দীর্ঘ কুড়ি দিন বাংলাদেশে থাকার পরে অবশেষে মালদার পরিযায়ী শ্রমিক আমির শেখকে ফিরে পেলো তার পরিবার। অভিযোগ রাজস্থানের দুমাস ডিটেনশন ক্যাম্পে শারীরিক ও মানষিক নির্যাতনের শিকারে মালদার পরিযায়ী শ্রমিক। উপযুক্ত নথিপত্র দেখানোর পরেও রেহাই পায়নি মালদার যুবক, ঘোজাডাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ বাংলাদেশে পুশ ব্যাক করে যুবককে।
মালদার এই যুবক কর্মসূত্রে রাজস্থানে গিয়েছিল শ্রমিকের কাজ করতে। সেই সময় রাজস্থান পুলিশ তাকে বাংলাদেশী সন্দেহ করে তাকে আটক করে। এরপরেই আটক হওয়া যুবক আমির যোগাযোগ করে তার পরিবারের সাথে। পরিবারের কাছ থেকে আমিরের ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণপত্র পাঠিয়ে দেয় রাজস্থানের পুলিশ কাছে। তারপরেও তাকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। বাংলাদেশের যাওয়ার পর সেখানকার এক যুবকের মোবাইলে ভিডিও কলে একটি বার্তা পোস্ট করে তার সোশ্যাল মিডিয়ায়। যা নিয়ে তোলপাড় পড়ে যায় বিভিন্ন মহলে। বসিরহাট থানার পুলিশ আমির শেখ এর প্রয়োজনীয় নথিপত্র খতিয়ে দেখার পর তার পরিবারের হাতে তুলে দিয়েছে তাকে। মালদা থেকে আমিরের বাবা, কাকা, দাদা ও একজন আইনজীবী এসেছেন বসিরহাট থানায় আমিরকে নিতে।
আমির শেখের বাবা জেমস শেখ জানালেন, কাজের জন্য রাজস্থানে গিয়েছিল আমির সেখানেই বাংলাদেশি সন্দেহে তাকে গ্রেফতার করে রাজস্থান পুলিশ। পুলিশের কাছে সমস্ত রকমের নথি দেওয়ার পরেও ছাড়া হয়নি তাকে, বরং দু-মাস ধরে আমিরকে রাখা হয়েছে ডিটেনশন ক্যাম্পে। শুধু তাই নয় সেখানে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয় তার ওপর। এরপরে তাকে বাংলাদেশে পুশ ব্যাক করে বিএসএফ। তারই ভিডিও বার্তা দেখে আদালতের শরণাপন্ন হলে আদালতের নির্দেশে ফিরে পাওয়া গেল ছেলেকে। ছেলেকে ফিরে পেয়ে খুশি বাবা সহ পুরো পরিবার।
পরিবারের আইনজীবী সৈকত ঠাকুর জানালেন, ভিন রাজ্যে কাজ করতে গিয়ে এভাবে হেনস্থা হলে তাহলে তো আগামী দিনে কেউ ভিন রাজ্যে কাজ করতেই যাবে না। আদালতের মামলা করে ফিরিয়ে আনা হলো যুবককে।












Discussion about this post