একটি সিদ্ধান্ত। একটা মন্তব্য।
একটি সিদ্ধান্ত ২২ গজের ইতিহাসে চিরকালের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে। একটি সিদ্ধান্ত যে সিদ্ধান্ত একটি দেশের খেলোয়াড়সুলভ মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। একটি সিদ্ধান্ত, যার যৌক্তিকতা নিয়ে হাজার প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।
আর একজনের একটি মন্তব্য, সে মন্তব্য সে দেশের ২২ গজের পিচ থেকে শুরু করে জাতীয় রাজনীতিতে জন্ম দিয়েছে এক অভূতপূর্ব বিতর্কের। আসন্ন টি টোয়েন্ট বিশ্বকাপে খেলছে না বাংলাদেশ। এর পিছনে যে কারণ দেখানো হয়েছে, তা অত্যন্ত হাস্যকর। বলা হয়েছে ভারতের ভ্যেনু তাদের কাছে একেবারেই নিরাপদ নয়। তাই, তাদের ম্যাচ দেওয়া হোক শ্রীলঙ্কায়। ২২ গজে নামতে তাদের আপত্তি নেই। কিন্তু ভারতের মাটিতে তারা খেলতে নারাজ। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড তাদের আপত্তির কথা আইসিসিকে জানিয়ে ছিল। আইসিসি জানিয়ে দেয়, খেলতে হলে তাদের ভারতের মাটিতেই খেলতে হবে। তাদের জন্য অন্য কোনও বিকল্প ব্যবস্থা করা সম্ভব হচ্ছে না।
বাংলাদেশের দাবি মেনে আইসিসি কোনও পদক্ষেপ করলে আগামীদিনে তাদের দেখাদেখি অন্য রাজনৈতিকদলও একই দাবি তুলবে। সে ক্ষেত্রে কোনওকালেই কোনও টুর্নামেন্ট আইসিসি আয়োজন করতে পারবে না। বাংলাদেশের এই হঠকারী সিদ্ধান্ত ক্রিকেটের ইতিহাসে কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। শুধুমাত্র রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ঢাকা ক্রিকেটের সঙ্গে রাজনীতিকে জড়িয়ে দিল। আর সে কারণে তাদের নানা প্রান্ত থেকে শুনতে হচ্ছে সমালোচনা। এই সিদ্ধান্ত একটি টুর্নামেন্ট বয়কট নয়। এই সিদ্ধান্ত ক্রিকেটের ইতিহাসে একটি বেদনাদায়ক, যন্ত্রণাদায়ক অধ্যায় বলা যেতে পারে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট দল বুঝতে পেরেছে, তাদের বোর্ড কতবড়ো ভুল সিদ্ধান্ত নিল। শুধুমাত্র পাকিস্তান প্রীতি দেখাতে গিয়ে আন্তর্জাতিক দুনিয়ায় তারা কার্যত এক ঘরে হয়ে গেল। এদিকে আবার বিসিবি অপসারিত কর্তা নাজমুলকে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাতে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও চওড়া হয়েছে। আইপিএল থেকে মুস্তাফিজ়ুর রহমানের বাদ পড়া এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে চলা জল্পনার মধ্যে বাংলাদেশের প্রাক্তন অধিনায়ক তামিম ইকবালকে ভারতের দালাল বলে প্রথমে বিতর্কে জড়ান নাজমুল। তার পর বিশ্বকাপ খেলতে না গেলে ক্রিকেটারদের বিসিবি ক্ষতিপূরণ দেবে কি না, এই প্রশ্নের উত্তরে নাজমুল বলেছিলেন, ‘‘ওরা গিয়ে কিছুই করতে পারে না। তা-ও আমরা ওদের জন্য কোটি কোটি টাকা খরচ করি। আমরা কি ওদের কাছে টাকা ফেরত চাই?’’ তাঁর এই মন্তব্য আগুনে ঘৃতাহুতি দেয়। প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত, রিশাদ হোসেন, লিটন দাসেরা। স্বভাবতই বিসিবি কর্তাদের এই সিদ্ধান্ত নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে সুষ্ঠু ভাবে বিপিএল শেষ করার স্বার্থেই কি অপসারিত করা হয়েছিল তাঁকে? সব মিটে যেতেই ক্রিকেটারদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভুলে গেলেন আমিনুলেরা? ক্রিকেটারদের সঙ্গে প্রতারণা করলেন তাঁরা? বিসিবি নাজমুলকে পুরনো পদে ফিরিয়ে নেওয়ায় বিস্মিত বাংলাদেশের ক্রিকেটমহলের একাংশ।
উল্লেখ্য, শনিবার বিসিবির বোর্ডের বৈঠকে নাজমুলকে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন এই খবর জানান। তার পরেই আবার নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেটে। এদিকে, বাংলাদেশের দেখাদেখি পাকিস্তানও না খেলার হুমকি দিয়ে বসেছে। দল ঘোষণার পর পিসিবি প্রধান মহসিন নকভি সাফ জানিয়ে দেন যে পাক বোর্ড তাদের অবস্থান বদল করেনি। লাহোরে হেডকোচ মাইক হেসেনের সঙ্গে আলাপচারিতায় নকভি বলেন, ‘‘সরকারের নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছি। সরকার যা বলবে, আমরা সেটাই করব। সরকার যদি বিশ্বকাপে না যাওয়ার কথা বলে আমরা সেটাই মেনে নেব। ’’












Discussion about this post