চাইলেই কি কোনও দেশের ইতিহাস মুছে ফেলা যায়? যায় না ঠিকই। কিন্তু সব দেশেই এক অশুভশক্তি চেষ্টা করে ইতিহাস মুছে ফেলে নতুন এক কলঙ্কজনক ইতিহাস তৈরি করতে, যে ইতিহাস তৈরি হয় শুধুমাত্র মিথ্যের ওপর ভর করে। কী কারণে বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল, এই অভ্যুত্থান স্বতঃপ্রণোদিত না কি একটা সাজানো প্লট, তা সকলের জানা হয়ে গিয়েছে। জানা হয়ে গিয়েছে যে এই গণঅভ্যুত্থানের নীল নকশা কোথায় বসে তৈরি করা হয়। কারা সামিল ছিল এই নীলনকশা রচনায়। কিন্তু মিথ্যের ওপর ভর করে তৈরি হওয়া ইতিহাস যে বেশিদিন টেকে না, মিথ্যের আশ্রয়ে ভর করে যার দেশ শাসন করে, তারা বেশিদিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে না। তবুও টিকে থাকার জন্য নতুন নতুন কৌশল খোঁজে। তার জ্বলন্ত প্রমাণ বাংলাদেশ। তদারকি সরকার প্রধান ইউনূস ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য একের পর এক কৌশল রচনা করছেন। আর তাঁর সেই কৌশল ধরা পড়ে যাচ্ছে। নতুন কৌশল হল বিডিআর বিদ্রোহের সঙ্গে হাসিনা এবং ভারতকে জড়িয়ে দেওয়া।
গত রবিবার ২০০৯ সালে বিডিআর বিদ্রোহের নামে সংঘটিত বর্বরতম হত্যাযজ্ঞের ঘটনা তদন্তের জন্য গঠিত জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মহম্মদ ইউনূসের কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। কমিশনের প্রধান মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমান ও অন্য সদস্যরা রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে এই প্রতিবেদন জমা দেন। কমিশনের অন্য সদস্যরা হলেন – মেজর জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার (অব.), ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইদুর রহমান বীর প্রতীক (অব.), মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ যুগ্মসচিব (অব.), ড. এম. আকবর আলী ডিআইজি (অব.), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. শরীফুল ইসলাম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক মো. শাহনেওয়াজ খান চন্দন।
কমিশনের প্রধান এএলএম ফজলুর রহমান বলেন, ‘তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার প্রত্যক্ষভাবে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। জড়িত ভারতও। ওই সময় ভারত থেকে ৯২১ জন বাংলাদেশে এসেছিল। এদের মধ্যে ৬৭ জনের কোনও খবর নেই। ’ কমিশনের ফাইন্ডিংস সম্পর্কে জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার বলেন, এই ঘটনার কিছু বাহ্যিক ও প্রকৃত কারণ বের করেছে কমিশন। তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ড পরিকল্পিত এবং এর পেছনে প্রধান সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করেছে তৎকালীন সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপস।
জাহাঙ্গীর কবির বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের রক্ষা করতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ সরাসরি ভূমিকা পালন করে। কমিশন প্রধান বলেন, পুরো ঘটনাটি সংঘটিত করার ক্ষেত্রে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘গ্রিন সিগন্যাল’ ছিল। তিনি এই ঘটনার দায় নিরূপণের ক্ষেত্রে বলেন, দায় তৎকালীন সরকার প্রধান থেকে শুরু করে সেনাপ্রধানেরও রয়েছে। এই ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে সমাধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুলিশ ও র্যাকব এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোরও রয়েছে চরম ব্যর্থতা। তিনি বলেন, ওই ঘটনার সময় কিছু প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং কয়েকজন সাংবাদিকের ভূমিকা ছিল অপেশাদারসুলভ। যদিও সাউথব্লক থেকে এখনও এই নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। সাউথ ব্লক চুপ করে থাকবে না এই নিয়ে মুখ খুলবে সেটার জন্য আমাদের কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।












Discussion about this post