বাংলাদেশের শামীন ওসমানের কথা মনে আছে? তিনি একটি বিখ্যাত স্লোগানের জন্মদাতা। সেই স্লোগানের জন্ম বাংলাদেশে হলেও পরবর্তীকালে প্রতিবেশী রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের লোকসভা, বিধানসভা এমনকী পঞ্চায়েত পর্যায়ের নির্বাচনী প্রচারে শাসকদলের নেতাদের মুখেও যেমন শোনা গিয়েছিল, শোনা গিয়েছিল বিরোধীদলের নেতাদের মুখেও। এটা কার্যত সব পক্ষের নেতাদের সিগনেচার টিউন হয়ে দাঁড়ায়।
যে স্লোগানের জন্ম বাংলাদেশে, সেখানেই চলছে মোক্ষম এক খেলা। খেলছেন শেখ হাসিনা। অজগর সাপ কাউকে একবার পেঁচিয়ে ধরলে সে যেমন আর প্যাঁচ ছাড়াতে পারে না, তেমনি হাসিনার আড়াই প্যাঁচে জড়িয়ে গিয়েছেন তদারকি সরকার প্রধান মহম্মদ ইউনূস এবং তাঁর সাঙ্গোপাঙ্গোরা। হাসিনা আড়াই প্যাঁচের একটি হল জাতিসঙ্ঘের মহাসচিবের কাছে সহযোগী প্রতিষ্ঠানের হাইকমিশনারের বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট অভিযোগ, দ্বিতীয় প্যাঁচ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলা, আর শেষ প্যাঁচটি হল বিশ্বের তিন প্রথম সারির গণমাধ্যমে তাঁর সাক্ষাৎকার। এটাকে একেবারে শেষে রাখতে হচ্ছে একটাই কারণে। হাসিনা এর আগে বেশ কয়েকবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তদারকি সরকার এবং সেই সরকারের প্রধানের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন। তাই, বিশ্বের তিন প্রথম সারির দৈনিকে তাঁর সাক্ষাৎকারে তিনি যে বিষয়গুলি তুলে ধরেছেন, সেই একই বিষয়ে তিনি তাঁর অবস্থান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া ভাষণে স্পষ্ট করে দেন। তবুও গুরুত্ব রয়েছে। কারণ, যে তিনটি গণমাধ্যম তাঁর সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে, সেই তিন গণমাধ্যমের ভার এতটাই বেশি যে বিশ্বের হেভিওয়েট নেতারাও তাদের সঙ্গে সমঝে চলেন।
এই প্রসঙ্গে একটা উদাহরণ তুলে ধরা যেতে পারে, বিশ্বের অন্যতম একটি প্রথম সারির মার্কিন দৈনিকের বিরুদ্ধে বেঁফাস কথা বলেছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই মিডিয়া হাউজ ট্রাম্পকে বয়কটের সিদ্ধান্ত নেয়। তাদের দেখাদেখি বাকিরাও সেই পথে হাঁটা শুরু করে। এই সমবেত বয়কটের সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পড়েন দুশ্চিন্তায়। কারণ, তার দেশের কাগজেই তাঁর সরকারের নেওয়া কাজকর্ম বা পদক্ষেপ সংক্রান্ত খবরের উল্লেখ নেই। একপ্রকার হাতজোর করে তাদের হোয়াইট হাউজের সাংবাদিক সম্মেলনে ডাকা হয়। এবার আসা যাক হাসিনর প্রসঙ্গে।
একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম হাসিনার সাক্ষাৎকার প্রকাশ করতে গিয়ে তারা একটি ছবি প্রকাশ করে। যে ছবিতে দেখা গিয়েছে, হাসিনাকে কোনও একটি দেশের সেনার তরফ থেকে দেওয়া হচ্ছে গার্ড অব অনার। এই ছবি প্রকাশ করে তাঁরা ইউনূস তথা বিশ্বকে একটাই বার্তা দিতে চেয়েছে। সেই বার্তা হল হাসিনা আজও প্রাসঙ্গিক। আর তাতেই ইউনূস থরথর করে কাঁপছেন। কারণ, এই সাক্ষাৎকার সরাসরি তাঁকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল। বুঝিয়ে দিল, বাংলাদেশ আর হাসিনা একে অপরের পরিপূরক।
হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে ইউনূস এবং ইউনূসপন্থীদের অভিযোগ ছিল গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ। এবার সেটাই তারা তাদের অস্ত্র হিসেবে তুলে নিয়েছে। অভিযোগ উঠছে, বাংলাদেশে যে সব ইউটিউব চ্যানেল হাসিনা-অনুগামী, সেই সব চ্যানেলের রিচ ইচ্ছাকৃতভাবে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। অপর দিকে, বিশ্বের তিন প্রথম সারির গণমাধ্যমে দেওয়া হাসিনার সাক্ষাৎকারের মূল বার্তা বাংলাদেশে যে সরকার চলছে, সেই সরকার অবৈধ। এমনকী বিচারব্যবস্থাকেও সরকারের তরফ থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞার ফলে দেশ গণতন্ত্রহীন। এই দলকে বাইরে রেখে নির্বাচন হলে সেই নির্বাচন বৈধ হবে না। আর আন্তর্জাতিকমহলও থেকেও একই বার্তা দেওয়া হয়েছে। ফলে, ইউনূস এখন গলাবুক জলে ডুবে রয়েছেন।












Discussion about this post