বাংলাদেশ নৌবাহিনী শনিবার চট্টগ্রাম বন্দরে পাকিস্তান নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল নাভিদ আশরাফকে স্বাগত জানিয়েছে। সেই সঙ্গে তাঁরা স্বাগত জানিয়েছে এফ-২২পি জুলফিকার-শ্রেণীর গাইডেড মিসাইল ফ্রিগেট শ্রেণির ফ্রন্টলাইন যুদ্ধজাহাজ পিএনএস সাইফকে। পূর্ণ আনুষ্ঠানিক মর্যাদায় পাকিস্তানের যুদ্ধজাহাজকে চট্টগ্রাম বন্দরে নিয়ে আসা হয় বলেই খবর। বিশ্লেষকদের দাবি, ১৯৭১ সালের ভারত-পাক যুদ্ধে বিশাখাপত্তনম উপকূলে ডুবে যাওয়া পাকিস্তানের সাবমেরিন পিএনএস গাজীর উল্লেখযোগ্য ক্ষতির পর এই প্রথম কোনও পাকিস্তানি যুদ্ধজাহাজ বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করল। এটাই প্রমান করে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান সম্পর্কের বিষয়টি। রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মতে, পাকিস্তান এখন ডুবে যাওয়া অর্থনীতি তাই তাঁরা যে বাংলাদেশের অর্থনীতি টেনে তুলবে সেটা অলীক কল্পনা। কিন্তু পাকিস্তান যেটা করতে পারে সেটা হল বাংলাদেশকে ব্যবহার করে ভারতকে চাপে রাখতে। আর সেটাই করছে পাকিস্তান। একটু লক্ষ্য করলেই বুঝবেন, বাংলাদেশে বিগত কয়েকমাসে ঘনঘন পাকিস্তানি সামরিক কর্তাদের যাতায়াত বেড়েছে। পাশাপাশি প্রশাসনিক স্তরে পাকিস্তানের উপ প্রধানমন্ত্রী তথা বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার এবং অর্থমন্ত্রীর আগমণ ঘটেছিল বাংলাদেশে। এর অর্থ, দুই দেশের সামরিক বোঝাপড়া বা গোপন কোনও চুক্তি হয়েছে বা হতে চলেছে। এই কারণেই পাকিস্তানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সেনাকর্তা, নৌবাহিনীর প্রধানরা পরপর বাংলাদেশে আসছেন।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ ভারতের ‘চিকেন’স নেক’ বা শিলিগুড়ি করিডোরের কাছে নতুন বিমান প্রতিরক্ষা রেডার সিস্টেম স্থাপন করতে উদ্যোগী হয়েছে। জানা গিয়েছে, লালমনিরহাট বিমানঘাঁটিতে পুরনো রেডার সিস্টেম প্রতিস্থাপন করে নতুন একটি স্থাপনা তৈরি করছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী। যে কাজ প্রায় শেষে দিকে। এও জানা যাচ্ছে, ওই স্থাপনা পরিদর্শন করে এসেছেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। এমনকি সেখানে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের কর্তাদেরও দেখা গিয়েছে বলে খবর ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলির কাছে আছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নর্থইস্ট নিউজ বাংলাদেশের নিরাপত্তা সূত্র উদ্ধৃতি করে জানিয়েছে, নতুন রেডার সিস্টেমের যন্ত্রাংশগুলি প্রায় দুই সপ্তাহ আগে বিশাল লালমনিরহাট বিমান ঘাঁটিতে ট্রাকে করে পৌঁছেছে। উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই ইউক্রেনীয় এক পরিবহন বিমান আজারবাইজানের রাজধানী বাকু থেকে উড়ে সরাসরি ঢাকায় অবতরণ করেছিল। বিশাল ওই বিমানটি ১২ ঘণ্টার বেশি সময় ঢাকা বিমানবন্দরে মাল খালাস করে। অনুমান করা হচ্ছে, তাতে করে তুর্কি এই সংক্রান্ত কিছু যন্ত্রপাতি পৌঁছে দিয়েছে বাংলাদেশে। যা এবার বসানো হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ আচমকাই প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়িয়েছে। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার এই মুহূর্তে তুর্কি, পাকিস্তান, চিন এবং জাপানের থেকে প্রতিরক্ষা সামগ্রী, ক্ষেপণাস্ত্র ও যুদ্ধবিমান কেনার তোড়জোড় করছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই সবকিছুই ভারতের কথা মাথায় রেখে কেনা হচ্ছে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ভারত কি করবে? বা ভারত কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে কিনা সেটা নিয়ে কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছে। যেটা জানা যাচ্ছে সেটা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। প্রথমত, ভারত নাকি ইতিমধ্যেই শিলিগুড়ি করিডোর বা চিকেন নেক আরও বড় করতে শুরু করে দিয়েছে। বিভিন্ন সূ্ত্রে জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশের পঞ্চগড়, লালমনিরহাটের একটা বড় অংশের দখল ইতিমধ্যেই নিয়ে নিয়েছে ভারতীয় সেনা এবং বিএসএফ। বাংলাদেশের ভিতরে প্রায় ৬০-৬২ কিলোমিটার ঢুকে গিয়েছে ভারতের নিরাপত্তাবাহিনী। অপরদিকে, শিলিগুড়ি করিডোরকে কেন্দ্র করে তিনটি নতুন সেনছাউনি তৈরি করে ফেলেছে ভারতীয় সেনা। সেগুলি পুরোদমে চালুও করা হয়েছে। একটি অসমের ধুবড়িতে। যা হবে উত্তরপূর্ব ভারতের সর্ববৃহৎ সেনাছাউনি। একটি বিহারের কিসেনগঞ্জ এবং পশ্চিমবঙ্গের চোপড়ায়। এই দুটি শিলিগুড়ি করিডোরের খুব কাছে এবং বাংলাদেশের কৌশলগত এয়ারবেস লালমনিরহাট থেকে একশো কিলোমিটারের কম দূরত্বে অবস্থিত। যদিও প্রথম খবরটি অসমর্থিত, অর্থাৎ ভারত বা বাংলাদেশ কোনও পক্ষই এখনও স্বীকার করেনি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছে ভারতীয় সেনা। আর তিনটি নতুন সেনাছাউনির খবর জানিয়ে দিয়েছে ভারত। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে পাকিস্তান, তুর্কি ও চিনের ক্রমাগত প্রভাব বাড়ায় শিলিগুড়ি করিডোর নিয়ে চিন্তা বাড়ছে ভারতের। তাই এবার এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করে নিতে চাইছে কেন্দ্রীয় সরকার। আর সেটার জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি সারতে সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেই অভিমত। এখন দেখার পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়।
সারজিস আলম নাসিরউদ্দিনরা বিএনপিকে হুমকি দিচ্ছে এক মাঘে শীত যায় না। তারা আবার আন্দোলোন করে বিএনপিকেও আওয়ামীলীগের মত দেশ ছাড়া...
Read more












Discussion about this post