২০২৪ ছাএদের বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপান্তরিত হয়। ৫ই আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। এরপর গঠিত হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। যার মাথায় বসেন নোবেল জয়ী মহম্মদ ইউনূস। মনে করা হয়েছিল, এইবার হয়তো দেশ শান্ত হবে। দেশে বৈষম্য ঘুচবে। কিন্তু পরে দেখা গেল, সেটা বেড়েছে। এমনকি নজির গড়ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এইবার সামনে এল অন্তর্বর্তী সরকারের একটি সিদ্ধান্ত। এখানে বলে রাখা ভালো, যে সরকারের মেয়াদ আছে আর মাত্র ১৫ থেকে ১৭ দিন। বর্তমানে বাংলাদেশে মন্ত্রীদের জন্য বিশাল বাংলো থাকা সত্বেও সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তত ৭২ টি নতুন ফ্ল্যাট তৈরি করবে। যেগুলি অবশ্যই বিলাসবহুল। এক একটি ফ্ল্যাটের দৈঘ্য হবে ৯ হাজার বর্গ ফুটের বেশি। এখানেই প্রশ্ন উঠছে, যে সরকার তৈরি হয়েছিল বৈষম্য দূর করতে, সেই সরকার নিজেই এখন বৈষম্য তৈরি করছে। আদেও কি বৈষম্য মুক্ত বাংলাদেশ তৈরি হল? মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের একটি সিদ্ধান্তে ফের দুর্নীতির গন্ধ!
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বলেছিল, নতুন বাংলাদেশ গড়ব আমরা। বৈষম্য থাকবে না, থাকবে না বিভেদ। সংস্কার কখনো আমরা। কিন্তু ১৬ থেকে ১৭ মাসেই বেরিয়ে এল এই সরকারের আসল চেহারা। ঢাকার মন্ত্রিপাড়ায় তিনটি ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই সব ভবনে থাকবে ৭২টি ফ্ল্যাট, যার আয়তন হবে ৮ হাজার ৫০০ থেকে ৯ হাজার ৩০ বর্গফুট। এ জন্য নেওয়া হচ্ছে ৭৮৬ কোটি টাকার একটি প্রকল্প। রাজধানীর বেইলি রোড, মিন্টো রোড ও হেয়ার রোড মন্ত্রিপাড়া হিসাবে পরিচিত। জানা যাচ্ছে, নতুন তিনটি ভবন তৈরি হবে বেইলি রোড এবং মিন্টো রোডে। তবে এখনকার তথ্য অনুযায়ী, মন্ত্রী পাড়ায় মন্ত্রীদের জন্য বাংলো বাড়ি রয়েছে ১৫টি। সর্বমোট মন্ত্রীদের জন্য ঢাকায় ৭১ টি বাংলোবাড়ি রয়েছে। মন্ত্রীপাড়া ছাড়াও গুলশান ও ধানমন্ডিতে মন্ত্রীদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা রয়েছে। সূত্র জানাচ্ছে, নতুন ফ্ল্যাট নির্মাণের প্রকল্প নিতে বেশি আগ্রহ আমলারা। মন্ত্রীদের নতুন ভবনে ফ্ল্যাট দেওয়া গেলে এখনকার বড় বড় ফ্ল্যাটে উঠতে পারবেন আমলারা। তথ্য অনুসারে, মন্ত্রীপাড়ায় হবে নতুন তিন ভবন। যেগুলির খরচ ৭৮৬ কোটি টাকা। তিনটি ভবনের ছাদে থাকবে সুইমিংপুল। সরঞ্জাম কিনতে বরাদ্দ ৩ কোটি টাকা। ফ্ল্যাটের আকার হবে ৮ হাজার ৫০০ ও ৯ হাজার ৩০ বর্গফুট করে। ফ্ল্যাটের আসবাব ও পর্দা কিনতে বরাদ্দ করা হয়েছে ২০ কোটি টাকা। এখন প্রশ্ন উঠছে, যে ৭১ থেকে ৭২ টি ফ্ল্যাট রয়েছে, সেগুলি কি হবে? তবে কি সেগুলি সরকারের প্রেস উইং থেকে এই ধরনের যারা যারা থাকে তাদের দেওয়া হবে? সরকারের কোষাগারে নাকি ভাড়ার টান! তাহলে এত টাকা আসছে কোথা থেকে। সর্বোপরি এই সরকারের মেয়াদ মাত্র আর ১৫ দিন। সেখানে এত বড় সিদ্ধান্ত নেয় কি করে সরকার? কারণ বর্তমান সরকার এই ধরনের সিদ্ধান্ত নিলে বিপদে পড়বে পরবর্তী সরকার। যারা ক্ষমতায় আসবে ঠিক ১৫ দিন পর। এখন দেখার, শেষমেষ কি হয়! এক্ষেত্রে কি রাজনৈতিক দলগুলো আওয়াজ তুলবে? নাকি তারা নীরবই থেকে যাবে?
গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর অন্তবর্তী সরকার ক্ষমতায় আসে। মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে সরকার গঠন হয়।...
Read more












Discussion about this post