বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া এখন কোথায়? প্রশ্নটা তোলার কারণ রয়েছে। গত মে মাসে তিনি ঢাকায় ফেরেন। তারপর কেটে গিয়েছে সাড়ে পাঁচ মাসের বেশি। এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের বুকে একাধিক ঘটনা ঘটেছে। তার মধ্যে এমন অনেক ঘটনা ঘটেছে যা জিয়ার পক্ষে ইতিবাচক। অথচ তাঁর কোনও বিবৃতি শোনা গেল না। এই গৌরচন্দ্রিকার কারণ রয়েছে। রাজনীতির ২২ গজে বেঁচে থাকার একটাই শর্ত ভীষণ সক্রিয় থাকতে হবে। যেটা চালিয়ে গিয়েছেন হাসিনা। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে তিনটি সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে। আর সেই সাক্ষাৎকারের একটি অংশ নিয়ে হাসিনা তথা আওয়ামী বিরোধী পত্রিকা বা গণমাধ্যম আজব খবর প্রকাশ করেছে। যে খবরের মূল সুর, হাসিনার রাজনৈতিক মৃত্যু হয়েছে। তিনি আর দেশে ফিরবেন না। অথচ, হাসিনা কিন্তু একবারের জন্য সেটা বলেননি। হাসিনা ফিরবেন। তার জন্য তিনি একটা ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে চাইছেন। প্রথমত হাসিনা জানিয়েছেন, বাংলাদেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ফেরাতে হবে গণতান্ত্রিক পরিবেশ। সেই সঙ্গে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ যাতে অংশগ্রহণ করতে পারে, তদারকি সরকারকে তার একটা ব্যবস্থা করতে হবে।
বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর বাতাসে কে বা কারা ছড়িয়ে দেয় যে আওয়ামী লীগ শেষ। কারণ হাসিনা তখন দিল্লিতে। এদিকে দল ভেঙে দু’টুকরো। একপক্ষের নেতৃত্বে মিজানুর রহমান। অপর পক্ষের নেতৃত্বে আব্দুল মালিক উকিল। ৭৯ সালের নির্বাচনে দেখা গেল এই দুই পক্ষ মিলিয়ে মোট ভোটের ৩০ শতাংশের বেশি তারা কেটে নিয়েছে। ৮১ সালে দলের কাউন্সিলে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ সিদ্ধান্ত নিলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার হাতেই তারা দলের ব্যাটন তুলে দেবেন। তাঁকে দিল্লি থেকে নিয়ে আসতে হবে। ৮১-য়ের মে মাসে তিনি যখন ঢাকা ফেরেন, সেদিন বিমানবন্দরে লাখো মানুষের ঢল নামে। এখন দেশে যেরকম পরিস্থিতি, তখন পরিস্থিতি ছিল এর থেকেও ভয়ঙ্কর। কিন্তু সেই প্রতিকূলতাকে অগ্রাহ্য করে আওয়ামীপন্থ নেতা-কর্মীরা বিমানবন্দরে ভিড় করেন।
হাসিনা জানেন, দেশে ফিরতে গেলে তার জন্য প্রথমেই জমি তৈরি করতে হবে। জমি চাষযোগ্য করে তুলতে হলে কিছু প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। হাসিনাও সেই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলেছেন। তিনি ভারতে থেকে দলকে চাঙ্গা করার জন্য একাধিক কর্মসূচির নীল নকশা তৈরি করে দিয়েছেন। দলের ফেসবুক পেজে দিয়েছেন ভাষণ। সেই সব ভাষণের সুর থেকে স্পষ্ট যে বঙ্গবন্ধু কন্যা তাঁর সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মনোবল বাড়াতে চাইছেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিকমহলকে পাশে পাওয়ার প্রক্রিয়াও জারি রেখেছেন। এটা ধরে নিলে ভুল হবে যে হাসিনার ইচ্ছা হল যে তিনি যেভাবে দেশ ছেড়েছিলেন, অর্থাৎ সেনার বিমানে চেপে কোনওভাবে ঢাকা থেকে চলে আসা, ঠিক সেভাবে দেশ ফিরবেন, এমনটা নয়। তিনি দেশে ফেরার জন্য সময়ের অপেক্ষা করছেন। বাংলাদেশের আওয়ামী বিরোধী কাগজ বা পত্রিকাগুলি কিন্তু ফলাও করে প্রচার করতে শুরু করেছে যে হাসিনা আর দেশে ফিরবেন না। বাংলাদেশের মাটি থেকে আওয়ামী লীগ চিরকালের জন্য মুছে যাবে। তাদের জন্য রইল মুজিবের সেই বিখ্যাত সংলাপ – তোমরা আমাদের দাবায়ে রাখতে পারবা না।
দমিয়ে যে রাখা যাবে না, তার প্রমাণ তো আওয়ামী লীগ দিয়ে রেখেছে। বের করেছে ঝটিকা মিছিল। করেছে পথসভা। এখন তারা জননেত্রীর ফেরার প্রতীক্ষায়।












Discussion about this post