কিশোরকুমারের কণ্ঠে আধুনিক এই বাংলা গানখানি বোধহয় কমবেশি সকলের শোনা – নাই নাই এ আঁধার থেকে ফেরার পথ নাই।
এখন এই দশাই হয়েছে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ – জামানের। এটা হওয়ারই কথা ছিল। কারণ আগুন নিয়ে খেলা করছিলেন। আমরা সবাই জেনে গিয়েছি পদ্মাপারে কী হয়েছে। নতুন যে তথ্য উঠে আসছে, তা হল সেনাপ্রধান ওয়াকার তাঁর সৌদি আরব সফর বাতিল করেছেন। চলতি মাসে তাঁর দিল্লি আসার কথা। এখনও পর্যন্ত যা খবর, তিনি দিল্লি আসছেন না। দ্য সিএসআর জার্নাল এই সংক্রান্ত একটি খবর প্রকাশ করেছে। প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, এক লপ্তে ১৫ জন সেনাকর্তার গ্রেফতারের ঘটনায় বাংলাদেশে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সেই অবস্থার প্রেক্ষিতে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান তার চারদিনের সৌদি আরব সফর বাতিল করেছেন। প্রথমে তিনি দিল্লি সফর বাতিল করেন। পরে সৌদি আরব সফর। দিল্লি সফর ছিল অক্টোবরের ১২ থেকে ১৪। তাঁর আগে ওয়াকারের যাওয়ার কথা ছিল সৌদি। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, সেনাপ্রধান রীতিমতো ধন্দে রয়েছেন। তিনি বুঝতেই পারছেন না, বলা ভালো অনুমান করতে পারছেন না কী হতে পারে। আপাতত তিনি বাংলাদেশে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সূত্রটি জানিয়েছ, সেনাপ্রধানের গোপনে দেশ ত্যাগের কোনও পরিকল্পনা নেই। যদিও বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, ওয়াকার দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার নীল নকশা খুঁজছেন। এদিকে, মঙ্গলবার ভারতীয় সেনার এক উচ্চস্তরীয় প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফরের কথা। সেনাপ্রধান সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাদের সঙ্গে দেখা না করার।
দ্য সিএসআর জার্নাল জানিয়েছে, সেনাপ্রধান ওয়ার গত ৯ অক্টোবর একটি বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ৫৬ জন জেনারেল সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে ওই সংবাদসংস্থা জানিয়েছে, সেদিনের বৈঠকে সেনাপ্রধান জানিয়ে দেন, তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, অবসরপ্রাপ্ত এবং কর্মরত মিলিয়ে মোট ২৫ জন সেনা কর্তার বিরুদ্ধে গুম, খুন, বেআইনিভাবে আটক করে অত্যাচার করার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে লিপ্ত থাকার অভিযোগ তাদের বিচারের আওতায় আনবেন। এদের মধ্যে ১৫ জন কর্মরত। সেদিনের বৈঠকে বাহিনীর চার শীর্ষকর্তা জেনারেল ওয়াকারের এই পদক্ষেপে তাদের তীব্র আপত্তির কথা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দেন। কিন্তু তাদের পরামর্শ উপেক্ষা করে জেনারেল তাঁর সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। কিন্তু বুঝতে পারেননি। এই গ্রেফতার ব্যুমেরাং হয়ে ফিরবে। প্রথমত বাহিনীতে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বাহিনী দুইভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছে। একটি অংশ জেনারেল ওয়াকার-বিরোধী, একটি ওয়াকার-পন্থী। ওয়াকার বিরোধীরা পাল্লায় ভারী। তাদের বক্তব্য, শত হলেও বাহিনীর মান সম্মান আছে। আর সেনাপ্রধান ওয়াকার বাহিনীকে কার্যত রাস্তায় নামিয়ে দিয়েছেন। মান সম্মান তো গিয়েছে। আন্তর্জাতিকমহল এখন বাংলাদেশের নাম শুনলে ছিঃ ছিঃ করছে। কোনও সভ্য দেশে এমন হতে পারে সেটা তারা ভাবতে পারছে না। সেনাবাহিনী সেনাবাহিনীর সদস্যদের গ্রেফতার করেছে। এতো পাকিস্তানের রিটেক। পারভেজ মুশারফ যখন বাহিনীর প্রধান ছিলেন, তখন তাকে বাহিনী প্রথমে গ্রেফতার করে। পরে গৃহবন্দী করে রাখে। তবে বাংলাদেশের ঘটনা পাকিস্তানকেও লজ্জায় দেবে। কারণ, সে দেশের বাহিনী বাহিনীর এতজন সদস্যকে গ্রেফতার করেনি। তাছাড়া বাংলাদেশের সেনাবাহিনী যা কিছুই করে থাকুক না কেন, সেটা তো কারও নির্দেশে হয়েছে। আর সেই নির্দেশ দিয়েছেন তো সেনাপ্রধান নিজে। তাহলে তাকে কেন রেওয়াত করা হবে?












Discussion about this post