হাতে আর মাত্র কয়েকদিন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। হাসিনা সরকারের পতনের পর এটাই প্রথম ভোট। ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই উত্তেজনার পারদ ততই চড়ছে। এবারের নির্বাচন আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে। ভোটের দিন কর্মীদের কী দায়িত্ব হবে, সেটা দলনেত্রী জানিয়ে দিয়েছেন। তদারকির সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছে, ভোট হবে একেবারে উৎসবমুখর পরিবেশে। দেশের প্রতিটি নাগরিক যাতে তাদের সংবিধান প্রদত্ত অধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সেটা সরকার নিশ্চিত করবে।
ভোট নিয়ে সেনাবাহিনীতেও চূড়ান্ত ব্যস্ততা। আসন্ন নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হওয়াটা অনেকটাই নির্ভর করছে বাহিনীর ওপর। সেনাপ্রধান ওয়াকার ইতিমধ্যে তাঁর ইউনিটের সঙ্গে দু’ দফায় বৈঠক করেছেন। বৈঠক থেকে দিয়েছেন কড়া বার্তা। বৈঠক হয় গত ২২ জানুয়ারি, চট্টগ্রামে। সেখানকার সার্কিট হাউজে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট শীর্ষক একটি আলোচনাসভায় বক্তব্য রাখছিলেন সেনাপ্রধান ওয়াকার। সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন, সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আহসান হাবিব পলাশ, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির খান। এছাড়াও সভায় ছিলেন তিন পার্বত্য জেলার জেলা প্রশাসনের পদস্থকর্তারা। চট্টগ্রামের পাশাপাশি কুমিল্লাতেও বেসামরিক প্রশাসনের সঙ্গে মত বিনিময় করে সেনাপ্রধান ওয়াকার।
সভায় সেনাপ্রধান বলেন, আসন্ন ভোটকে ঘিরে জাতির মধ্যে একটা প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। যে কোনও মূল্যে এই ভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে হবে। তদারকি সরকারকে সেনাবাহিনী সর্বতোভাবে সাহায্য করবে। তিনি দায়িত্বপালনে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। সেই সঙ্গে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সব দফতরের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় ও কার্যকর কো-অর্ডিনেশনর মাধ্যমে কাজ করার জন্য নির্দেশ দেন। ওই সভায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬-য়ের চট্টগ্রাম জেলার সার্বিক প্রস্তুতি ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন। সেনাপ্রধান চট্টগ্রামের সার্বিক নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিকমহলের একাংশ মনে করছে, বিশেষ একটি গোষ্ঠী আসন্ন নির্বাচন বানচাল করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। সেই খবর সেনা প্রধান ওয়াকারের কাছে পৌঁছে গিয়েছে। ভোট বানচাল হলে তদারকি সরকার প্রধান ইউনূস যে আরও কিছুদিন ক্ষমতায় থেকে যাবেন, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। প্রশ্ন উঠছে, ওয়াকার কেন এত সক্রিয় হয়ে উঠলেন?
এর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলা হচ্ছে, গত জুলাই-অগাষ্ট অভ্যুত্থানের পর থেকে বাহিনীর ভাবমূর্তিতে কালি লেগেছে। আগে সেনাবাহিনীকে দেশবাসী শ্রদ্ধার চোখে দেখতো। কিন্তু বাহিনীর কিছু কার্যকলাপ তাদের গরিমাকে ভুলুণ্ঠিত করেছে। আর এর জন্য ওয়াকার ভীষণভাবে দায়ী। তাই, এই নির্বাচন বাহিনীর কাছে লিটমাস্ট টেস্ট। তবে প্রশ্ন উঠছে, সেনাপ্রধান ওয়াকার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তিনি সেই প্রতিশ্রুতি রাখতে পারবেন না?
আর একটা প্রশ্ন কিন্তু ইতিমধ্যে ঘোরাঘুরি করছে। সেটা হল ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন নাও হতে পারে। ভোট-পূর্ব পরিস্থিতি এমন একটা ভয়ংকর জায়গায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হবে, যাতে তদারকি সরকার প্রধান বাধ্য হয়ে নির্বাচন বাতিল ঘোষণা করবেন। সব মিলিয়ে একথা বলা যেতে পারে, ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, তখন বাংলাদেশে উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করেছে।












Discussion about this post