গত বছর ৫ই অগাস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটেছে। কেউ বলেন গণঅভ্যুত্থানের জেরে, আবার কেউ বলেন আমেরিকার ডিপ স্টেটের খেলা। অন্যদিকে কেউ কেউ বলছেন, জঙ্গি উত্থানে দেশ ছেড়েছিলেন শেখ হাসিনা। যদিও কি কারণে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটেছে, সেটা পরিস্কার হয়ে গিয়েছে। এদিকে ভারতের আশ্রয়ে রয়েছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। যে পরিকল্পনা চলছে হাসিনার দলের অন্দরে তাতে, বাংলাদেশে ফিরলে সিংহের মেজাজে ফিরবে আওয়ামী লীগ। বলছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। তবে কিছু ভুল আওয়ামী লীগ করেছে। যে কারণে তাদের মাত্র কয়েকদিনের আন্দোলনে সরে যেতে হল। যেগুলি অনেকে আলোচনায় নিয়ে এসেছেন।
গত বছরের ৫ই অগাস্ট থেকে এখনও ভারতের আশ্রয়ে হাসিনা। এদিকে তার সরকারের আমলে হওয়া নানা ঘটনার বিষয় সামনে আনা হচ্ছে। কিছুদিন আগেই মানবতাবিরোধী অপরাধের কারণে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শুধুমাত্র শেখ হাসিনা নন, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধেও একই সাজা ঘোষণা করা হয়েছে। এখন প্রশ্ন, ৫ই অগাস্ট কেন তৈরি হল বাংলাদেশে? অনেকে বলছেন, আওয়ামী লীগ আসলে গণঅভ্যুত্থানে নয়, সোশ্যাল মিডিয়ার কাছে পরাজিত হয়েছে। তারা সোশ্যাল মিডিয়াকে ঠিক মতো ব্যবহার করতে পারেনি। যেভাবে আওয়ামী লীগ এবং শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গুজব ছড়ানো হয়েছে, তাতে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন শেখ হাসিনা রাশ টানতে পারেননি। এখনও বলা হচ্ছে, আওয়ামী লীগ দেশে ফিরবে। তবে সেটা দেরী হবে। এর কারণ হিসাবেও বলা হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়াকে ঠিকমতো ব্যবহার না করা। এই মুহূর্তে আওয়ামী লীগের সোশ্যাল মিডিয়া পেজে নানা রকম গুজব খবর শেয়ার করা হয়। যেগুলির কোনও ভিত্তি নেই। এতে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের কাছে একটি ভুল বার্তা যাচ্ছে। কোনও বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি হচ্ছে না। শুধুমাত্র তাই নয়, সজীব ওয়াজেদ জয়ের ফেসবুক পেজেও দেখা যাচ্ছে, নানা গুজব খবর পোস্ট করা হচ্ছে। তবে এই সমস্ত পোস্ট যে জয় নিজেই করছেন তা নয়। অ্যাডমীনরা যে যে পোস্ট করছেন, তাতে সাধারণ মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা হারাবে আওয়ামী লীগ। কেউ কেউ বলছেন, সোশ্যাল মিডিয়াতে তেমন কোনও অর্থ ব্যয় করে না আওয়ামী লীগ। তবে এটা ঠিক, শেখ হাসিনা যতবার সোশ্যাল মিডিয়াতে নিজের দেশে ফেরার বার্তা অডিও মাধ্যমে রেখেছেন, দ্রুততার সঙ্গে সেই অডিও বার্তা পোঁছে গিয়েছে বাংলাদেশের মানুষের কাছে। যে কারণে এখন অন্তবর্তীকালীন সরকার দেশের সমস্ত সংবাদমাধ্যমকে কড়া নির্দেশ দিয়েছে, শেখ হাসিনা সম্পর্কিত কোনও খবর করা যাবে না। অর্থাৎ সাধারণ মানুষের কাছে দ্রুত পৌঁছে যাচ্ছে বলেই এই কড়া নির্দেশ অন্তবর্তী সরকারের তরফে। তবে যেভাবে দেশে, বিদেশে আওয়ামী লীগের সমর্থক ছড়িয়ে রয়েছে, তাতে সোশ্যাল মিডিয়াকে কাজে লাগালে দেশে ফেরার রাস্তা অনেক আগে প্রশস্ত হয়ে যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে এটি নিয়ে দ্বিমতও রয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন, যেহেতে বাংলাদেশে নির্বাচন আসন্ন। এদিকে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা রয়েছে। তাই এই মুহুর্তে আওয়ামী লীগকে পা ফেলতে হবে সন্তর্পণে। তবেই দেশে ফেরার রাস্তা অনেক বেশি সহজ হবে। তবে যাই হোক, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে ফিরবে, আরও শক্তি বাড়িয়ে ফিরবে, তার সঙ্গে কোনও দ্বিমত নেই বিশেষজ্ঞদের।












Discussion about this post