ভারতের সাবেক সেনাপ্রধান তথা চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ প্রয়াত জেনারেল বিপিন রওয়াত একসময় একটা মন্তব্য করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন ভারতের দুর্ভাগ্য ভারতকে এখন আড়াই ফ্রন্টে যুদ্ধ করতে হচ্ছে। কিন্তু প্রয়াত জেনারেল তখনও জানতেন না ভারতের বিরুদ্ধে আরও একটা ফ্রন্ট খুলে যাবে। অর্থাৎ আড়াই ফ্রন্ট বদলে হবে সাড়ে তিন ফ্রন্ট। কি বুঝতে পারলেন না তো, কেন এ কথা বলছি? আসুন তাহলে একটু খোলাখুলি আলোচনা করা যাক।
আগের আড়াই ফ্রন্ট ছিল পাকিস্তান, চিন ও ভারতের মধ্যেই থাকা পাকিস্তানপন্থী সংগঠনগুলি। এবার তাঁদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ। তাই সাড়ে তিন ফ্রন্টের কথা বলা হচ্ছে। তাহলে ভাবছেন, ভারতের সামনে এখন খুব কঠিন সময়? এতগুলো দিকে যুদ্ধ করা তো যথেষ্টই কঠিন কাজ, তাই না? কিন্তু ভূ-রাজনীতির দাবার আড়াই চাল সফল হলে এই যুদ্ধ জেতা অনেকটাই সহজ হয়ে যায়। আর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং তাঁর টিম সেই কাজটা অনেক সহজ করে দিয়েছেন। ব্যাপারটা একটু খুলে বলা যাক।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনুস গতবছর ৫ আগস্ট এক গণঅভ্যুত্থানের পর ক্ষমতায় আসেন। এটা ছিল মার্কিন ডিপ স্টেট ও পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইরের এক গভীর ষড়যন্ত্রের ফসল। উদ্দেশ্য ছিল ভারতকে অস্থিতিশীল করে নরেন্দ্র মোদি সরকারকে ফেলে দেওয়া। যে প্রক্রিয়া এখনও চলমান। মুহাম্মদ ইউনূস পরিচালিত হন জামায়তে ইসলামী-সহ কয়েকটি কট্টরপন্থী ইসলামিক সংগঠনের দ্বারা। যাদের নিয়ন্ত্রণ আবার পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের হাতে। পাশাপাশি ইউনূসের উপর ছড়ি ঘোরায় মার্কিন ডিপ স্টেস্ট ও প্রশাসন। এখানে প্রত্যেকের স্বার্থ প্রায় একই সুতোয় গাঁথা। সকলেই চান নরেন্দ্র মোদির স্থায়ী ও স্থিতিশীল সরকারকে সরিয়ে তাঁদের পছন্দের পুতুল সরকার বসিয়ে দেওয়া।
আর সেই লক্ষ্যে পাকিস্তান এখন বাংলাদেশের উপর ক্রমশ নিজের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করছে। পাক সেনার শীর্ষ জেনারেল ও অন্যান্য ডিভিশনের কর্মকর্তারা যেমন বাংলাদেশে ঘনঘন আসছেন, তেমনই আইএসআইয়ের গোয়েন্দারা বাংলাদেশ অন্তর্বর্তী সরকার ও প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। সবমিলিয়ে বাংলাদেশ এখন ফের স্বাধীনতা হারিয়ে ফের পূর্ব পাকিস্তান হওয়ার দোরগোড়ায়। বাংলাদেশ পুলিশ প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর একটি অংশ এখন পাকিস্তানপন্থী। তাই ঢাকা মেট্রোপোলিটন পুলিশের কমিশনার সাজ্জাত আলী এখন ভারতকেই যুদ্ধের হুমকি দিচ্ছেন।
পাশাপাশি ইউনূসের বাংলাদেশে কট্টরপন্থী মুসলিম ধর্মীয় গুরু ও প্রচারকদের রমরমা বেড়েছে। তাঁরা মূলত বাংলাদেশের ভারত সীমান্তবর্তী এলাকায় ঘুরে ঘুরে ভারতবিরোধী প্রচার ও বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে। যা ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য খুব বিপজ্জনক। ফলে প্রবল চিন্তায় নয়া দিল্লি। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এই পরিস্থিতি কিভাবে সামলাচ্ছে ভারত। এই প্রশ্নের উত্তরেই রয়েছে ট্যুইস্ট। ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল ও বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের কূটনৈতিক চালে আফগানিস্তানের তালিবান সরকার এখন ভারতের খুব ঘনিষ্ট হয়ে উঠেছে। এই দুই দেশের সম্পর্ক এমন পর্যায়ে পৌঁছছে যে তালিবান সরকারের বিদেশমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি ভারতে আসেন, এবং গোপনে এক চুক্তি সেড়ে যান।
যার ফলে আফগানিস্তানের বহু চর্চিত বাগরাম এয়ারবেস এখন ভারতের হাতে। জানা যাচ্ছে, এই গোপন চুক্তির মাধ্যমে ভারত আফগানিস্তানকে সুরক্ষা দেবে, দেশ গঠনের যাবতীয় অবকাঠামো গড়ে দেবে এবং খাদ্য ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে যাবতীয় সহায়তা দেবে। বৃহস্পতিবারই সাংবাদিক বৈঠকে ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র জানিয়েছেন, ভারত আফগানিস্তানের পূনর্গঠন ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে পূর্ণ সহায়তা দেবে। সেই সঙ্গে তিনি ফের জানিয়ে দিলেন, ভারত আশা করে বাংলাদেশে শীঘ্রই একটা সুষ্ঠ, অবাধ, অন্তর্ভূক্তিমূলক এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ভারত, এবার পাকিস্তানকে দুই দিক থেকে ঘিরে নিচ্ছে। পাকিস্তানের পূর্ব প্রান্তে ভারতীয় সৈন্য যেমন মোতায়েন, তেমনই পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে আফগানিস্তান এখন ভারতের সঙ্গেই দাঁড়িয়ে। আর বাগরাম এয়ারবেস কৌশলগত দিক থেকে ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। আর রইল বাংলাদেশ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য কমাতে সেখানে ইতিমধ্যেই ভারত, চিন ও রাশিয়া একত্রে কাজ করছে। ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত বাংলাদেশ ত্যাগ করবে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা। চিন এখন ভারতের সাথে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের চেষ্টা চালাচ্ছে। এই মুহূর্তে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মাখামাখি সম্পর্ক স্থাপন করায় বেজিং তাঁদের উপর বেজায় ক্ষিপ্ত। ফলে ভারতের চালে বেজায় চাপে পাকিস্তান। সেই সঙ্গে চাপে বাংলাদেশও। কারণ, নরেন্দ্র মোদির পরের লক্ষ্য, বাংলাদেশের জিহাদি মডিউল সমূলে বিনাশ করা।












Discussion about this post