা প্রথমে ওই নাবালিকার মাসিকে বিভিন্ন প্রলোভনে বশ করে। ভারত দেখানোর নাম করে তাঁকে বাড়ি থেকে নিয়ে আসে নিজের মাসি। সেই মাসির সঙ্গে পাচারকারীদের বোঝাপড়ায় ওই নাবালিকাকে পাকাকলা ও পাউরুটির সাথে মাদক মিশিয়ে খাওয়ানো হয়। তারপর যখন তাঁর জ্ঞান ফেরে সে তখন বুঝতে পারে মুম্বাইয়ের একটি নিষিদ্ধ পল্লীতে।
দীর্ঘ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের মাঝেই বেশ কয়েকটি বছর কাটিয়ে সে ফেলেছে নিষিদ্ধ পল্লীতে। তারপর ভাগ্যের জোরে নিজের বাবা-মায়ের কাছে ফিরে আসে, তার বিবাহর ব্যবস্থা করে পরিবার। আশ্চর্যের বিষয় হল, সংসার জীবনের দীর্ঘ লড়াই করতে গিয়েই ওই মহিলা জানতে পারেন তিনি যাকে সে বিয়ে করেছেন সেই হলো আসল নারী পাচারকারী!
তাহলে কি নিজের বউকে নিজেই বিক্রি করে আবার তাকেই বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছিল? প্রশাসনের ভয়ে না এর পেছনে অন্য কোন চক্র এখনো সক্রিয় রয়েছে? এই ঘটনার পর বসিরহাট থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছিল তিন জনের বিরুদ্ধে। আজও তারা সাজা তো পায়ইনি বরঞ্চ শিশু ধর্ষণ ও নারী পাচার দিন দিন ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সীমান্তবর্তী গ্রাম থেকে আনুমানিক ৭/৮ টি মেয়ে ভিন রাজ্যে বিক্রি হয়ে গিয়েছে। ধর্ষণ হয়েছে একাধিক নাবালিকা। এখনো অভিযুক্তরা বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে অভিযোগ। এমনকি তাঁরা প্রাণ নাশেরও হুমকি দিচ্ছে। ওই মহিলার দাবি, পাচারকারীর সঙ্গে উপপ্রধানের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তাহলে কি উপপ্রধানও কি পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত?
আসলে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশে সীমান্তের বিস্তৃর্ণ এলাকা ভৌগলিকভাবে এমন অবস্থানে যে সেখানে নজরদারি চালানো অত্যন্ত কঠিন বলে দাবি বিএসএফের। আবার স্থানীয় প্রাশাসন ও পুলিশও পাতারকারীদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নেয় না বলে দাবি। সবমিলিয়ে সীমান্তবর্তী গ্রাম পঞ্চায়েত থাকার সুবাদে এবং পঞ্চায়েতের ক্ষমতার জোরে তিনি এই ধরনের ঘটনা ঘটে চলেছে। অব্যাক্ত এক যন্ত্রণা নিয়ে সেই মেয়েটি আজও বিচারের আশায় বিভিন্ন প্রশাসনিক দফতরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। সেও বলে তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনা আর যেন অন্য কোনও নারীর সঙ্গে না ঘটে। কিন্তু তা বলে কি পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে? যাখানে রাজ্যের শাসকদলের নেতারাই অন্যতম অভিযুক্ত!












Discussion about this post