উত্তরপাড়ার হাওয়া খুব খারাপ। আকাশ ঢেকেছে কালো মেঘে। ঝড় ওঠার সম্ভাবনা প্রবল। তার গতিবেগ কত হতে পারে, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। মঙ্গলবার সেখানকার সর্বনিম্ম তাপমাত্রা প্রায় ৩৪ ডিগ্রির কাছাকাছি। তাহলে ক্যান্টনমেন্টের ভিতরের তাপমাত্রা কত হবে, সেটা অনুমান করা খুব কঠিন নয়। পরিস্থিতি গুমোট করে তুলেছে বাহিনীর একাধিক কর্মরত এবং প্রাক্তন সেনাসদস্যের গ্রেফতারি। অভিযুক্ত সেনাকর্তাদের পরিবারকে বেশ কয়েকটি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই নির্দেশগুলি হল, তারা যেন মিডিয়ার সঙ্গে কোনও কথা না বলেন। চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে মিডিয়াকে এড়িয়ে যাওয়ার। এমনকী অভিযুক্ত সেনাকর্তাদের পরিবারের সদস্যদের এও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, তারা যেন তাদের আত্মীয়স্বজন বা নিকটবর্তীদের সঙ্গেও কথা না বলেন। কথা বলতে নিষেধ করে দেওয়া হয়েছে আওয়ামী লীগের সঙ্গে। পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, একমাত্র প্রয়োজন হলেই তারা যেন বাড়ির বাইরে যান। তাদের পাশাপাশি অভিযুক্ত সেনাকর্তাদেরও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মানে ঘোরাঘুরি বন্ধ। প্রাক্তন সেনাকর্তাদের বলা হয়েছে, সময় থাকতে থাকতে তারা যেন পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। অথবা সরাসরি ক্যান্টমেন্টে আত্মসমর্পণ করতে পারেন। কারণ আগামী ২২ অক্টোবর তাদের গ্রেফতার করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পেশ করা হবে।
এই সব ঘটনাকে ছাপিয়ে গিয়েছে বাংলাদেশ সেনার অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামানের সাংবাদিক সম্মেলনের বক্তব্য। ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের সাংবাদিক সম্মেলনে তাঁকে বলতে শোনা গেল, সেনাকর্মকর্তাদের গ্রেফতারি পরোয়ানা এখনও লিখিত আকারে তাদের হাতে আসেনি। পুলিশের তরফ থেকেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি। পুলিশ চাইলে যে কোনও প্রাক্তন সেনাকর্মকর্তাকে গ্রেফতার করতে পারেন। মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামানের ভাষণ শুধু হাস্যকর নয়, তাঁর ভাষণ বাহিনীকে লজ্জায় ফেলে দিয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, সেনাকর্মকর্তাদের গ্রেফতারি পরোয়ানা এখনও লিখিত আকারে তাঁদের কাছে আসেনি। তারপরেও কী করে তিনি পুলিশকে নির্দেশ দিচ্ছেন যাদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়েছে, পুলিশ তাদের গ্রেফতার করতে পারে। আবার অভিযুক্তরা ইচ্ছা করলে আত্মসমর্পণ করতে পারেন। আর এই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির বিষয়টি তিনি বা তাঁরা জেনেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং টিভির স্ক্রল দেখে। আর সেটা নজরে আসার পর বাহিনীর তরফ থেকে সেদিনই এলপিআরের একজনসহ ১৬জন কর্মকর্তাকে সেনা হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বেশ গর্বের সঙ্গে বলেন, ‘একজন বাদে ১৫ জন ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে সেনা সদরে জয়েন করেছেন। আর যাঁর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না, সেই মেজর জেনারেল কবির আহমেদের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি যাতে দেশের বাইরে যেতে না পারেন, সে জন্য সংশ্লিষ্টমহলকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।’ বাহিনীর লোককে নিয়ে বাহিনী ছেলে খেলা করছে, এটা বোধহয় বাংলাদেশেই সম্ভব। তারা চাইছে বাহিনীর সদস্যদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে। তিনি বলেছেন, বাহিনী জাস্টিসের পক্ষে। তারা ইনসাফের সঙ্গে কোনও সমঝোতায় যাবেন না।
আর কী করলে, কোন পদক্ষেপ নিলে সেটা সমঝোতা হবে না। বাহিনীর লোকের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন, অভিযোগের তদন্তে কমিশনকে সাহায্য করা, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনে সাহায্য করা – আর কিছুই তো বাকি রইল না। এক প্রশ্নের উত্তরে মেজর জেনারেল হাকিমুজ্জামান জানান, সেনাবাহিনী নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করবে, তবে ” আইসিটির এই বিষয়টায় অবশ্যই আমাদের মোরালে অ্যাফেক্ট করবে”।












Discussion about this post