উত্তরবঙ্গের নাগরাকাটায় বন্যা বিধ্স্তদের সাথে দেখা করতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়ে পাথরের ঘায়ে রক্তাক্ত হয়ে পড়েন বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু। আহত হন বিধায়ক শঙ্কর ঘোষও। যা নিয়ে ইতিমধ্যে তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। ঘটনায় অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা গেলেও গ্রেফতার হয়নি কেউ। যার ফলে রাজ্যের আইনশৃংখলা নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। ঘটনায় সম্পূর্ণ হাত যে শাসকদল তৃণমূলের তা ইতিমধ্যে স্পষ্ট। এই নক্কারজনক ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সহ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বরা। ঘটনার নিন্দা করে সামাজিক মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পশ্চিমবঙ্গের আইন শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ঘটনার নিন্দা জানান পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস। ঘটনার নিন্দা জানায় বাকি রাজনৈতিক দলগুলিও। ঘটনায় রিপোর্ট তলব করেছেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। এরপরেই আহত সাংসদের সাথে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গুরুতর জখম সাংসদ খগেন মুর্মুর চোখের নিচে একটি হাড় ভেঙে গেছে। গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত্র মুখের চোয়াল ও। অস্ত্রপচারের প্রয়োজন সাংসদের মুখে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী গুরুতর জখম সাংসদকে দেখার পর নিদান দিয়েছিলেন তেমন কিছু হয়নি সাংসদের। যা নিয়ে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে পড়েন বিজেপি নেতৃত্বরা। কিন্তু এতকিছুর পরও রাজ্য পুলিশ ভারে মা ভবানী। অর্থাৎ ঘটনায় জড়িত একজনকেও গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়নি রাজ্য পুলিশ। এ ঘটনায় ক্ষোভ উগরাচ্ছেন রাজনৈতিক দলগুলির পাশাপাশি জনগণও। সকলের একটাই দাবি, কেন এখনো রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হচ্ছেনা ? এমত অবস্থায় রাষ্ট্রপতি দৌপদী মুর্মুর সাথে দেখা করেছেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস। যা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন জাগছে তবে কি রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হতে চলেছে ? তবে কি এবার কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ কড়া হবে রাজ্যের বিরুদ্ধে ? রাজ্যপাল যদি রাষ্ট্রপতির কাছে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করার সুপারিশ করেন তবে প্রবল চাপের মুখে পড়বে মমতার সরকার।
গুরুতর আহত সাংসদের সাথে হাসপাতালে দেখা করে রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ২৪ ঘন্টার মধ্যে দোষীদের গ্রেফতার না করা হলে সংবিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, রাজ্য সরকার এই ঘটনায় কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে তিনি সংবিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন। রাজ্যের আইন রক্ষা করার কর্তব্য পুলিশের। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে সেই ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। একজন সাংসদের উপর নৃশংস আক্রমণ মেনে নেওয়ার না। যারা অপরাধী তারা কোথায় গেলো ? সাধারণ মানুষ গুন্ডাদের ভয় পাচ্ছে। যদি এই অরাজওতা মোকাবিলা না করা যায় তাহলে তার দায় রাজ্যের মানুষকেই দিতে হবে। সরকারকে পদক্ষেপ করতেই হবে। বাংলার আইন শৃঙ্খলার পরিস্থিতি ভালো হওয়া প্রয়োজন।
এই নজিরবিহীন কঠোর বার্তায় সাংবিধানিক পদক্ষেপ ঠিক কি হতে পারে তা স্পষ্ট করেননি রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস। সাংসদ এবং বিধায়ক আক্রমণের ঘটনায় যুদ্ধ শুরু হয়েছে রাজনীতিতে। অনেকেই মনে করছেন, গুরুতর আহত সাংসদকে মুখ্যমন্ত্রীর দেখতে যাওয়ার বিষয়টা আসলে মুখ্যমন্ত্রী নিজের ক্ষততে প্রোলেপ দিতে গেছিলেন।












Discussion about this post