পুলিশের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে বিজেপি। বিজেপি সাংসদ চিকিৎসাধীন খগেন মুর্মুকে শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ঠিক তার আগেই শিলিগুড়িতে সাংসদ খগেন মুর্মুকে দেখতে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপরেই ক্ষোভ উগরে দেন শুভেন্দু। সরাসরি ডিজিপিকে চ্যালেঞ্জ করে বলেন, ছাব্বিশে এই রক্তের বদলা হবে সুদ সমেত। বিজেপি ক্ষমতায় এলে ২৪ ঘন্টার মধ্যে ব্যবস্থা হবে। জলপাইগুড়ির এসপি, ডিজিপি দিল্লি যাওয়ার জন্য ব্যাগ গুছিয়ে রাখুন।
ওই একই হাসপাতালে ভর্তি শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। কিন্তু শঙ্কর ঘোষের সাথে দেখা করেননি মুখ্যমন্ত্রী। এবিষয়ে শঙ্কর ঘোষ বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর দেখতে আসার বিষয়ে আমি সম্মতি জানায়নি। উনি আমার সাথে দেখা করেননি কারণ উনি জানতেন কোনো কঠিন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে পারেন। সাংসদ গুরুতর আহত তাই তার সম্মতি জানানোর ব্যাপার নেই। মুখ্যমন্ত্রী দেড় মিনিটেরও কম সময় ICU তে গিয়ে সাংসদের সাথে দেখা করেছেন। সেই সময় তার ফটোশুট টীম ছবি তুলে সেটাকেই রাজনৈতিক সৌজন্যতা বলে তুলে ধরেছেন। এটা তৃণমূলের ঘৃণ্য রাজনীতির উদাহরণ।
অন্যদিকে এই ঘটনার সাংসদ ও বিধায়ক আহত হওয়ার ৪৮ ঘন্টা পেরিয়ে গেছে কিন্তু এখনো পর্যন্ত ঘটনার অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে ব্যর্থ পুলিশ। যার কারণে বাড়ছে ক্ষোভের আগুন। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার এবার পাল্টা মারের নিদান দিলেন। বন্যার বিপর্যস্ত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে সুকান্ত হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এখনো সময় আছে পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেফতার করুক। পুলিশ ব্যবস্থা না নিলে পাল্টা মার হবে। উত্তরবঙ্গে বিজেপি এই ক্ষমতা রাখে। সাংবাদিক সম্মেলন করে সুকান্ত মজুমদার বলেন, অভিযুক্তরা প্রত্যেকেই তৃণমূলের সক্রিয় কর্মী। খগেন মুর্মু বিভিন্ন সাংবিধানিক পদে থেকেছেন। সাংসদ এবং বিধায়ক ছাড়াও সেইদিন যারা যারা গিয়েছিলেন তারা প্রত্যেকেই হামলার শিকার হয়েছেন। যারা আক্রমণ করেছে তারা প্রত্যেকেই বলেছে আমরা দিদির সৈনিক। এখানে বিজেপি কেন আসবে সেই নিয়েই ঝামেলা। ঘটনায় যাদের নাম ও ছবি দেখা গিয়েছে তারা এখনো কেউ গ্রেফতার হলনা কেন। তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ যদি ব্যবস্থা না নয় তাহলে বিজেপি বিজেপির মতো ট্রিটমেন্ট করবে। আমাদের টাকায় পুলিশের মাইনে হয় আর পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করবেনা এইটা হবেনা। হয় পুলিশ ব্যবস্থা নিক নয়তো পাল্টা আমরা মারবো।
এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের কাছে রিপোর্ট তলব করেছেন লোকসভার স্পিকার ওমপ্রকাশ বিড়লা। মন্ত্রী কিরণ রিজিজু স্পষ্ট করেছেন, অতি দ্রুত রাজ্যকে রিপোর্ট দিতে হবে অন্যথায় আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।












Discussion about this post