উত্তরবঙ্গে বিপর্যস্ত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে গুরুতর আক্রান্ত হন বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু ও বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। এরপরই ত্রিপুরার আগরতলায় তৃণমূলের দলীয় পার্টি অফিসে ভাঙচুর চালানো হয়। এই হামলার অভিযোগ ওঠে বিজেপির বিরুদ্ধে। ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার ত্রিপুরায় এক প্রতিনিধি দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় তৃণমূল। সেই দলে রয়েছেন তৃণমূলের মুখপাত্র কুনাল ঘোষ, মন্ত্রী বিরবাহা হাঁসদা, সাংসদ ও যুবনেত্রী সায়নী ঘোষ, সাংসদ প্রতিমা মন্ডল, টিএমসিপি নেতা সুদীপ রাহা। এরপর আগরতলায় অবতরণ করেই পুলিশের বাধায় আটকে পড়ে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল। শুরু হয় বাগবিতণ্ডা। ফলে বিমানবন্দরেই তিন ঘন্টা ধর্ণা দিলো তৃনমূলের প্রতিনিধি দল। অভিযোগ, আগে থেকে প্রশাসনকে জানিয়েই তারা ত্রিপুরা এসেছেন। ত্রিপুরা বিমানবন্দর থেকে তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের দলীয় পার্টি অফিস যাওয়ার জন্য চারটি গাড়ি থাকার কথা থাকলেও গাড়ি ছিল একটি। বাকি তিনটি গাড়িকে ভয় দেখিয়ে ফেরত পাঠিয়েছে ত্রিপুরা পুলিশ। এরপর প্রতিনিধি দল ঠিক করেন বিমানবন্দরের বাইরে থাকা প্রিপেইড ট্যাক্সি করে যাবেন তারা। তাতেও তাদের বাধা দেওয়া হয়। এই নিয়ে পুলিশের সাথে দীর্ঘক্ষণ কথা বললেও মেলেনি কোনো সুরাহা। ফলে বিমানবন্দর চত্বরেই ধর্নায় বসে পড়েন তৃণমূলের প্রতিনিধি দলটি। বিমানবন্দরে তিন ঘন্টা ধর্ণা চলার পর অবশেষে পুলিশ তাদের জন্য চারটি গাড়ির ব্যবস্থা করে।
এই ঘটনার পর বুধবার দুপুরে উত্তরবঙ্গ থেকে কলকাতায় ফিরে কলকাতা বিমানবন্দরে এই ঘটনার প্রসঙ্গে সুর চড়ান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, আমাদের মন্ত্রী, বিধায়ক সাংসদদের আটকে দিয়েছে। আমাদের দলকে প্রিপেইড ট্যাক্সি দেওয়া হয়নি। তাই আমি বাধ্য হয়ে ওদের পায়ে হেঁটে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলাম। তাও যদি না যেতে দিতো আমি বলেছিলাম আমি যাবো। হিম্মত থাকলে আটকে দেখাক। ত্রিপুরার বিজেপি শাসিত ডবল ইঞ্জিন সরকারকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ত্রিপুরার আগে অভিষেকের গাড়িও ভাঙা হয়েছিল। সুস্মিতা দেব, দোলা সেনের গাড়িতেও হামলা হয়েছিল তখন কোথায় ছিল ডবল ইঞ্জিন ? এরা অশান্তিকে প্রশ্রয় দেয়। আগে নিজের ঘরে তাকান।
আগরতলায় দলীয় কার্যালয় পরিদর্শনের পর তৃণমূলের প্রতিনিধি দল সেখানে একটি সাংবাদিক বৈঠক করেন। সাংবাদিক বৈঠকে কুনাল ঘোষ বলেন, আগরতলা পুলিশের উপস্থিতিতে আমাদের পার্টি অফিস ভাঙচুর হয়েছে। দক্ষিণী সিনেমায় যা হয় ত্রিপুরাতেও তাই হয়। ত্রিপুরা থেকে বিজেপি নেতারা বাংলায় গিয়ে ঘোরেন, বিয়েবাড়িও যান। কোথাও কোনো বাধার সম্মুখীন হন না। তাহলে আমাদের সাথে কেন এরকম ? আমাদের এত ভয় ?
সাংসদ প্রতিমা মন্ডল বলেন, সাংসদ ও বিধায়কের ওপর হামলা তৃণমূল সমর্থন করেনা। মুখ্যমন্ত্রী নিজে হাসপাতালে সাংসদের সাথে দেখা করেছেন। বিজেপির পদাধিকাররাই পার্টি অফিসে হামলা চালিয়েছে। আর পুলিশ দাঁড়িয়ে দেখেছে। এর আগেও ত্রিপুরার হামলার সম্মুখীন হয়েছে তৃণমূল। পুলিশ কোনো পদক্ষেপ করেনি এবারেও করলোনা।
সায়নী ঘোষ বলেন, সবকিছুতে বিজেপি তৃণমূলকে আইন শৃঙ্খলা নিয়ে জ্ঞান দেয়। ত্রিপুরার আইন শৃঙ্খলা কোথায় ? পুলিশের সামনে পার্টি অফিস ভাঙচুর হলো। তাতে ত্রিপুরার আইন শৃঙ্খলা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে।
সাংবাদিক বৈঠকের পর ত্রিপুরা পুলিশের ডিজির সাথেও দেখা করে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল। সাংসদ ও বিধায়কের উপর হামলার প্রতিবাদে আগরতলার বনমালীপুর এলাকায় বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছিলো বিজেপি। তৃণমূলের অভিযোগ, সেই মিছিল থেকেই তাদের পার্টি অফিসে হামলা চালানো হয়। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি।












Discussion about this post