প্রতিবেদনের সূত্রে হ-য-ব-র-ল-য়ের কাকেশ্বর কুচকুচের অদ্ভুত হিসেবের কথা উল্লেখ করতে হয়। সাত দুগুণে চোদ্দ হয়, সেটা সবাই জানে। কিন্তু কাকটার জবাব ছিল “সাত দুগুণে চোদ্দোর নামে চার, হাতে রইল পেন্সিল।”
আমি বললাম “তবে যে বলেছিলে সাত দুগুনে চোদ্দ হয় না ? এখন কেন?”
সেটা শুনে কাকেশ্বর কুচকুচে বলে, “তুমি যখন বলেছিলে, তখনো পুরো চোদ্দো হয় নি। তখন ছিল, তেরো টাকা চোদ্দো আনা তিন পাই। আমি যদি ঠিক সময় বুঝে ধাঁ করে ১৪ লিখে না ফেলতাম, তা হলে এতক্ষণে হয়ে যেত চোদ্দো টাকা এক আনা নয় পাই।”
এমন আনাড়ি কথার কোনও মানে আছে? সবাই জানে এর কোনও মানে নেই। বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পদ্মাপারে যা চলছে সেটা ওই রকম সব আনাড়ি কর্মকাণ্ড। সেনা প্রধান ওয়াকার থেকে শুরু করে তদারকি সরকার প্রধান ইউনূস এবং তাঁর সভাসদদের একের পর এক কর্মকাণ্ড তার জ্বলন্ত প্রমাণ। সেনা প্রধান ওয়াকার কিছুদিন আগে নিজের মুখে জানিয়ে ছিলেন, ভোটের সময় বাহিনী নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে। যারাই অপরাধ করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে। কারও রঙ দেখা হবে না। ক্যান্টনমেন্টে হয়েছে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বাহিনীর পদস্থকর্তারা। ভোটের দিন তাদের দায়িত্ব কী হবে, সেটা খুব পরিষ্কার করে বুঝিয়ে দেন। ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় বাহিনীর একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সেই ভিডিওতে দেশবাসীকে তাদের নাগরিক অধিকার প্রয়োগের জন্য আর্জি জানানো হয়েছে। দেশবাসীর আস্থা অর্জনের জন্য স্থলসেনা প্রধান নিজে মাঠে নেমেছেন। ভোট-পূর্ব পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে ক্যান্টনমেন্টে একটি জরুরী বৈঠক ডাকেন সেনাপ্রধান ওয়াকার। আইএসপিআর-য়ের তরফে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সেখানে লেখা হয়েছে “ আসন্ন নির্বাচনকে সকলের জন্য অংশগ্রহণমূলক, শঙ্কামুক্ত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সশস্ত্র বাহিনীকে পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা এবং আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। ”
কাকেশ্বর কুচকুচের কথা উল্লেখ করার কারণ এই প্রেস বিবৃতি। বলা হয়েছে সকলের জন্য অংশগ্রহণমূলক। এই নির্বাচনে সবাই অংশগ্রহণ করছে কি? আওয়ামী লীগ নেই। কারণ দলটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। দলের প্রতীক ফ্রিজড করা হয়েছে। তাহলে আসন্ন নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হচ্ছে কোথা থেকে? তদারকি সরকার প্রধান কি এটা বোঝাতে চাইছেন যে ভোটাররা বুথে গেলেই ভোট অংশগ্রহণমূলক হয়ে যাবে? আওয়ামী লীগের তরফ থেকে দলের কর্মীদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ভোটের দিন তারা যে বুথে না যায়।
এদিকে, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূর জাহান বেগম অদ্ভুত একটি প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রের পাশে তিনি একটি মেলার আয়োজন করার পরামর্শ দিয়েছেন। সামাজিক য়োগাযোগ মাধ্যমে নূর জাহান রীতিমতো ট্রোলড। অনেকে বলছেন, তদারকি সরকার প্রধান যে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেওয়ার কথা বলছেন, তাহলে সেটাই এই। এমন আনাড়ি কথা কেউ কোনও কালে শুনেছে?
এদিকে, ভোটের মুখে তদারকি সরকার আরও একটি স্টান্টবাজি দেখালেন। বাংলাদেশের আইন মন্ত্রক একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে, সে দেশের রাষ্ট্রপতি ২৫ জানুয়ারি ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছেন। গত ১৫ জানুয়ারি ইউনূসের নেতৃত্বে উপদেষ্টা পরিষদের একটি বৈঠক হয়। সেখানে এই অধ্যাদেশের খসড়ায় অনুমোদন দেওয়া হয়। অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, গণআন্দোলনে যোগ দেওয়ার কারণে কারও বিরুদ্ধে কোনও মামলা করা হয়ে থাকলে পাবলিক প্রসিকিউটর বা সরকারি আইনজীবী আদালতে আবেদন করবেন। ওই আবেদনের পরে আদালতে সেই মামলা নিয়ে আর এগোনো হবে না। মামলা প্রত্যাহার হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হবে। অভিযুক্ত সঙ্গে সঙ্গে অব্যাহতি বা খালাস পাবেন।
গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর অন্তবর্তী সরকার ক্ষমতায় আসে। মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে সরকার গঠন হয়।...
Read more












Discussion about this post