ঢাকার রিপোর্টাস ইউনিটিতে মঞ্চ ৭১ নামে একটি সংগঠনের অনুষ্ঠানে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানে জুলাই যোদ্ধারা উপস্থিত হয়ে অনুষ্ঠানের বক্তাদের উপর একরকম হামলা চালায়। তারা হলেন কয়েকজন ছাত্র সমন্বয়ককারী, বিএনপি এবং জামাতের কয়েকজন ছাত্র যুব। ফের বাংলাদেশে মবের অত্যাচার। সবথেকে মজার বিষয় হল, মব আক্রান্তরাই আটক। টার্গেট হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধারা।
কেন তারা সেখানে জড়ো হয়েছেন সেই নিয়ে প্রতিবাদ করে তারা। এবং তারা প্রত্যেকেই নাকি আওয়ামী লীগের দোসর ছিলেন। এমনটা বলা হয়। শুধু তাই নয়, তাদের চিহ্নিত করে তাদের ওপর মব সৃষ্টি করা হয়। এমনকি তাদের শারীরিকভাবে হেনস্থা করা হয় বলে অভিযোগ। এমন একাধিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। যদিও পুলিশ উপস্থিত হয়ে তাদের নিয়ে যাওয়ার পর লতিফ সিদ্দিকী সহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন, সাংবাদিক মঞ্জুর আলম পান্না সহ ১৬ জনকে গ্রেফতার করে। প্রথমে তাদের আটকে রাখা হয়। তারপরে গ্রেপ্তার করা হয়।
অনেকে বলছেন, ৭১ নাম দিয়ে বাংলাদেশের কোথাও কোনও কর্মসূচি পালন করলে, সরকার আশঙ্কা করছে। এই বুঝি শেখ হাসিনা ফিরে এলেন। কিংবা আওয়ামী লীগের ফিরে আসার আশঙ্কা করছেন। মঞ্চ ৭১ এই সংগঠনটি তৈরি করেছেন এডভোকেট জেডাই খান পান্না। তাদের দাবি, এটা কোনও রাজনৈতিক মঞ্চ নয়। কিন্তু বর্তমান সরকারের উপদেষ্টারা কার্যত ভয় পাচ্ছেন। যদি আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা মিলিত হয়ে ফের সক্রিয় হয়ে ওঠে।
এই ঘটনায় দুটি বিষয় বেশি করে আলোড়ন ফেলেছে। একটি হল মব এবং অন্যটি হল সাংবাদিককে গ্রেফতার করা। এর আগেও বাংলাদেশে মব চলেছে। পুলিস প্রথম দিকে একশন না নিলেও পরে নিয়েছে। কিন্তু এক্ষেত্রে দেখা গেল, যারা মব করল তারা বহাল তবিয়তে চলে গেলেন। আর যাদের উপর মব করা হল, তাদের পুলিশ গ্রেফতার করল। অন্যদিকে দেখা গেল সাংবাদিককে গ্রেফতার। কেউ কেউ বলছেন, শেখ হাসিনার জামানার বিরুদ্ধে যে যে অভিযোগ উঠে এসেছে, সেগুলিই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে দেখা যাচ্ছে। তাহলে কোথায় আলাদা এই সরকার?
এমনকি যে যে সাংবাদিক বা সংবাদমাধ্যম এই সরকারের শাসনকাল নিয়ে সমালোচনা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নিয়েছে অন্তবর্তীকালীন সরকার। তাহলে আলাদা বাংলাদেশ হল কোথায়? এর পাশাপাশি এটাও বলা হচ্ছে, যদি বাংলাদেশের কয়েকটি রাজনৈতিক দলের মতাদর্শ বা অন্তবর্তী সরকারের মতার্দশের বাইরে কেউ কোনও অন্য কথা বলেন, তবে তাকে বা তাদের আওয়ামী লীগের দোসর বলা হচ্ছে ও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। শুধু তাই নয়, মুক্তিযুদ্ধে পক্ষে কথা বললেও শেখ হাসিনার দোসর বলা হচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কথা বলা হলে কেন তাদের আওয়ামী লীগের দোসর বলে হবে? এমন প্রশ্ন উঠছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গোটা দেশে অরাজকতা চলছে। সরকার লাগাম টানতে পারেছ না। এই পরিস্থিতিতে ভারতে বসে বাংলাদেশের পূর্বতন প্রধানমন্ত্রী শেখে হাসিনা অডিও বার্তার মাধ্যমে দেশের ফেরার কথা বলছেন। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে আতঙ্কিত এই সরকার এবং ছাত্রনেতারা। কারণ তারা এখনও বাংলাদেশের মানুষের মনে জায়গা করে উঠতে পারেনি। এখন দেখার, ঢাকায় যে ঘটনা ঘটল, সেটার জল কতদূর পর্যন্ত গড়ায়!












Discussion about this post