আজ শেখ হাসিনার সাজা ঘোষণা করেছে ট্রাইব্যুনাল। তাঁকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই রায় ঘোষণার প্রায় ২৪ ঘণ্টা আগে হাসিনা পুত্র সজিব ওয়াজেদ জয় একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। এমনকি আলজাজিরাতেও একই বিষয় উঠে আসে। গত ২৯ অক্টোবর রয়টার্সে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। এইবার সেই একই আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিলেন তাঁর পুত্র। তিনি সেখানে বলেন, সশস্ত্র যুদ্ধের ডাক দেবেন। কেন হঠাৎ এমন আভাস তার মুখ থেকে শোনা গেল? এমনকি তিনি বলে দেন, তাঁর মায়ের বিরুদ্ধে কি রায় হবে, সেটা নিয়ে তিনি নিশ্চিত। এমনকি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, যদি এই রায় সরকার আওয়ামী লীগের বিপক্ষে নিয়ে যায়, তবে তাদের দল বাধ্য হবে সহিংসতা করতে।
এখন প্রশ্ন, এই রায় তো শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গেল, আওয়ামী লীগের বিপক্ষে গেল। তবে কি এইবার সহিংসতার পথে হাঁটবেন জয়রা? যখন শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রায় ঘোষিত হয়নি, তার আগেই দেশে থাকা আওয়ামী লীগের একাধিক কর্মকাণ্ড করে জানান দেওয়ার চেষ্টা করেন, তারা এখন রয়েছেন। ঢাকা, বরিশাল মহাসড়কে নিষিদ্ধ ছাত্র লীগের মশাল মিছিল। এরপর সিলিটে মধ্যরাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তাতে কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে যায়। এছাড়া রাতে এক ঘণ্টার মধ্যে সাভার ধামরাইয়ে দুটি বাসে আগুন লাগে। এরমধ্যে রয়টার্স সজীব ওয়াজেদ জয়ের একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে। সেখানে স্পষ্ট করে উল্লেখ করে, যে যদি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা হয়, তবে গোটা দেশজুড়ে সহিংসতা করতে বাধ্য হবে শেখ হাসিনার দল। এমনকি তিনি বলেন, হাসিনা দিল্লিতে নিরাপদে রয়েছেন। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না দিলে সহিংসতার হুশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজিব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, আওয়ামী লীগের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা না হলে সমর্থকরা জাতীয় নির্বাচন বাধা গ্রস্থ করবে। অর্থাৎ নির্বাচন হতে দেবে না তারা। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, বিক্ষোভ সহিংসতায় পরিণত হবে। তিনি আরও বলেন, সম্ভবত শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডই দেওয়া হবে। তখনও শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রায় ঘোষিত হয়নি। আর অদ্ভুদভাবে সেটাই দেখা গেল। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ফলাফল যে আগে থেকেই ঠিক ছিল, সেটা স্পষ্ট। তবে হাসিনা তো ভারতে রয়েছেন। ভারত এখনও বাংলাদেশের অন্তবর্তীকালীন সরকারের হাতে হাসিনাকে তুলে দেয়নি। এমনকি পরবর্তীকালে তুলে হয়তো দেবেও না। তবে এই রায় এসে লাভের লাভ কিছু নেই। তবে এখন দেখার, শেষমেশ বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট কোন দিকে মোড় নেয়!












Discussion about this post