NRC এবং SIR কে ঘিরে তৈরি হওয়া আতঙ্কে SIR ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটির বাসিন্দা প্রদীপ কর আত্মহত্যা করেন। মৃত প্রদীপ কর ভাই এবং ভ্রাতৃবধূর সঙ্গে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। সোমবার রাতে খাওয়া-দাওয়া সেরে তিনি নিজের ঘরে শুতে যান। মঙ্গলবার সকালে ভ্রাতৃবধূ ও প্রতিবেশীরা বারবার ডেকেও সাড়া পাননি। পুলিশ গিয়ে প্রদীপের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে। মৃতদেহের পাশ থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি সুইসাইড নোট। আর যা নিয়ে শুরু হয়েছে চরম বিতর্ক। কারণ, মৃত প্রদীপের পরিবারের সদস্যরা বলেন, প্রদীপ তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছিলেন এবং তার ডান হাতের চারটি আঙুল নেই। উনি লিখতে জানতেন বলে তো জানি না। মশারির দোকান ছিল ওনার। দোকান যখন চালাতেন হয়ত কোনও ভাবে লিখতেন। কিন্তু আমরা কেউ কখনও ওনাকে লিখতে দেখিনি। হাতের লেখা ওনার কি না বলতে পারব না।
মৃতের পরিবারের মন্তব্যের পরেই উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোটের বৈধতা নিয়ে তৃণমূল ও বিজেপির রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে।
বুধবার বিকেলে মৃতের পরিবারের সাথে দেখা করতে তার বাড়িতে যান তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, এনআরসি ও এসআইআরের আতঙ্কেই আত্মঘাতী হয়েছেন ৫৭ বছরের ওই প্রৌঢ়। তার এই অকালমৃত্যুর জন্য দায়ী কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হওয়া উচিত। কেন্দ্র সরকার মানুষের মনে ভয় ঢোকাতে চাইছে। কিন্তু আমরা তা হতে দেব না। বাংলার মানুষকে তাদের নিজেদের দেশেই পরবাসী হতে হবে না। আগামী ৪ ই নভেম্বর রাজ্যের প্রতিটি জায়গায় তৃণমূল কংগ্রেসের ক্যাম্প তৈরি হবে। আমাদের কর্মীরা অতন্দ্র প্রহরীর মতো মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সাহায্য করবেন।
মৃত প্রদীপ করের মৃত্যুর বিচার চেয়ে বৃহস্পতিবার পানিহাটিতে তৃণমূল মিছিল করবে বলে ঘোষণা করেন অভিষেক। এই মিছিলের নেতৃত্বে থাকবেন ব্যারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিক। এই ঘটনার ন্যায়বিচার আদায়ের জন্য তিনি নতুন স্লোগান দেন – বাংলার একটাই স্বর, জাস্টিস ফর প্রদীপ কর। তিনি বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস এই ঘটনার ন্যায়বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবে।
বিরোধী দল বিজেপি প্রশ্ন তুলেছে, প্রদীপ কি আদৌ লিখতে সক্ষম ছিলেন ? ঘটনার প্রেক্ষিতে বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, ঘটনার তদন্ত হওয়া উচিত। সুইসাইড নোটটি কে লিখেছেন তা জানা প্রয়োজন। এনআরসি তো চালুই হয়নি। এনআরসি নিয়ে মানুষকে ভয় দেখিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দায় তাদের।
সুইসাইড নোট নিয়ে বিজেপির তোলা প্রশ্নে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, একটা রাজনৈতিক দল এত নীচে নামতে পারে ? মৃত প্রদীপ করকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হচ্ছে। তিনি লিখতে পারেন কি না তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। তিনি লিখে দিয়ে গিয়েছেন। তারপরেও রাজনীতি হবে ?
অভিষেকের ঘোষণার পরই পানিহাটিতেই মিছিল করার কথা ঘোষণা করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূলের মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে এই মিছিল করা হবে বলে জানান তিনি।












Discussion about this post