নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ভারতে আসন্ন টি –টোয়েন্টি ম্যাচ খেলতে অস্বীকার করেছে বাংলাদেশ। আর এই নিয়ে আইসিসির সঙ্গে তাদের কম বাগবিতণ্ডা হয়নি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় আইসিসি তাদের বাদ দিয়ে টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে চলেছে। গত তিন সপ্তাহ ধরে চলে টালবাহানা। তাদের বিকল্প হিসেবে আইসিসি স্কটল্যান্ডকে খেলার সুযোগ করে দিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশকে নিয়ে বিতর্ক যে কিছুতেই থামছে না। এবার আরও কড়া পদক্ষেপ করল আইসিসি। নিন্দুকেরা বলছে, আইসিসি বাংলাদেশের মঙ্গলের জন্য করেছে। কী করেছে আইসিসি?
সে দেশের অন্তত ১৫০ জন সাংবাদিককে বিশ্বকাপের ম্যাচ কভার করার অনুমতি দেয়নি আইসিসি। তাঁদের কার্ড বাতিল করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে বাংলাদেশের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের একটি বিবৃতি উল্লেখ করা যেতে পারে। তদারকি সরকারের এই উপদেষ্টা বলেছিলেন, “কী করে বুঝব যে আমাদের ক্রিকেটার, সাংবাদিক, দর্শক সকলকে পর্যাপ্ত সুরক্ষা দেওয়া হবে? একবারও ভারতের তরফে বলা হয়নি যে বাংলাদেশের নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ডের মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন জানিয়েছেন, “ এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য বাংলাদেশের ১৩০ থেকে ১৫০ জন সাংবাদিক অ্যাক্রিডিটেশনের জন্য আবেদন করেছিলেন। তবে একজনও নাকি অনুমোদন পাননি। তিনি আরও জানান, যে চিত্রসাংবাদিকরা আগে (২০ ও ২১ জানুয়ারি) অ্যাক্রিডিটেশন পেয়েছিলেন, সেগুলিও নাকি বাতিল করা হয়েছে। ” আইসিসি-র তরফে জানানো হয়েছে যেহেতু বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে না, তাই তাদের কোনও ক্রীড়া সাংবাদিকদের টুর্নামেন্ট কভার করার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে, যে সব সাংবাদিকদের আগে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল তাঁদের অনুমতিও বাতিল করা হয়েছে।
বাংলাদেশের অন্যতম বিশিষ্ট সাংবাদিক মীর ফরিদ বলেন,“আইসিসি গত ২০ জানুয়ারি ই-মেল মারফত আমাকে অনুমতি দিয়েছিল। সেখানে ভিসা সংক্রান্ত অনুমতিও ছিল। কিন্তু ২৬ জানুয়ারি আরও একটা ই-মেল করে সেই অনুমতি বাতিল করা হয়েছে। ” বাংলাদেশ আইসিসি প্রতিযোগিতায় ১৯৯৯ সাল থেকে খেলছে। কিন্তু সেখানকার সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা তারও অনেক আগে থেকে বিশ্বকাপের মতো প্রতিযোগিতায় থেকেছেন। ১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপ থেকে প্রতিটি আইসিসি প্রতিযোগিতায় গিয়েছেন বাংলাদেশের একাধিক সাংবাদিক। বাংলাদেশের ক্রীড়া সাংবাদিকদের দাবি, এমন ঘটনা আগে কোনওদিন ঘটেনি। সাংবাদিকরা ১৯৯৬ -য়ের বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে থেকে শুরু করে আইসিসি-র প্রায় সব বড় টুর্নামেন্ট কভার করেছেন। এমনকি বাংলাদেশ আইসিসি-র পূর্ণ সদস্য হওয়ার আগেও এই জাতীয় সমস্যার মুখে পড়তে হয়নি।
বাংলাদেশের ক্রীড়া সাংবাদিকদদের সংগঠনের সভাপতি আরিফুর রহমান বাবু বলেন, “যদি দল নাও খেলে তা হলেও আইসিসির পূর্ণ সদস্য ও সহযোগী সদস্য দেশের সাংবাদিকদের অনুমতি দেওয়া হয়। কেন আমাদের অনুমতি দেওয়া হল না সেটাই বুঝতে পারছি না। আমি অবাক হচ্ছি। এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ করছি। ” তিনি জানিয়েছে, ক্রীড়া সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।”
প্রশ্ন একটাই। যদি নিরাপত্তার কারণে বাংলাদেশ তাদের ক্রিকেটারদের ভারতে পাঠাতে না চায়, তাহলে কোন যুক্তিতে তারা তাদের দেশের সাংবাদিকদের ভারতে পাঠাতে চাইছে? তাদের দেশের সাংবাদিকদের কেন বিপদের মুখ ঠেলে দিতে চাইছে? আইসিসির পদক্ষেপ তো বাংলাদেশের সাংবাদিকদের মঙ্গলের জন্যই। তাই না। আইসিসির এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ক্রীড়াঙ্গনে বেশ কিছুদি ধরে চর্চা চলবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। এদিকে, এদিনের আরও একটি খবরে জানা গিয়েছে, পাকিস্তান যদি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিলে বাংলাদেশের একটা খেলার সুযোগ রয়েছে। আইসিসির এক আধিকারিক জানিয়েছেন, পাকিস্তান রয়েছে গ্রুপ এ তে। পাকিস্তান নাম তুলে নিলে বাংলাদেশ আরও একবার সুযোগ পেতে পারে।












Discussion about this post