কোন মাঠে খেলা হবে, তার ঠিক নেই। টস তো পরের কথা। এদিকে, বাংলাদেশ গ্লাভস আর প্যাড পরে মাঠে নামার জন্য তৈরি।
অলরাউন্ডার শাকিবকে নিয়ে বিসিবি (বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড) যা করল, সেটা অনেকটা তেমনই। ইতিমধ্যে বিশ্ব জেনে গিয়েছে যে তারা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ‘বয়কট’ করেছে। তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করতে চলেছে ২২ গজের ম্যাচ রেফারি আইসিসি (ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল)। আগামীদিনে বাংলাদেশ মাঠে নামতে পারবে কি না, সেটা লাখ টাকার প্রশ্ন। এক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বিসিবিবিতে রীতিমতো হুলুস্থুলু কাণ্ড। বোর্ডের পরিচালকের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন ইশতিয়াক সাদেক। এই অবস্থায় বিসিবি শাকিব আল হাসানকে স্কোয়াডে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিসিবি জানিয়েছে, অ্যাভেইলিবিলিটি, ফিটনেস ও ভেন্যুতে উপস্থিতির সক্ষমতা থাকলে শাকিব জাতীয় দলে বিবেচিত হবেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর হত্যা ও দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত হয়ে দেশে ফিরতে না পারলেও বোর্ড তাঁকে দলে চায়। তাঁর জাতীয় দলে খেলার বিষয়গুলো নিয়ে সরকারের সঙ্গে কথা বলতে বোর্ড সভাপতি আমিনুলকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বোর্ডের ডিরেক্টর আমজাদ হোসেন জানিয়েছেন, “আপনারা অনেকেই ইতোপূর্বে সাকিব আল হাসানকে নিয়ে অনেক প্রশ্ন করেছিলেন, অনেক ধরনের প্রশ্ন, আলোচনা বা অনেক উত্তর খুঁজতে চেয়েছেন, আপনাদেরকে অবগত করতে চাই, আমাদের বোর্ডে এ ব্যাপারে আলোচনা করা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “সর্বোসম্মতিক্রমে বোর্ড গ্রহণ করেছে যে, শাকিব আল হাসানের অ্যাভেইলঅ্যাবিলিটি, ফিটনেস এবং অ্যাকসেসিবিলিটির ওপর ভিত্তি করে এবং ভেন্যুতে উপস্থিত থাকার মতো ক্যাপাসিটি থাকে, অবশ্যই বোর্ড বা নির্বাচক কমিটি শাকিবকে পরবর্তীতে নির্বাচনের জন্য বিবেচিত করবে।”
২০২৪-য়ের ৫ অগাস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর ওই সরকারের সংসদ সদস্য শাকিব দেশে ফিরতে পারেননি। ওই বছর অক্টোবরে দেশের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট খেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে তাঁর অবসর নেওয়ার কথা ছিল। ম্যাচ খেলার জন্য দেশের পথে রওনা দিলেও মাঝপথে তাকে থমকে যেতে হয়। সেই থেকে শাকিবের ক্যারিয়ার অনিশ্চয়তায় দুলছিল। পরবর্তী সময়ে
শাকিবের ফেরার সম্ভাব্যতা নিয়ে নানা সময়েই বিসিবির কাছে নানা প্রশ্ন করা হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই আলোচনা ছিল না একদমই। কিন্তু এমন এক দিনে এই অলরাউন্ডারকে নিয়ে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হলো, যেদিন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে নেওয়ার কথা জানিয়েছে আইসিসি, যেদিন বিসিবি পরিচালকের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন প্রভাবশালী বোর্ড পরিচালক ইশতিয়াক সাদেক এবং যখন দেশের ক্রিকেটের অবস্থা টালমাটাল।
স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠল সংবাদ সম্মেলনে, সবকিছু আড়াল করতেই কি শাকিবের প্রসঙ্গটি জাগিয়ে তুলতে এই দিনটি বেছে নেওয়া হলো? বিসিবি পরিচালক আমজাদের দাবি অবশ্য ভিন্ন। তাঁর মতে, ‘‘এটা আমাদের বোর্ডের সিদ্ধান্ত। এটা আসলে আজকের মিটিংয়ে হবে নাকি কবে মিটিংয়ে হবে, এভাবে তো আসলে আপনার বোধহয় জবাবদিহিতার মধ্যে আনা ঠিক না। কারণ বোর্ডের এজেন্ডার মধ্যে থাকে… আজকে আমাদের কেন্দ্রীয় চুক্তির সব ক্রিকেটারের পারফরম্যান্স ও অ্যাভেলইঅ্যাবিলিটি নিয়ে রিভিউ করা হয়েছে। ওখান থেকে আমাদের আলোচনাটা এসেছে, টু বি ভেরি স্পেসিফিক।’’
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ডিরেক্টর আসিফ আকবর জানিয়েছেন, ক্রিকেট অপারেশন্স সংক্রান্ত আলোচনার সময় চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়দের তালিকা ও গ্রেডিং নিয়ে কথা বলতে গিয়েই শাকিবের প্রসঙ্গ উঠে আসে। অন্যতম এক পরিচালক জানান, শাকিব খেলতে আগ্রহী এবং বোর্ডের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়েছে। বিষয়টি সভাপতিকে অবহিত করা হয়, যাতে প্রয়োজনীয় সরকারি যোগাযোগ করা যায়। তিনি আরও বলেন, শাকিবের ব্যক্তিগত ও আইনি বিষয়ে সরকারের এক্তিয়ারভুক্ত। বোর্ডের দৃষ্টিতে তাকে আবার দলে পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। শাকিব আল হাসান একজন ব্যতিক্রমী ক্রিকেটার। সেই সঙ্গে একটি ব্র্যান্ড। এই ধরনের খেলোয়াড়কে ভবিষ্যতে পাওয়া কঠিন।
এদিকে, শাকিবের প্রত্যাবর্তন নিয়ে মুখ খুলেছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের প্রাক্তন অধিনায়ক আমিনুল হক। এক প্রশ্নের উত্তরে আমিনুল বলেন, এটা স্টান্টবাজি। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘শাকিবের বিষয়টা সিদ্ধান্ত নিবে রাষ্ট্র। রাষ্ট্রের আইন। সে রাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী শাকিব যদি নিরাপরাধ হয়, তাঁর যদি… কোনও মামলা গুলো রয়েছে, সেগুলি যদি প্রত্যাহার করা হয় রাষ্ট্রীয়ভাবে, তাহলে শাকিব আসবে। সেখানে কারও কোনও সমস্যা নেই। এবং আমি একজন ক্রীড়াবিদ হিসেবে অবশ্যই একজন খেলোয়াড়ের যে সম্মান… তাকে সম্মান দিতে চাই এবং শাকিবের মতো একজন লিজেন্ডারি ক্রিকেটার বাংলাদেশের হয়ে খেলবে, এটা আমরাও চাই।












Discussion about this post